স্পেনের গ্রানাডার একটি গুহায় প্রায় ৭ হাজার ২০০ বছর আগের দুটি চামড়ার টুকরো খুঁজে পেয়েছেন প্রত্নতাত্ত্বিকেরা। গবেষকদের দাবি, এগুলো এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত বিশ্বের সবচেয়ে প্রাচীন প্রক্রিয়াজাত চামড়া। ধারণা করা হচ্ছে, তিরন্দাজি করার সময় বুক রক্ষায় ব্যবহৃত বর্মের অংশ ছিল এগুলো। চামড়ার ডিএনএ বিশ্লেষণে জানা গেছে, এগুলো এমন ছাগলের চামড়া, যাদের পূর্বপুরুষ এসেছিল পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে।
গ্রানাডার দক্ষিণে ভূমধ্যসাগরের কাছাকাছি অবস্থিত ‘বাদুড়ের গুহা’ নামে পরিচিত স্থানটিতে এই চামড়ার সন্ধান মেলে। উনিশ শতকে খনিশ্রমিকেরা গুহার ভেতরে চলাচলের সুবিধার জন্য পাথরের নিচু দেয়াল নির্মাণ করেছিলেন। পরে সেই দেয়ালের পাথরের মধ্যে চামড়ার টুকরো দুটি খুঁজে পান গবেষকেরা। কার্বন-১৪ পরীক্ষায় সেগুলোর বয়স প্রায় ৭ হাজার ২০০ বছর বলে জানা গেছে।
গুহাটি একসময় প্রাগৈতিহাসিক মানুষের সমাধিস্থল ছিল। প্রায় ৯ হাজার ৫০০ বছর আগে থেকে ব্রোঞ্জ যুগ পর্যন্ত সেখানে মৃতদেহ সমাহিত করা হতো। এখানেই ইউরোপের প্রাচীনতম জুতা হিসেবে পরিচিত ঘাস দিয়ে তৈরি স্যান্ডেল এবং প্রাচীনতম ধনুক ও তিরের নিদর্শন পাওয়া গেছে।
গুহায় খনিজ সম্পদের সন্ধান পাওয়ার পর উনিশ শতকে ব্যাপক খননকাজ শুরু হয়। এতে বহু মানবদেহ ও সমাধিসামগ্রী সরিয়ে ফেলা হয়। কিছু নিদর্শন নষ্ট হয়, আবার কিছু খনির কাজে ব্যবহৃত হয়। গবেষকদের ধারণা, উদ্ধার হওয়া চামড়ার টুকরো দুটি এমনই কোনো সমাধির অংশ ছিল।
গবেষণায় দেখা গেছে, চামড়াগুলো গৃহপালিত ছাগলের। এগুলোর সঙ্গে প্রাচীন আনাতোলিয়া, বর্তমান তুরস্কের ছাগলের জিনগত মিল রয়েছে। গবেষকদের মতে, প্রায় ৭ হাজার ৭০০ থেকে ৭ হাজার ৬০০ বছর আগে কৃষি ও পশুপালনসহ নব্যপ্রস্তর যুগের জীবনধারা আইবেরীয় উপদ্বীপে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। আনাতোলিয়া থেকে আসা মানুষেরাই ছাগল, ভেড়া, শস্য ও মৃৎশিল্পের মতো উপাদান নিয়ে পশ্চিম ইউরোপে পৌঁছেছিলেন।

বর্তমান ছাগলের জাতগুলোর সঙ্গেও প্রাচীন এই ছাগলের জিনগত সম্পর্ক পাওয়া গেছে। বিশেষ করে স্পেনের আস্তুরিয়াস অঞ্চলে টিকে থাকা বারমেয়া জাতের ছাগলের সঙ্গে এর উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে। বর্তমানে ওই জাতের পূর্ণবয়স্ক ছাগল রয়েছে মাত্র প্রায় ৩ হাজার।
আয়ারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি কলেজ ডাবলিনের গবেষক কেভিন ড্যালির মতে, চামড়ায় সংরক্ষিত ডিএনএর পরিমাণ খুব কম হওয়ায় নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন। তবে বারমেয়া জাতের ছাগলের মধ্যে আইবেরীয় উপদ্বীপে আসা প্রাচীন পালগুলোর জিনগত উত্তরাধিকার এখনো রয়ে গেছে বলে ধারণা করা যায়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









