রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনারেরা। পরে সিইসি সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।
সিইসি জানান, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। এ সংক্রান্ত আইনে নির্বাচনের আগে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শক্রমে দিনক্ষণ ঠিক করার কথা বলা আছে। সেজন্য নির্বাচন কমিশন ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। জাতীয় সংসদ অধিবেশনে থাকলে এ নির্বাচন একভাবে হবে, আর না থাকলে আরেক ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে। সাক্ষাতে প্রাথমিকভাবে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এটি চূড়ান্ত হলে জানানো হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে নাসির উদ্দিন বলেন, “রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। সংসদ সচিবালয় এ নির্বাচনের ভোটার তালিকা দেবে। এজন্য নির্বাচন কমিশন চিঠিও দিয়েছে।”
বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও তাহমিদা আহমদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এসময় সংসদ সচিব হাফিজ আহমেদ চৌধুরী, সংসদ সচিবালয় সচিব গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া ছিলেন।
গুরুতর অসুস্থততার কথা জানিয়ে গত ২৪ জুলাই বিকালে পদত্যাগ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। আর সে পর্যন্ত স্পিকারের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেক্ষেত্রে ২২ অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। সে লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন।
প্রথা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে মঙ্গলবার প্রাথমিক আলোচনা সেরে ফেলল নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচন কমিশন ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১’ অনুযায়ী তফসিল ঘোষণা করবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার হন সংসদ সদস্যরা। সিইসি থাকেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ‘নির্বাচনি কর্তা’।
নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করলে তাতে মনোনয়নপত্র জমা, বাছাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহার ও ভোটের তারিখ ও স্থান থাকবে; সিইসির কার্যালয়ে এসব কাজ হবে। তবে ভোটের স্থান হবে সংসদ কক্ষ।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজনকে সমর্থক হতে হবে। প্রার্থীর নিজেরও সম্মতিসূচক স্বাক্ষর থাকতে হবে।
সংসদীয় গণতন্ত্র চালুর পর ১৯৯১ সালে একাধিক প্রার্থী হওয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একবারই সংসদের কক্ষে ভোট করতে হয়েছিল। পরে প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দল মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।
সংসদের অধিবেশন না থাকলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য প্রয়োজন হলে স্পিকার সাত দিন আগে বৈঠক আহ্বান করতে পারেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









