জাতীয় বৃহত্তর স্বার্থে জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও দলটির আমীর ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, "১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন মেনে না নিলে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা ছিল। আর যেসব দেশে একবার গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে, তারা আর তা থেকে বের হতে পারেনি।"
রবিবার (১৪ জুন) রাতে সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলে জামায়াত আমীর বলেন, "আমার ব্যক্তিগত মত, নির্বাচন সুন্দর হয়েছে; কিন্তু ফলাফল সুন্দর হয়নি। ফলাফলে অনেক কিছু করা হয়েছে, যা এখন অনেকেই স্বীকার করছেন। তবে দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থেই আমরা সেই ফলাফল মেনে নিয়েছি।"
সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তার হওয়া প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের করা এক প্রশ্নের জবাবে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "বেনজীরকে আটক করা দেশের পুলিশের কৃতিত্ব নয়, এটি ইন্টারপোলের কৃতিত্ব। কারণ বর্তমান সরকার তাঁর বিরুদ্ধে রেড অ্যালার্ট জারি করেনি। তবে বেনজীরের আটক হওয়া বাংলাদেশের জন্য একটি অর্জন।" তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে কি না, তা সম্পূর্ণ সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সীমান্তের ওপার থেকে উসকানি দেওয়া হচ্ছে অভিযোগ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, "আমরা দুই দুইবার স্বাধীন হলাম, কিন্তু প্রকৃত স্বাধীনতা পেলাম কি? তবে জাতির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আমরা কোনো আপোষ করব না।"
সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা কেমন হবে—তা স্পষ্ট করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "সংসদে বিরোধী দল চরমপন্থা বা গরমপন্থা অবলম্বন করবে না, বরং মধ্যমপন্থা অবলম্বন করবে। সংসদকে আর আমরা মমতাজের সংসদ বানাতে চাই না।" এ সময় সংসদে পর্দার বিরুদ্ধে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার ঘটনা ঘটেছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
সরকারি দল ইতোমধ্যে জনগণের সাথে দেওয়া ওয়াদা লঙ্ঘন করেছে দাবি করে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, "জনগণের রায় ব্যর্থ হলে টেকসই গণতন্ত্র বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে সংসদে সমাধান না হলে রাজপথে লড়াই চলবে। তবে সরকার দায়িত্বশীল আচরণ করলে দেশ ভালো থাকবে।" তিনি আরও যোগ করেন, নির্বাচন ভালো হলেই যে শাসক ভালো হবে, তার কোনো গ্যারান্টি নেই।
এ সময় প্রস্তুাবিত বাজেট ও কর প্রসঙ্গে সমালোচনা করেনে বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, বাজেটে দুর্নীতি বন্ধ এবং দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে কোনো স্পষ্ট উল্লেখ নেই। এ ছাড়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও মোটরসাইকেলের ওপর সরকার কর বসাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। দেশের কর আদায় ব্যবস্থার দুর্বলতা তুলে ধরে তিনি বলেন, "এদেশে প্রায় এক কোটি মানুষ ট্যাক্স (কর) দেওয়ার মতো যোগ্য, তাহলে মাত্র ৩৪ লাখ মানুষ কেন কর দিচ্ছে?"
সীমান্তে পুশইন-এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ বিজিবির সহযোগী হয়ে কাজ করবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "উসকানির সৃষ্টি হয় এমন কোনো কাজ আমরা মেনে নেবো না। সেটা যদি মুসলমানরা করে, তাও মেনে নেবো না; অন্য ধর্মের কেউ করলেও মেনে নেবো না। এ দেশ আমাদের সবার। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে যা যা করণীয়, তা-ই করতে হবে এবং সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।"
মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, সিলেট জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, মহানগরের আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









