দেশের জ্বালানি খাতে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব সম্পদ অনুসন্ধান ও উৎপাদনে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে গ্যাস অনুসন্ধান, উত্তোলন ও রিফাইনিং সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি কৌশলগত মজুত গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অতীতের ভুল নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও অতিরিক্ত আমদানি নির্ভরতার কারণে দেশের জ্বালানি খাত গভীর সংকটে পড়ে। সে সময় মূলত এলএনজি ও জ্বালানি তেল আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ানো হলেও দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, রিফাইনিং ও মজুত ব্যবস্থার উন্নয়নে পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
বর্তমান সরকার জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে বহুমুখী পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বলে জানান তিনি। এর মধ্যে রয়েছে—দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন বৃদ্ধি, রিফাইনিং সক্ষমতা সম্প্রসারণ, জ্বালানি মজুতের সক্ষমতা গড়ে তোলা এবং আমদানির উৎস বৈচিত্র্যকরণ।
মন্ত্রী আরও বলেন, আগামী তিন বছরে বাপেক্সের মাধ্যমে ৬৯টি কূপ খনন এবং ৩১টি কূপের ওয়ার্কওভার করা হবে। পাশাপাশি ২৭০ কিলোমিটার ভূতাত্ত্বিক জরিপ, ৭০০ লাইন কিলোমিটার টু-ডি এবং ৭০০ বর্গকিলোমিটার থ্রি-ডি সাইসমিক জরিপ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদারে নতুন রিগ সংগ্রহ এবং সমুদ্রাঞ্চলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য নতুন অফশোর বিডিং রাউন্ড ঘোষণা করা হবে।
এছাড়া মহেশখালীতে নতুন এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন, মাতারবাড়িতে ল্যান্ড-বেজড টার্মিনাল নির্মাণের প্রস্তুতি এবং জ্বালানি তেল পরিবহনে বিদ্যমান ৬০১.৫০ কিলোমিটার পাইপলাইনের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং চালু এবং চট্টগ্রাম বা উপকূলীয় শিল্পাঞ্চলে ধাপে ধাপে ৫০ লাখ টন সক্ষমতার নতুন ক্রুড অয়েল রিফাইনারি স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতায় আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেল ও এলএনজির দাম বেড়ে গেলেও সরকার ভর্তুকির মাধ্যমে এর প্রভাব কমানোর চেষ্টা করেছে। গ্যাসের দাম অপরিবর্তিত রেখে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









