তেঁতুলিয়া নদীতে এখন ধরা পড়ছে বড় আকারের রুপালি ইলিশ। জেলেদের জালে একের পর এক উঠছে ১ কেজি বা তার বেশি ওজনের মাছ। নদীকেন্দ্রিক জীবন-জীবিকা ও ঐতিহ্যের সঙ্গে ইলিশের গভীর সম্পর্ক থাকলেও সেই বড় ইলিশের স্বাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বাউফলের সাধারণ মানুষ।
বাজার ও আড়তে ইলিশের সরবরাহ থাকলেও বড় আকারের মাছের অধিকাংশই স্থানীয় বাজারে বিক্রি না করে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার মোকামে। ফলে নদীর কাছাকাছি বসবাস করেও বড় ইলিশ কিনতে পারছেন না স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষ।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাউফলের ঐতিহ্যবাহী কালাইয়া হাটসহ বিভিন্ন মাছের বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। জেলেদের কাছ থেকে আড়তদাররা বড় ইলিশ কিনে বরফ দিয়ে সংরক্ষণ করছেন। পরে এসব মাছ পাঠানো হচ্ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাজারে।
কালাইয়া বন্দরের অপর্ণা মৎস্য আড়তে ১ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের একটি ইলিশ দেখে কিনতে আগ্রহী হন স্থানীয় বাসিন্দা হাসান সিকদার। তবে আড়তের ব্যবসায়ীরা তাকে জানান, মাছটি স্থানীয়ভাবে বিক্রি করা হবে না; ঢাকায় পাঠানো হবে।
মাছটির দাম জানতে চাইলে আড়ত থেকে জানানো হয়, প্রতি কেজি ২ হাজার ৯০০ টাকা দরে মাছটি কেনা হয়েছে। এ দামে মাছটি কিনতে না পারায় হতাশা প্রকাশ করেন হাসান সিকদার।
তিনি বলেন, ‘আমাদের এলাকার নদীতে ইলিশ ধরা পড়ছে, অথচ বড় ইলিশগুলো এখানকার মানুষ কিনতে পারছে না। ব্যবসায়ীরা বাইরে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। বাজারে মাছ থাকলেও আমরা সাধারণ মানুষ কিনতে পারছি না।’
স্থানীয়দের ভাষ্য, তেঁতুলিয়া নদীতে ধরা পড়া ইলিশ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের খাবারের চাহিদা পূরণ করছে। অথচ নদীর পাড়ের মানুষের অনেকের কাছেই বড় ইলিশ এখন বিলাসী খাবারে পরিণত হয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় বড় আকারের ইলিশের চাহিদা বেশি। এ কারণে পাইকাররা বাউফলের বাজার থেকে বড় মাছ কিনে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার মোকামে পাঠিয়ে দেন। পরে পরিবহন, বরফ ও অন্যান্য খরচ যুক্ত হওয়ায় দূরের বাজারে গিয়ে এসব ইলিশের দাম আরও বেড়ে যায়।
কালাইয়া বন্দর এলাকার অপর্ণা মৎস্য আড়তের মালিক লক্ষণ সরকার বলেন, ‘বড় সাইজের ইলিশ আমরা বাউফলে বিক্রি করি না। এগুলো ঢাকার বিভিন্ন মার্কেট, নড়াইল, যশোরসহ বিভিন্ন মোকামে যায়। বাউফলে এত ক্রেতা নেই। কারও এক-দুইটা মাছ লাগলে এসে নেয়। কিন্তু দাম অনেক বেশি হওয়ায় এলাকার মানুষ এসব মাছ খেতে পারে না।’
তিনি আরও জানান, আড়তে থাকা ১ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের ইলিশটি একজন স্থানীয় ক্রেতা কিনতে চাইলেও কর্মচারী মাছটি বিক্রি না করে বাইরে পাঠানোর জন্য রেখে দেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









