বাংলাদেশের মানুষ বিদ্যুতের সঙ্গে যেন আবারও এক অদ্ভুত অনিশ্চয়তার মধ্যে ফিরে গেছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে, উৎপাদনক্ষমতাও কম নয়, কিন্তু প্রয়োজনের সময়ে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ নেই। গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। কোথাও কয়েক ঘণ্টা পরপর, কোথাও দীর্ঘ সময় ধরে। রাতের ঘুম নষ্ট হচ্ছে, শিশুর পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে, ছোট ব্যবসা থেমে যাচ্ছে, কারখানায় উৎপাদন কমছে। কৃষক সেচ নিয়ে বিপাকে পড়ছেন। সবচেয়ে বড় কথা, মানুষের ধৈর্য ফুরিয়ে যাচ্ছে। এটি শুধু বিদ্যুতের সংকট নয়। এটি মানুষের দৈনন্দিন জীবন, অর্থনীতি এবং রাষ্ট্রীয় সেবার ওপর আস্থার সংকটও।
সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় পর্যায়ে লোডশেডিং কয়েক হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছেছে। ১৩ আগস্ট রয়টার্স জানিয়েছে, গ্যাসের ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সরকারকে আরো কঠোর বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। কিন্তু এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন আসে। বাংলাদেশের স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা যদি প্রায় ২৯ হাজার মেগাওয়াট হয়, তাহলে এত লোডশেডিং কেন? সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-এর হিসাবে ২০২৬ সালের জুনে দেশের স্থাপিত উৎপাদনক্ষমতা ছিল প্রায় ২৮,৯১৯ মেগাওয়াট। গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রের ক্ষমতাই প্রায় ১২,৪৭২ মেগাওয়াট এবং কয়লাভিত্তিক প্রায় ৭,৭৬৯ মেগাওয়াট। অথচ প্রয়োজনের সময় সেই ক্ষমতার একটি বড় অংশ কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
এখানেই আমাদের বিদ্যুৎ সমস্যার আসল জায়গাটি। সমস্যা শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা নয়। সমস্যা হলো- যে কেন্দ্রগুলো আছে, সেগুলো কতটা চালানো যাচ্ছে; পর্যাপ্ত গ্যাস, এলএনজি বা কয়লা আছে কি না; কোথাও যান্ত্রিক ত্রুটি আছে কি না; উৎপাদিত বিদ্যুৎ সঠিকভাবে সঞ্চালন ও বিতরণ করা যাচ্ছে কি না। অর্থাৎ আমাদের দরকার শুধু আরো বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়, বরং আরো ভালো ব্যবস্থাপনা। এই মুহূর্তে সরকারের প্রথম কাজ হওয়া উচিত নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরিকল্পনা নিয়ে ব্যস্ত না হয়ে যে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো আছে, সেগুলো কেন পূর্ণ ক্ষমতায় চলছে না- তার উত্তর খোঁজা। প্রতিটি কেন্দ্রের অবস্থা প্রতিদিন পর্যালোচনা করা যেতে পারে। কোনটি জ্বালানির অভাবে কম উৎপাদন করছে, কোনটি মেরামতের জন্য বন্ধ, কোনটির কাছে কয়লা নেই, কোনটি অর্থের কারণে জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছে না- এ সব তথ্য এক জায়গায় এনে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ, একটি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র বানাতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। কিন্তু একটি বিদ্যমান কেন্দ্রকে জ্বালানি দিয়ে চালু করা বা ছোটখাটো কারিগরি সমস্যা ঠিক করা গেলে কয়েক দিনের মধ্যেই শত শত মেগাওয়াট ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
অর্থাৎ এখন আমাদের নীতি হওয়া উচিত- আগে যা আছে, তার পুরোটা ব্যবহার করি। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে গ্যাসের সমস্যা। বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বড় অংশ গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। ফলে গ্যাসের সরবরাহ কমলেই বিদ্যুৎ উৎপাদনে তার প্রভাব পড়ে। এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকিও বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ বা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে, একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে সমস্যা হলে তার প্রভাব কত দ্রুত জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়ে। রয়টার্স-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এলএনজি সরবরাহের সমস্যার সঙ্গে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও লোডশেডিংয়ের সম্পর্ক স্পষ্ট হয়েছে। তাই বিদ্যুৎনীতি আর গ্যাসনীতিকে আলাদা করে দেখলে চলবে না।
বিদ্যুৎ নিরাপত্তার অর্থ এখন জ্বালানি নিরাপত্তাও। বাংলাদেশের উচিত গ্যাস, এলএনজি ও কয়লার জন্য একটি বাস্তবসম্মত ইমার্জেন্সি ফুয়েল সিকিউরিটি ব্যবস্থা তৈরি করা। বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় কয়লা বা তরল জ্বালানির ন্যূনতম মজুত কত থাকবে, তা নির্ধারণ করা দরকার। কোনো জাহাজ দেরি করলে বা আন্তর্জাতিক বাজারে সমস্যা হলে যাতে একটি কেন্দ্র হঠাৎ বন্ধ হয়ে না যায়, সেই বিকল্প ব্যবস্থাও থাকতে হবে। তবে সব সংকটের সমাধান হিসেবে ডিজেল বা ফার্নেস অয়েল ব্যবহার করা যাবে না। এতে বিদ্যুৎ পাওয়া গেলেও খরচ অনেক বেড়ে যায়। সেই খরচ শেষ পর্যন্ত সরকার বা গ্রাহক- কাউকে না কাউকে বহন করতে হয়। তাই তরল জ্বালানি হতে পারে জরুরি ব্যবস্থা, স্থায়ী সমাধান নয়। আরেকটি পরিবর্তন জরুরি- লোডশেডিংকে যেন বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার সবচেয়ে সহজ সমাধান হিসেবে না দেখা হয়। বিদ্যুৎ কম থাকলে বিদ্যুৎ বন্ধ করতে হতেই পারে। কিন্তু কোথায়, কখন এবং কতক্ষণ বন্ধ হবে- এটি পরিকল্পিত হওয়া উচিত। হাসপাতাল, পানি সরবরাহ, জরুরি পরিষেবা, টেলিযোগাযোগের মতো প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কৃষি ও সেচের সময়ও বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
শিল্পের বিষয়টি আরো গুরুত্বপূর্ণ। একটি কারখানায় বিদ্যুৎ না থাকলে মালিক শুধু উৎপাদন হারান না; অনেক সময় জেনারেটর চালাতে ডিজেল কিনতে হয়। সেই অতিরিক্ত খরচ পরে পণ্যের দামে গিয়ে পড়ে। নওগাঁয় সাম্প্রতিক সময়ে দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের কারণে কারখানা ও চালকলগুলো জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হয়েছে- এটি তার একটি বাস্তব উদাহরণ।
অতএব সংকটের সময়ে খাদ্য উৎপাদন, সেচ, কোল্ড স্টোরেজ, রপ্তানিমুখী শিল্প এবং গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া শুধু অর্থনৈতিকভাবে যুক্তিসঙ্গত নয়, জাতীয় স্বার্থেও প্রয়োজনীয়। তবে শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। কখন বিদ্যুতের চাহিদা বেশি হচ্ছে, সেটিও দেখতে হবে। বাংলাদেশে ধীরে ধীরে পিক-আউয়ার এবং অফ-পিক-আউয়ার ভিত্তিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। বড় শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে উৎসাহ দেওয়া যেতে পারে, যাতে তারা যেসব কাজের সময় পরিবর্তন করা সম্ভব, সেগুলো কম চাহিদার সময়ে করে। এতে একই পরিমাণ বিদ্যুৎ দিয়ে আরো বেশি কাজ করা সম্ভব হবে। বিদ্যুৎ সাশ্রয় মানে মানুষের জীবনকে আরো কষ্টকর করা নয়। বরং কোথায় অপচয় হচ্ছে, সেটি বন্ধ করা। এর পাশাপাশি আমাদের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার দিকেও তাকাতে হবে।
বিদ্যুৎ উৎপাদন হলো, কিন্তু যদি দুর্বল লাইন, পুরনো ট্রান্সফরমার বা ওভারলোডেড সাব-স্টেশন-এর কারণে তা ঠিকমতো পৌঁছাতে না পারে, তাহলে গ্রাহকের কাছে সেই উৎপাদনক্ষমতার কোনো মূল্য নেই। এখানে স্মার্ট মিটার, অটোম্যাটেড মিটার রিডিং, ডিজিটাল গ্রিড ম্যানেজমেন্ট এবং দ্রুত ফল্ট ডিটেকশন-এর মতো ব্যবস্থা অনেক পরিবর্তন আনতে পারে। কিন্তু বিদ্যুৎ নিয়ে মানুষের বর্তমান ক্ষোভের একটি দিক আরো আছে, যেটি উপেক্ষা করা ঠিক হবে না- বিদ্যুৎ বিল। একজন মানুষ যদি মাসের অনেক দিন বিদ্যুৎ না পান, অথচ মাস শেষে তার হাতে এমন একটি বিল আসে, যা তার স্বাভাবিক ব্যবহারের তুলনায় অস্বাভাবিক বেশি, তাহলে তার ক্ষোভ হওয়া খুবই স্বাভাবিক। অনেক গ্রাহকের অভিযোগ, মিটার ঠিকভাবে না দেখে এস্টিমেটেড রিডিং-এর ভিত্তিতে বিল তৈরি হচ্ছে।
কোথাও হঠাৎ অস্বাভাবিক ইউনিট দেখানো হচ্ছে, কোথাও আগের মাসের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি বিল আসছে। মানুষের ভাষায় এসব বিল এখন অনেক সময় ‘ঘোস্ট বিল’ নামে পরিচিত হচ্ছে। এখানে অবশ্য একটি ভারসাম্য জরুরি। প্রতিটি বেশি বিল যে ইচ্ছাকৃতভাবে তৈরি করা হয়েছে, তা বলা যাবে না। মিটার ম্যালফানকশন, ভুল রিডিং, এস্টিমেটেড বিলিং, আগের বকেয়া সমন্বয় বা ট্যারিফ স্ল্যাব-এর পরিবর্তন ইত্যাদি নানা কারণ থাকতে পারে বিল বেশি হওয়ার পেছনে। কিন্তু গ্রাহকের প্রশ্নটি খুবই সাধারণ- ‘আমি যতটুকু বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছি, তার জন্যই কি আমাকে বিল করা হয়েছে?’ এই প্রশ্নের উত্তর পরিষ্কারভাবে দেওয়ার দায়িত্ব বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার। বিপিডিবি-এর তথ্যেও এস্টিমেটেড বিলিং এবং মিটার রিডিং-এ মানবিক ভুলের সম্ভাবনার কথা স্বীকার করা হয়েছে। ২০২৬ সালে সংসদে জানানো হয়েছে, অনেক এলাকায় মিটার রিডিং-এর ছবি তুলে তা যাচাই করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে প্রিপেইড মিটারিং আরো সম্প্রসারণের উদ্যোগ রয়েছে। এখানে খুব সহজ একটি ব্যবস্থা করা যায়। প্রতিটি বিলে আগের মিটার রিডিং, বর্তমান রিডিং, মোট ইউনিট, ট্যারিফ স্ল্যাব, ভ্যাট এবং অন্য সব চার্জ পরিষ্কারভাবে দেখানো হোক।
সবশেষে দরকার সমন্বয়। গ্যাস একদিকে, বিদ্যুৎ অন্যদিকে, এলএনজি তৃতীয়দিকে এবং ট্রান্সমিশন আরেকদিকে- এভাবে আলাদা আলাদা করে সমস্যার সমাধান করা যাবে না। একটি ন্যাশনাল ইলেক্ট্রিসিটি সিকিউরিটি টাস্ক ফোর্স গঠন করে প্রতিদিনের পরিস্থিতি এক জায়গা থেকে পর্যবেক্ষণ করা যেতে পারে। কত চাহিদা, কত উৎপাদন, কত ঘাটতি, কোন কেন্দ্র বন্ধ, কত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে এবং পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় কী হতে পারে- এসব তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা হলে জনগণের আস্থাও বাড়বে। বাংলাদেশের সামনে এখন মূলত তিনটি কাজ। প্রথমত, আগামী কয়েক মাসে বিদ্যমান বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে যতটা সম্ভব পূর্ণ ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে হবে এবং গ্যাস, এলএনজি ও কয়লার সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, আগামী কয়েক বছরে ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, স্মার্ট মিটারিং, একুরেট বিলিং, এনার্জি ইফিসিয়েন্সি, রুফটফ সোলার এবং ডিমান্ড ম্যানেজমেন্ট-এ বিনিয়োগ করতে হবে। তৃতীয়ত, দীর্ঘমেয়াদে এমন একটি ডাইভারসিফাইড এনার্জি সিস্টেম তৈরি করতে হবে, যেখানে কোনো একটি জ্বালানি বা একটি অবকাঠামোর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে পুরো দেশ বারবার বিদ্যুৎ সংকটে পড়বে না।
বাংলাদেশের বর্তমান বিদ্যুৎ সংকট তাই শুধু আরো কয়েক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের দাবি নয়। এটি আরো ভালো ব্যবস্থাপনার দাবি। এটি জ্বালানি নিরাপত্তার দাবি। এটি সঠিক বিলের দাবি। সর্বোপরি এটি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার দাবি। সরকারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়া উচিত মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা বোঝা। একজন নাগরিকের কাছে বিদ্যুৎ খাতের সাফল্য কোনো পরিসংখ্যান নয়। তার কাছে সাফল্য হলো- রাতে ঘুমের সময় বিদ্যুৎ আছে কি না, সন্তানের পড়ার সময় আলো আছে কি না, দোকানের ফ্রিজ চলছে কি না, সেচের সময় পাম্প চলছে কি না এবং মাস শেষে যে বিলটি হাতে আসে সেটি সত্যিই তার ব্যবহারের সঙ্গে মেলে কি না।
তাই বাংলাদেশের বিদ্যুৎ নীতির নতুন লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু ‘আরো বিদ্যুৎ’ নয়, ‘আরো নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ এবং ন্যায্য সেবা’। লোডশেডিং কমাতে হবে। ভুল ও অস্বাভাবিক বিলের অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্য সমাধান করতে হবে। জ্বালানি সরবরাহ নিরাপদ করতে হবে। আর জনগণকে বোঝাতে হবে- সমস্যা আছে, কিন্তু তার সমাধানের জন্য একটি পরিষ্কার, বাস্তবসম্মত ও জবাবদিহিমূলক পরিকল্পনাও আছে। কারণ, শেষ পর্যন্ত বিদ্যুৎ খাতের সাফল্য কত মেগাওয়াট উৎপাদন হলো, শুধু তা দিয়ে মাপা উচিত নয়। মানুষ কতটা নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ পেল এবং তার জন্য কতটা ন্যায্য মূল্য দিল- সেটিই হওয়া উচিত বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রকৃত সাফল্যের মাপকাঠি।
লেখক : গবেষক


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









