এক পাশে বিষখালী নদী, অন্য পাশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। মাঝখানে যে খেলার মাঠ আর বেড়িবাঁধ ছিল, তীব্র নদীভাঙনে তার বড় অংশই এখন নদীগর্ভে। নলছিটির ভবানীপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এখন দাঁড়িয়ে আছে ভাঙনের একেবারে কিনারায়। যেকোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বিদ্যালয় দুটির অংশবিশেষ। এতে ঝুঁকিতে পড়েছে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর শিক্ষা ও নিরাপত্তা।
উল্লেখ্য গত ১৫ আগস্টের ভয়াবহ ভাঙনে বিদ্যালয় দুটির খেলার মাঠের বড় অংশসহ পার্শ্ববর্তী বেড়িবাঁধ নদীতে চলে যায়। এরপর থেকে জোয়ারের সময় বিষখালীর ঢেউ সরাসরি বিদ্যালয় দুটির দিকে আঘাত করছে। নদী ক্রমেই কাছে চলে আসায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ।
পরিস্থিতির ভয়াবহতা সরেজমিনে দেখতে সম্প্রতি ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো। বিদ্যালয় দুটি রক্ষায় দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয় দুটির খুব কাছেই চলে এসেছে বিষখালী নদী। একসময় যে মাঠে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান হতো, নদীভাঙনে তার বড় অংশ এখন নেই। জোয়ারের সময় নদীর পানি ও ঢেউ এসে আঘাত করছে ভাঙনকবলিত তীরে।
ভবানীপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মুন্নি আক্তার বলেন,নদীভাঙনের কারণে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। তারপরও বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছেন শিক্ষকরা। দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধ করা গেলে শিক্ষার্থীদের ভয় ও অনিশ্চয়তা অনেকটাই কমবে বলে আশা তার।
ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনমথ রঞ্জন সমদ্দার বলেন,বিদ্যালয়ে প্রায় ৯০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। নদী এত কাছে চলে আসায় শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা হচ্ছে। তবে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে বিদ্যালয়টি রক্ষা করা সম্ভব বলে আশাবাদী তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা ইব্রাহিম হাওলাদার বলেন,নদীভাঙনে এরই মধ্যে এলাকার অনেক পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে। এখন দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও ভাঙনের মুখে। দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া গেলে বিদ্যালয় দুটির পাশাপাশি আশপাশের বসতবাড়ি ও মানুষের জীবন-জীবিকাও রক্ষা করা সম্ভব হবে।
বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, একসময় ভবানীপুর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করলেও নদীভাঙন ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে বর্তমানে তা কমে প্রায় ২০০-তে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রয়েছে প্রায় ৯০ জন শিক্ষার্থী।
ভাঙনের আশঙ্কায় ইতোমধ্যে অনেক অভিভাবক সন্তানদের দূরের অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানোর কথা ভাবছেন। এতে শুধু শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাই নয়, এলাকার শিক্ষা কার্যক্রমও দীর্ঘমেয়াদে বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নলছিটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) প্রতীক কুমার কুন্ডু জানান, সংসদ সদস্যের সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুটি রক্ষা এবং ভাঙন টেকসইভাবে প্রতিরোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও কারিগরি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সময়মতো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গেলে বিষখালীর ভাঙন থেকে রক্ষা পাবে দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। নিরাপদ থাকবে শত শত শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম। আর নদীর একেবারে কিনারায় দাঁড়িয়ে থাকা এই দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবারও ফিরবে স্বস্তির পরিবেশ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









