রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে শহরের ব্যস্ততা থেমে গেলেও জননিরাপত্তার ঝুঁকি থেমে থাকে না। ডেঙ্গুবাহী মশা, লোকালয়ে ঢুকে পড়া বিষধর প্রাণী, জলাশয়ঘেঁষা এলাকায় কুমির এবং নগর এলাকায় পথচারী, শিশু ও বৃদ্ধদের ওপর আক্রমণকারী কুকুর এসব ঘটনা নিয়মিতভাবে জনমনে উদ্বেগ তৈরি করছে। প্রতিটি ঘটনার পরই প্রশ্ন উঠছে মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত নয়।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জননিরাপত্তার স্বার্থে ঝুঁকিপূর্ণ প্রাণী নিয়ন্ত্রণ, অপসারণ ও ব্যবস্থাপনার নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বার্মিজ অজগর অপসারণ অভিযান, অস্ট্রেলিয়ায় বন্য বিড়াল নিয়ন্ত্রণ এবং স্কটল্যান্ডে আমেরিকান মিংক নির্মূল কর্মসূচি তার উদাহরণ। বাংলাদেশেও ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া নিয়ন্ত্রণে মশা নিধনে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হয়। সম্প্রতি সিটি কর্পোরেশন পর্যায়ে কুমির অপসারণের ঘটনাও দেখিয়েছে প্রয়োজনে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ সম্ভব। তবে সবচেয়ে আলোচিত ইস্যু বেওয়ারিশ কুকুর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী মানুষের জলাতঙ্ক সংক্রমণের প্রায় ৯৯ শতাংশই কুকুরের মাধ্যমে ঘটে এবং রোগটি প্রায় শতভাগ প্রাণঘাতী। তবুও বাংলাদেশে কুকুর ব্যবস্থাপনায় সুস্পষ্ট জাতীয় নীতি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
ভারতে আদালত প্রশাসনকে ক্ষতিকর কুকুর অপসারণ এর বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে। জর্জিয়া ও মরক্কো বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে বড় পরিসরের কর্মসূচি নিয়েছে। বাংলাদেশে সিটি কর্পোরেশন আইন ২০০৯-এর ১০৫ ধারায় বিপজ্জনক প্রাণী অপসারণের ক্ষমতা রয়েছে। ইসলামী দৃষ্টিতেও মানুষের জীবন ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
শিকারি ও পাহারাদার বাদে অন্যান্য কুকুর নিধনের বিষয়ে অনুমতি রয়েছে ইসলামে। কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে, বিশেষ করে বেওয়ারিশ ও ঝুঁকিপূর্ণ কুকুরের ক্ষেত্রে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অনুপস্থিত থাকায় জননিরাপত্তা বারবার ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা সত্ত্বেও জলাতঙ্কসহ প্রাণঘাতী ঝুঁকি মোকাবিলায় দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। ফলে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশু ও পথচারীরা প্রতিনিয়ত আক্রমণের শিকার হচ্ছে। এই অবস্থায় কেবল সচেতনতা বা সীমিত কর্মসূচি যথেষ্ট নয় ক্ষতিকর কুকুরের ক্ষেত্রে একটি কঠোর, কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অবিলম্বে বাস্তবায়ন করা এখন জননিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য।
লেখক: কলামিস্ট ও শিক্ষার্থী


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









