দেশে মে মাসজুড়ে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ৫ জন, আর মব সহিংসতা ও গণপিটুনিতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৩১ জন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মে মাসে সারাদেশে ৬৪টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ৫ জন নিহত এবং ২৮৯ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বিএনপির একজন, জামায়াতের একজন, ইউপিডিএফের দু’জন এবং একজন সাধারণ নারী রয়েছেন। আগের মাস এপ্রিলের তুলনায় রাজনৈতিক সহিংসতার সংখ্যা কিছুটা কমলেও পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক বিরোধ, দলীয় কোন্দল ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে অধিকাংশ সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ২৩টির বেশি মামলাও হয়েছে।
অন্যদিকে, মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ঘটনায় ৬৬টি পৃথক ঘটনায় অন্তত ৩১ জন নিহত এবং ৬৮ জন আহত হয়েছেন। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, ধর্মীয় অবমাননা ও স্থানীয় বিরোধকে কেন্দ্র করে এসব সহিংসতা ঘটে।
সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন ও হয়রানির ঘটনাও বেড়েছে। মে মাসে ৩৯টি ঘটনায় ৭৮ জন সাংবাদিক আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪২ জন আহত, ১৮ জন লাঞ্ছিত এবং ৯ জন হুমকির মুখে পড়েছেন। একজন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছে এবং দুটি মামলায় ৮ জন সাংবাদিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
বিচারবহির্ভূত হত্যা ও কারাগারে মৃত্যুর ঘটনাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। মে মাসে কারাগারে অন্তত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া বনবিভাগের গুলিতে একজন এবং মাদকবিরোধী অভিযানে পালানোর সময় আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে।
ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা ও মাজারে আক্রমণের ঘটনাও ঘটেছে। অন্তত ৩টি হামলায় ৫ জন আহত হয়েছেন, পাশাপাশি ৬টি বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও একটি ভূমি দখলের ঘটনা ঘটেছে। কুষ্টিয়া ও ঢাকায় দুটি মাজারে হামলার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
সীমান্ত পরিস্থিতিও ছিল উদ্বেগজনক। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ৬টি ঘটনায় ৬ জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়েছেন। অপরদিকে মিয়ানমার সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে ৩ জন নিহত এবং ১ জন আহত হয়েছেন।
নারী ও শিশু নির্যাতনের চিত্রও ছিল ভয়াবহ। মে মাসে ৩০৫ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৮৩ জন ধর্ষণের শিকার, ১৭ জন গণধর্ষণের শিকার এবং ৭৬ জন যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। এছাড়া পারিবারিক সহিংসতায় ৬৩ জন নারী নিহত হয়েছেন।
এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক সহিংসতা, মব সহিংসতা, মতপ্রকাশে বাধা, সাংবাদিক নির্যাতন ও নারী-শিশু নির্যাতনের ধারাবাহিকতা মানবাধিকার পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক করে তুলছে। তিনি এসব পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের আরও জবাবদিহিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









