রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে ১৫ আগস্টে ‘বাকশাল’ নাম দিয়ে একটি গরু জবাই করে ‘জুলাই জিয়াফতের’ আয়োজন করা হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে এ ভোজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুরুতে ছাত্র সংসদের নাম ব্যবহার করে এই কর্মসূচির প্রচারণা চালানো হলেও একাধিক রাকসু প্রতিনিধি জানিয়েছেন, তারা এ বিষয়ে কিছু জানেন না।
এদিকে আয়োজনের নেতৃত্বে থাকা সালাহউদ্দিন আম্মার দাবি করেছেন, আয়োজনের সঙ্গে রাকসুর সম্পৃক্ততা নেই।
আয়োজনের বিষয়ে রাকসুর এজিএস সালমান সাব্বির বলেন, ‘‘এটা রাকসুর কোনো আয়োজন না। সালাউদ্দিন আম্মারের কোনো শুভাকাঙ্ক্ষী অর্থ দিয়েছিল এবং সে পরবর্তীতে নিজ দায়িত্বে এই আয়োজন করছে। এর সাথে রাকসু বা শিবিরের কোনো সম্পর্ক নেই।’’
এই আয়োজনের সাথে সম্পৃক্ততা নেই জানিয়ে রাকসুর বিতর্ক ও সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক ইমরান লস্কর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গ্রুপে লিখেন, ‘‘আজকের গরুভোজে রাকসুর পক্ষ থেকে কোরবানি হচ্ছে কি না- আমি তা জানি না। এতটুকু আমি স্পষ্ট করি- এই আয়োজনের সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। গরুভোজের এই আয়োজন বা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে আমি জড়িত নই। রাকসুর ব্যানারে কারা আয়োজন করছে- সে বিষয়ে তারা এখনো স্পষ্ট কোনো বক্তব্য দেয়নি।’’
এর আগে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাতে এক ভিডিও বার্তায় ভোজের ঘোষণা দিয়ে সালাহউদ্দিন আম্মার তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে বলেন, ‘‘১৫ আগস্ট আপনাদের সবাইকে নিয়ে আমাদের যে প্রাণপ্রিয় গরুটা আনতে পারছি, তার নাম দেওয়া হয়েছে ‘বাকশাল’। এই বাকশালটাকে আমরা কোরবানি করে আমরা উদযাপন করব। এটাকে জুলাই জিয়াফতও বলতে পারেন, জুলাইয়ের আপ্যায়ন।’’
একই সঙ্গে গরুর ছবি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গ্রুপে পোস্ট করে রাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য ইমজিয়াউল কামালি লিখেন, ‘‘আগামীকাল রাকসুর পক্ষ থেকে কুরবানী হবে ‘বাকশাল’। রাবিয়ানরা প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেন। বিস্তারিত আসছে।’’
এ ছাড়া সালাহউদ্দিন আম্মার তার পেজে মধ্যরাতে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘‘১৫ আগস্ট রাতেই বাকশালরে শুয়াইয়া দিলাম। আমি মেজর সালাহউদ্দিন আম্মার বলছি।’’
সরেজমিনে দেখা যায়, রাকসু ভবনের ভেতরে খাবারের প্যাকেট প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বসার জন্য কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে ঘাসের ওপর কিছু ত্রিপল বিছানো হয়। জোহরের নামাজ শেষে পৌঁনে ২টার দিকে শিক্ষার্থীরা আসতে শুরু করেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘‘আজ বাকশাল পতনের ঐতিহাসিক দিন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি। সে জন্য গরুর নাম বাকশাল রাখা হয়েছে। শুরুতে রাকসুর পক্ষ থেকে প্রচারণা চালানো হয়েছিল। তবে রাকসুর সব সদস্য এতে একমত হয়নি। পরে আমাদের এক ভাই এটি উপহার দিয়েছেন। এখানে রাকসু জড়িত নয়।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









