বাংলাদেশের তারকা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান বলেছেন, দেশে ফিরলে সেটি বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের ইতিহাসে স্মরণীয় একটি ঘটনা হতে পারে। তার দাবি, এমন পরিস্থিতির আশঙ্কা থেকেই অনেকেই ভয় পান, আর সে কারণেই দেশে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন না তিনি।
সম্প্রতি ক্রিকেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ক্রিকফ্রেঞ্জিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাকিব নিজের ভবিষ্যৎ, দেশে ফেরা এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন।
বর্তমানে তিনি বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে ব্যস্ত। শিগগিরই নেপালের ফ্র্যাঞ্চাইজি দল পোখারা অ্যাভেঞ্জার্স-এর হয়ে খেলবেন। যদিও বাংলাদেশের আশপাশের বিভিন্ন দেশে খেললেও ২০২৪ সালের জুলাই থেকে দেশে ফেরা হয়নি তার।
একবার দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে দুবাই পর্যন্ত গেলেও প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমতি না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যেতে হয় তাকে।
কবে দেশে ফিরতে পারবেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলতে না পারলেও সাকিব আশাবাদী, যত দ্রুত সম্ভব ফিরতে পারলেই সেটাই তার জন্য সবচেয়ে ভালো হবে।
তিনি বলেন, “জানি না। আমি নিউজ অত শুনি না, তাই বলা মুশকিল। আশা করি তাড়াতাড়ি। পরের মাসও হতে পারে, তার পরের মাসেও হতে পারে, নভেম্বরে হতে পারে, ডিসেম্বরে হতে পারে। কিন্তু যত তাড়াতাড়ি হয়, ততই ভালো।”
টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিলেও টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অবসর নেননি সাকিব। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মিরপুরে নিজের শেষ টেস্ট খেলার পরিকল্পনা ছিল তার, কিন্তু দেশে ফিরতে না পারায় সেটি আর সম্ভব হয়নি।
তবে মিরপুরে বিদায়ী ম্যাচ খেলার স্বপ্ন এখনো দেখেন তিনি। দেশে ফিরলে সেটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে বিশ্বাস করেন সাকিব।
দেশে ফিরলে পুরো ঢাকা ব্ল্যাকআউট হয়ে যাবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “যদি আমার এরকম হয়, তাহলে অবশ্যই সেটা বাংলাদেশের স্পোর্টসের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এতে আমার কোনো সন্দেহ নেই। হয়তো এগুলো নিয়েই অনেকে ভয় পায়। এই কারণেই আমার এই সুযোগটা হচ্ছে না। আমার ধারণা, মানুষ এই ভয় পাচ্ছে এবং সেই কারণেই আমাকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।
জাতীয় দলের হয়ে দুই বছরেরও বেশি সময় মাঠের বাইরে থাকা সাকিব ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলার আশা এখনো ছাড়েননি। তবে তার মতে, তিনি খেলতে চান কি না, তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো জাতীয় দলে তাকে এখনো প্রয়োজন আছে কি না।
এ বিষয়ে সাকিব বলেন, “আমি খেলতে চাওয়ার থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো বাংলাদেশ দলে আমার দরকার আছে কি না। এটা নির্বাচক ও অধিনায়ক ভালো বুঝবেন। তারা যদি মনে করেন আমার প্রয়োজন আছে, তখন তারা চিন্তা করতে পারেন। তবে এগুলো অনেক পরের বিষয়।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









