যুক্তরাজ্যের সাবেক মন্ত্রী ও ডানপন্থি রাজনৈতিক দল ‘রিফর্ম ইউকে’র প্রবীণ নেত্রী অ্যান উইডিকম্ব নিজ বাড়িতে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। গুরুতর জখম অবস্থায় নিজ বাসভবন থেকে তার মরদেহ উদ্ধারের পর শুক্রবার (১০ জুলাই) এক শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশ তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ২৬ বছর বয়সি ওই তরুণকে আটকের পর এই হাই-প্রোফাইল হত্যাকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে ব্রিটিশ গোয়েন্দারা।
সিএনএন লিখেছে, ৭৮ বছর বয়সি উইডিকম্বের বাড়ি দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের গ্রামীণ এলাকায়। ওই বাড়ি থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরের ‘নিউটন অ্যাবট’ শহর থেকে সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ডেভন অ্যান্ড কর্নওয়াল পুলিশের অ্যাসিস্ট্যান্ট চিফ কনস্টেবল ম্যাট লংম্যান জানিয়েছেন, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো সন্ত্রাসী তৎপরতা বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল—এমন কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত মেলেনি।
পুলিশ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুরের পর পরই উইডিকম্বের বাড়ি থেকে ফোন পেয়ে কর্মকর্তারা সেখানে যান এবং তাকে মৃত অবস্থায় পান। বর্তমানে ওই বাড়িতে ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে।
এদিকে উইডিকম্বের দীর্ঘদিনের জনসেবার কথা স্মরণ করে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এক্স পোস্টে বলেছেন, “উইডিকম্ব ছিলেন একজন সাহসী ব্রেক্সিটপন্থি ও চমৎকার বক্তা, যিনি কনজারভেটিভদের সহজেই মুগ্ধ করতে পারতেন।”
উইডিকম্ব তার কট্টর সামাজিক রক্ষণশীল অবস্থানের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন। ১৯৯২ থেকে ১৯৯৭ মেয়াদে জন মেজরের কনজারভেটিভ সরকারে তিনি জুনিয়র মন্ত্রী ছিলেন।
পরবর্তীতে তিনি নাইজেল ফারাজের পপুলিস্ট দল ‘রিফর্ম ইউকে’-র অভিবাসন ও বিচার বিষয়ক মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেন। এছাড়া তিনি ২০১৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য (এমইপি) ছিলেন।
উইডিকম্ব গর্ভপাত ও সমকামীদের সমানাধিকারের ঘোর বিরোধী ছিলেন। পলায়ন ঠেকাতে কারাবন্দি গর্ভবতী নারীদের প্রসবের সময় শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার বিতর্কিত নীতিকেও তিনি সমর্থন করেছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনে অবিবাহিত ও নিজেকে কুমারী দাবি করা এই ক্যাথলিক রাজনীতিক সবসময় পারিবারিক মূল্যবোধের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। রাজনীতি ছাড়াও ২০১০ সালে জনপ্রিয় টিভি শো ‘স্ট্রিক্টলি কাম ড্যান্সিং’-এ অংশ নিয়ে তিনি সাড়া ফেলেন।
সিএনএন লিখেছে, এই হত্যাকাণ্ড যুক্তরাজ্যে রাজনীতিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। গত এক দশকে দেশটিতে দুজন এমপি হত্যার শিকার হয়েছেন।
২০১৬ সালে ব্রেক্সিট প্রচারণার সময় লেবার পার্টির জো কক্সকে এক উগ্রপন্থি হত্যা করে। এরপর ২০২১ সালে কনজারভেটিভ পার্টির ডেভিড অ্যামেসকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে আইএস মতাদর্শী এক ব্যক্তি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









