বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি ও ‘সোনালী কাবিন’-খ্যাত আল মাহমুদের ৯১তম জন্মবার্ষিকী আজ। দ্রোহ, প্রেম, প্রকৃতি, লোকজ ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিকতার অনন্য সমন্বয়ে বাংলা কবিতায় নিজস্ব ধারা নির্মাণ করা এই কবি ১৯৩৬ সালের ১১ জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মৌড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। দীর্ঘ সাহিত্যজীবন শেষে ২০১৯ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
আল মাহমুদের প্রকৃত নাম মীর আবদুস শুকুর আল মাহমুদ। বাংলা কবিতায় গ্রামীণ জীবন, নদীভাঙন, চরাঞ্চলের মানুষের সংগ্রাম, প্রেম-বিরহ ও লোকজ সংস্কৃতিকে শিল্পিতভাবে তুলে ধরে তিনি পাঠকের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন।
ষাটের দশকে প্রকাশিত ‘লোক লোকান্তর’ ও ‘কালের কলস’ কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে বাংলা কবিতায় নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেন তিনি। তবে ১৯৭৩ সালে প্রকাশিত ‘সোনালী কাবিন’ কাব্যগ্রন্থ তাকে বাংলা সাহিত্যের প্রথম সারির কবিদের কাতারে প্রতিষ্ঠিত করে। ভাটিবাংলার প্রকৃতি, আঞ্চলিক ভাষার সৃজনশীল ব্যবহার এবং লোকজ ঐতিহ্যের গভীর অনুষঙ্গ তার কবিতাকে দিয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।
কবি হিসেবে খ্যাতির পাশাপাশি আল মাহমুদ ছিলেন একজন সফল ঔপন্যাসিক, শিশুসাহিত্যিক ও সাংবাদিক। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘পানকৌড়ির রক্ত’, ‘কবি ও কোলাহল’ এবং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘কাবিলের বোন’।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদকসহ বহু জাতীয় ও সাহিত্যিক সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
কবির ৯১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কবি আল মাহমুদ গবেষণা কেন্দ্র ও স্মৃতি পরিষদের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী স্মরণোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। আজ সমাপনী দিনে আলোচনা সভা, কবিতা পাঠ, স্মৃতিচারণ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, পদক প্রদানসহ সাহিত্যবিষয়ক বিভিন্ন আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।
এদিকে বাংলা সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘সোনালী কাবিন পদক-২০২৬’ প্রদান করা হচ্ছে কবি, সাহিত্যিক ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদারকে। স্মরণোৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে তার হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।
বাংলা কবিতার আকাশে আল মাহমুদ এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। মৃত্যুর পরও তার সাহিত্যকর্ম, ভাষার সৌন্দর্য ও লোকজ ঐতিহ্যনির্ভর কাব্যভুবন নতুন প্রজন্মের পাঠকদের অনুপ্রাণিত করে চলেছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









