প্রথমে ধাপে শুরু করা হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ৩০ উপজেলার ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সি ১২ লাখের বেশি শিশু টিকা পাবে বলে তথ্য দিয়েছে ইউনিসেফ।
এরই মধ্যে গতকাল রোববার সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ১৮টি জেলার এসব উপজেলায় টিকা দেওয়া শুরু করেছে সরকার। ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ও গ্যাভি, দ্যা ভ্যাকসিন অ্যালায়ন্সের সহায়তায় জরুরি এ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
এদিন বিকালে ইউনিসেফ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, ধাপে ধাপে এ টিকাদান কর্মসূচি দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও বাকি জেলাগুলোতে সম্প্রসারণ করা হবে।
এর আগে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রথম ধাপের হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
তিনি এ কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা দেওয়া এবং দ্রুত টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্সকে ধন্যবাদ দেন। একই সঙ্গে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গ্যাভি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ইউনিসেফ বলেছে, ঢাকা ও কক্সবাজারে ঘনবসতিপূর্ণ ও উচ্চ ঝুঁকির এলাকাগুলোতে সর্বোচ্চ সংখ্যক শিশুকে টিকার আওতায় আনতে কঠোর প্রচেষ্টা চালানো হবে। জরুরি এ টিকাদান কর্মসূচি নিয়মিত টিকা দেওয়ার প্রচেষ্টার সম্পূরক হিসেবে কাজ করবে।
এটি টিকাদানের লক্ষ্য পূরণ, স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালী এবং ভবিষ্যতে সংক্রমণ প্রতিরোধের সক্ষমতা তৈরির একটি বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে কাজ করবে বলেও তুলে ধরেছে সংস্থাটি।
বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, “বাংলাদেশজুড়ে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধিতে হাজার হাজার শিশু, বিশেষ করে ছোট শিশু ও সবচেয়ে অসহায় অবস্থায় থাকা শিশুরা গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়ায় ইউনিসেফ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এভাবে সংক্রমণ ফিরে আসাটা গুরুতর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতির দিকটি তুলে ধরছে, বিশেষ করে যেসব শিশুরা একেবারেই কোনো টিকা পায়নি অথবা টিকার আংশিক ডোজ পেয়েছে এমন শিশুদের ক্ষেত্রে। পাশাপাশি নয় মাসের কম বয়সী শিশু যারা এখনো নিয়মিত টিকাদানের জন্য উপযুক্ত নয়, তাদেরও সংক্রমিত হওয়ার বিশয়টা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক।”
হামে প্রাণ হারানো রোগীদের স্বজনদে প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সরকার এই জরুরি টিকাদান কার্যক্রম নিয়ে যে প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছে তাতে সহায়তা প্রদান করছি। সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে সংক্রমণের এই ফিরে আসাটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। প্রতিটি শিশু যেন টিকার আওতায় আসে, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতি পূরণ করা যায় এবং এই প্রতিরোধযোগ্য রোগ থেকে বাংলাদেশের শিশুদের সুরক্ষিত রাখতে ইউনিসেফ, সরকার ও অংশীজনদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।”
ইউনিসেফ বলেছে, টিকা কেনা ও বিতরণ, কোল্ড চেইন ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, জনসচেতনতা তৈরি এবং বাবা-মা ও অভিভাবকেরা (কেয়ারগিভার) যাতে অবগত থাকেন ও তাদের সন্তানদের টিকা দেন সেটা নিশ্চিত করতে কাজ করছে তারা।
এছাড়া প্রত্যন্ত এলাকার শিশু, উপেক্ষিত থেকে যাওয়া শিশু ও সমস্যাসঙ্কুল এলাকার শিশুদের টিকাদান নিশ্চিতে সম্মুখভাগের স্বাস্থ্যকর্মী ও অংশীজনদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে সংস্থাটি।
বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশিদ মোহামেদ বলেন, জরুরি টিকা দেওয়ার এ কর্মসূচি আরও শিশুর মৃত্যু ঠেকানো এবং প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পেছনে যে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার (ইমিউনিটি গ্যাপ) ঘাটতি রয়েছে তা দূর করতে সহায়তা করবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









