পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের অংশগ্রহণে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের উদ্যোগে এ কর্মশালা আয়োজন করা হয়।
নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত দত্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রায়হান মাহমুদ, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মাহাবুব, গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী স্বপন দেবনাথসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
কর্মশালায় উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় সংবাদকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
বক্তারা জানান, গ্রাম আদালত সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় দ্রুত, সহজ এবং স্বল্প ব্যয়ে বিচারসেবা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিন লক্ষ টাকা পর্যন্ত দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা গ্রাম আদালতে নিষ্পত্তি করা যায়। এছাড়া অস্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার, স্থাবর সম্পত্তি দখল সংক্রান্ত বিরোধ, চুরি, কলহ, মারামারি এবং স্ত্রীর ভরণপোষণ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নেছারাবাদ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ফেব্রুয়ারি ২০২৪ থেকে মে ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৫৯২টি মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উচ্চ আদালত থেকে প্রেরিত মামলার সংখ্যা ৪৬টি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দত্ত বলেন, ‘‘গ্রাম আদালত হলো স্থানীয় পর্যায়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার একটি কার্যকর মাধ্যম। এটি মানুষের সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় করে। জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি পেলে অনেক বিরোধ স্থানীয়ভাবে দ্রুত ও শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে, ফলে উচ্চ আদালতের ওপর মামলার চাপও কমবে।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘গ্রাম আদালতের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই সেবাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে হবে।’’
কর্মশালায় বক্তারা গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং এর সেবাসমূহ সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পটি দেশের ৮টি বিভাগ, ৬১টি জেলা (পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতীত), ৪৬৮টি উপজেলা এবং ৪,৪৫৭টি ইউনিয়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটির মোট বাজেট ৫০.০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যার মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের অবদান ১৮.৬৪ মিলিয়ন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউএনডিপির যৌথ অবদান ৩১.৩৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









