গুগল প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছে, তাদের এআই মডেল জেমিনি মে মাসে তিনটি কোম্পানির নিরাপত্তাব্যবস্থা ভেঙে ঢুকে পড়েছিল। একটি সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষার সময় এ ঘটনা ঘটে। এর আগে ওপেনএআই ও অ্যানথ্রোপিকের মডেলও অন্য প্রতিষ্ঠানে হ্যাকিং করেছে বলে জানা গেছে। এসব ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের শক্তিশালী এআই মডেল আদৌ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছে কি না।
পরীক্ষা চলছিল ইরেগুলারের হাতে
পরীক্ষাটি চালাচ্ছিল ইসরাইলভিত্তিক এআই-নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ইরেগুলার। উন্নত এআই ব্যবস্থার নিরাপত্তা খতিয়ে দেখাই এই স্টার্টআপের কাজ। ওপেনএআই ও অ্যানথ্রোপিকের সাম্প্রতিক কয়েকটি হ্যাকিংয়ের ঘটনাতেও প্রতিষ্ঠানটি জড়িত ছিল। এর মধ্যে আছে এআই সফটওয়্যার কোম্পানি হাগিং ফেসে ওপেনএআইয়ের ঢুকে পড়ার ঘটনা।
এসব ক্ষেত্রে পরিস্থিতি প্রায় একই রকম। ইরেগুলার মডেলগুলোকে একটি বন্ধ পরীক্ষার পরিবেশে যাচাই করছিল, যেখানে ছিল কাল্পনিক কোম্পানি। সেখানে ইন্টারনেট সংযোগ থাকার কথা ছিল না। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের খবর অনুযায়ী, অনিচ্ছাকৃতভাবে ইন্টারনেট সংযোগ চালু হয়ে যায়। সংযোগ পেতেই মডেলগুলো অপ্রত্যাশিতভাবে বাস্তব কোম্পানিতে হ্যাক করে বসে।
গুগল কী বলছে
ওপেনএআইয়ের হাগিং ফেসে হ্যাকিংয়ের ঘটনা জানার পর ইরেগুলার জুলাইয়ের শেষে গুগলকে বিষয়টি জানায়। গুগল গার্ডিয়ানকে নিশ্চিত করেছে, হ্যাকিং ঘটেছিল। তবে কোম্পানিগুলোর কোনো ক্ষতি হয়নি বলে তারা মনে করেছে, তাই প্রকাশ্যে জানানোর প্রয়োজন বোধ করেনি। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালই প্রথম এ ঘটনার খবর প্রকাশ করে।
গুগলের নিরাপত্তা প্রকৌশল বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট হেদার অ্যাডকিন্স বলেন, সাধারণ মূল্যায়নের সময় মডেলটি অনলাইনে প্রকাশ্য তথ্য খুঁজে পায় এবং যে ওয়েবসাইটগুলোকে পরীক্ষার অংশ মনে করেছিল, সেগুলোতে ঢুকতে পাসওয়ার্ড আন্দাজ করে। তার দাবি, তিনটি ক্ষেত্রেই মডেলটি শেষ পর্যন্ত থেমে যায়।
তিনটি ঘটনা
প্রথম ঘটনা: ইরেগুলার জেমিনির সাইবার সক্ষমতা পরীক্ষা করছিল। মডেলকে বলা হয়েছিল একটি কাল্পনিক কোম্পানির সফটওয়্যার থেকে তথ্য বের করতে। ওই কাল্পনিক কোম্পানির নাম ছিল একটি বাস্তব কোম্পানির নামের মতোই। মডেলটি হঠাৎ ইন্টারনেট পেয়ে বাস্তব কোম্পানির পাসওয়ার্ড সঠিকভাবে আন্দাজ করে তাদের একটি সেবায় ঢুকে পড়ে। ইরেগুলার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে এ কথা জানিয়েছে। গুগল বলছে, বাস্তব কোম্পানিতে ঢুকেছে বুঝতে পেরেই মডেলটি থেমে যায়।
দ্বিতীয় ও তৃতীয় ঘটনা: এই দুই পরীক্ষায় মডেলটি ওয়েবে খুঁজে দুটি কোম্পানির গোপন প্রবেশের তথ্য (ক্রেডেনশিয়াল) সংবলিত প্রকাশ্য সংগ্রহস্থল পায়। সেই তথ্য ব্যবহার করে সে বাস্তব কোম্পানিতে ঢোকে। গুগলের ভাষ্য, কোম্পানি দুটি যে বাস্তব, তা বুঝতে পেরে মডেলটি থেমে যায়।
প্রকাশ্যে না জানানো নিয়ে প্রশ্ন
অ্যানথ্রোপিক ও ওপেনএআই স্বেচ্ছায় নিজেদের ঘটনা প্রকাশ করেছিল, গুগল তা করেনি। তবে গুগল জানিয়েছে, হ্যাকের শিকার তিন কোম্পানিকে তারা বিষয়টি জানিয়েছে। অ্যাডকিন্স বলেন, এসব ঘটনা দেখিয়ে দেয়, শক্তিশালী এআই মডেলকে দায়িত্বশীলভাবে আচরণ করতে শেখানো কতটা জরুরি।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
অ্যানথ্রোপিক ও ওপেনএআইয়ের প্রকাশ করা তথ্যের পর স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স দুই কোম্পানির কাছে প্রযুক্তির উন্নয়ন থামানোর দাবি জানান। তার মতে, এতে বোঝা যায় কোম্পানিগুলো আর নিজেদের মডেল নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছে না। ওপেনএআই দুই সপ্তাহের জন্য মডেল উন্নয়ন স্থগিত রেখেছিল। আর অ্যানথ্রোপিকের প্রধান নির্বাহী ডারিও আমোদেই সব প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে এআই উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে সবচেয়ে উন্নত মডেলগুলো যথেষ্ট সুরক্ষাব্যবস্থা রেখে তৈরি হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









