বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিব মাহদী হাসানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, বুধবার মাহদী হাসানের উপর সংঘটিত হামলা চেষ্টা ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ যাচাইয়ের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি লিখিত আবেদন জমা দেন। অভিযোগ উঠেছে, আবেদন জমা দিয়ে ফেরার পথে ডিসি অফিস প্রাঙ্গণে তার গতিরোধ করে হামলা চালায় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করলে তিনি গুরুতর আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার সময় মাহদী আত্মরক্ষার চেষ্টা করলেও হামলাকারীরা তাকে ছাড় দেয়নি। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংগঠক আলমগীর হাসান আবিদ বলেন, ‘‘মাহদীর উপর গত কয়েকদিন ধরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলার চেষ্টা করে আসছিলো। গতকালকের হামলার ফুটেজ যাচাইয়ের আবেদন নিয়ে ডিসি অফিসে গেলে ছাত্রদলের কর্মীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে।’’
এ ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সংগঠনের নেতারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন বলেন, ‘‘শুধু মাত্র নিজেকে ভাইরাল করার উদ্দেশ্যে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে মাহদী হাসান। এই হামলার সাথে ছাত্রদলের কোন নেতাকর্মী জড়িত নয়।’’
এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মাহবুব বলেন, ‘‘ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কেউ হামলার স্থানে উপস্থিত ছিলেন না। মাহদী রাজপথে আলোচনায় থাকতে এ রকম হামলার নাটক সাজাচ্ছে। গত দুই দিনের কোন ঘটনাই ছাত্রদল জড়িত নয়।’’
এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি জাহিদুল হক জানান, ঘটনার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে আমরা সেখানে যাই। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠাই। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’’
উল্লেখ্য, গত ১ জানুয়ারি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানায় গিয়ে ‘থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম’– এমন মন্তব্য করে ওসিকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে উঠেছিল মাহদী হাসানের বিরুদ্ধে।
তার সেই হুমকির ভিডিও নিয়ে দেশব্যাপি আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হলে পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। তবে আন্দোলনের মুখে ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই তিনি জামিনে মুক্তি পান।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









