সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি জোরদার করেছে সরকার। নতুন বেতন কাঠামোতে কর্মচারীদের আয়, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতিকে বিবেচনায় রেখে মূল বেতন ও বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ ব্যয় হয়েছে ৮৫ হাজার ১৩৭ কোটি টাকা। নবম পে-স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে পেনশনসহ এ খাতে সরকারের মোট ব্যয় প্রায় ২ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা হতে পারে।
এদিকে চলমান আর্থিক সংকটের মধ্যে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির মতে, অর্থায়নের নির্ভরযোগ্য উৎস নিশ্চিত না করে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করলে আর্থিক চাপ ও মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে। তবে এসব উদ্বেগের মধ্যেও নবম পে-স্কেলের সুপারিশ দ্রুত মন্ত্রিসভার অনুমোদনের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইনক্রিমেন্টে আসছে বড় পরিবর্তন
বর্তমানে সব গ্রেডে গড়ে ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হলেও নতুন পে-স্কেলে এ ব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাবেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
প্রস্তাবিত খসড়া অনুযায়ী—
৬ষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেড : ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট বহাল।
৫ম গ্রেড : ৪ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট।
৩য় ও ৪র্থ গ্রেড : ৩.৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট।
২য় গ্রেড : ২.৭৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট।
১ম গ্রেড : পৃথকভাবে ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের প্রস্তাব।
দুই ধাপে বাস্তবায়নের আলোচনা
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে একাধিক বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে। শুরুতে তিন ধাপে বাস্তবায়নের কথা ভাবা হলেও বর্তমানে দুই ধাপে বাস্তবায়নের সম্ভাবনাই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
একই সঙ্গে আইনি ও কারিগরি জটিলতা এড়াতে খসড়া প্রজ্ঞাপনের আইনি যাচাই, বিধিমালা সংশোধন এবং সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্মে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত হালনাগাদের কাজও চলছে।
জরিপে কী উঠে এসেছে?
নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নের আগে সরকার একটি বিস্তৃত জরিপ পরিচালনা করে। এতে অংশ নেন—১ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ সরকারি চাকরিজীবী, ৬১ হাজার ৫০০ সাধারণ নাগরিক এবং ৩ হাজার ৫১৩ প্রতিষ্ঠানের প্রধান।
জরিপে মাত্র ৫.৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বর্তমান ইনক্রিমেন্ট ব্যবস্থার পক্ষে মত দেন। অন্যদিকে—
৫০.৪৩ শতাংশ মূল্যস্ফীতির সঙ্গে বেতন বৃদ্ধির হার সমন্বয়ের পক্ষে মত দেন।
৩১.৫৪ শতাংশ জীবনযাত্রার ব্যয়কে ভিত্তি করে ইনক্রিমেন্ট নির্ধারণের সুপারিশ করেন।
৭৯.৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন আরও বাড়ানোর পক্ষে মত দেন।
মূল বেতন কত হতে পারে?
এখন পর্যন্ত সরকার নবম পে-স্কেলের মূল বেতনের চূড়ান্ত হার প্রকাশ করেনি। বিভিন্ন গ্রেডের বেসিক বেতন নিয়ে আলোচনা চললেও সরকারিভাবে কোনো বেতন কাঠামো অনুমোদন বা গেজেট প্রকাশ হয়নি।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেলে মূল বেতন, ইনক্রিমেন্ট এবং ভাতা—সব ক্ষেত্রেই মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়কে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের পরই প্রতিটি গ্রেডের নতুন মূল বেতনের হার প্রকাশ করা হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









