বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে সরকার কাজ করবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
তিনি বলেন, যাদের অবদান ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে এবং দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, শিশুদের তাদের সম্পর্কে জানানো অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু সে অনুযায়ী শিশু-কিশোরদের জন্য পর্যাপ্ত বই, লেখনী ও চলচ্চিত্র তৈরি হয়নি।
রবিবার (৯ আগস্ট) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে লেখক ও সাংবাদিক সাবরিনা শুভ্রার লেখা ‘শহীদ জিয়ার গল্প শোনো’ ও ‘ছোটদের প্রিয় খালেদা জিয়া’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও প্রকাশনা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রকাশনা সংস্থা ‘দশমিক’ আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিশুদের জন্য বাংলাদেশের প্রকৃত ইতিহাস এবং স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র অর্জনে যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, তাদের অবদান পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে কাজ করছে। এ ধরনের উদ্যোগে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতেও মন্ত্রণালয় প্রস্তুত রয়েছে।
বিদেশে বসবাসরত বাংলাদেশি শিশু-কিশোরদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের বই ইংরেজিতে অনুবাদ করে প্রকাশ করা দরকার। তাহলে বিদেশে থাকা নতুন প্রজন্মও সহজে বাংলাদেশের ইতিহাস এবং ত্যাগী নেতাদের অবদান সম্পর্কে জানতে পারবে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা তুলে ধরে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, তিনি সেদিন স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে ‘আই রিভোল্ট’ না বললে হয়তো বাংলাদেশ স্বাধীন দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতো না। একইভাবে দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া জীবন বাজি রেখে গণতন্ত্র রক্ষা ও পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলন করেছেন। তাদের অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে না ধরলে সময়ের সঙ্গে তা হারিয়ে যেতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার অর্জিত হয়েছে। এই অর্জন রক্ষা করতে হবে। দেশে যাতে আবার ফ্যাসিবাদের উত্থান না ঘটে, সে জন্য সর্বস্তরের জনগণকে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান তিনি।
প্রকাশনা সংস্থা ‘দশমিক’-এর স্বত্বাধিকারী দীপান্ত রায়হানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিম, এস এম জিলানী, কে এম বাবর এবং মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু।
অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তাহমিনা আক্তার টপি এবং সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক এহসান মাহমুদ।
এ ছাড়া লেখক কালাম ফারায়েজি, বই দুটির লেখক ও সাংবাদিক সাবরিনা শুভ্রা, কবি মিন্টু হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস এবং তৌহিদুর রহমান আওয়াল বক্তব্য দেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









