দুই প্রতিবেশী দেশ স্পেন ও মরক্কোর মধ্যে সীমান্ত বিরোধ চলছে। আবার তারা পর্তুগালকে সঙ্গে নিয়ে ২০৩০ বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজকও। তবে স্পেন ও মরক্কো দুই দেশই বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজন করতে চায়। এরই মধ্যে মরক্কো কাসাব্লাঙ্কার হাসান দ্বিতীয় স্টেডিয়ামকে ফাইনালের ভেন্যু ঘোষণা করলেও ফিফা জানিয়েছে, সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। যথাসময়ে এ বিষয়ে জানানো হবে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) স্প্যানিশ বার্তা সংস্থা ইএফইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রয়্যাল মরোক্কান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ফৌজি লেকজা বলেন, বেনস্লিমান শহর বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজন করবে। এটি ভালো লাগুক বা না লাগুক, আর এ নিয়ে কেউ কথা বলতে চাইলে বলুক। শহরটি বেনস্লিমান, স্টেডিয়াম হাসান টু। আর আমি আশা করি, মরক্কোই সেখানে ফাইনাল খেলবে।
এদিকে ফিফার এক মুখপাত্র ইএফইকে জানিয়েছেন, ৫ আগস্ট ফিফা যে ঘোষণা করেছিল, সিদ্ধান্ত যথাসময়ে নেওয়া হবে। এর আগে আগামী মার্চের নির্বাচনে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে সমর্থনের বিনিময়ে মরক্কোকে বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজনের অধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এমন দাবিও অস্বীকার করেছে ফিফা।
কাসাব্লাঙ্কার উপকণ্ঠে বেনস্লিমানে নির্মাণাধীন কিং হাসান টু স্টেডিয়ামের দর্শক ধারণক্ষমতা ১ লাখ ১৫ হাজার করার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে ফাইনাল আয়োজনের সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে স্পেনের হাতে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার স্টেডিয়াম। সংস্কার কাজ শেষ হলে বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যুতে ১ লাখ ৫ হাজার দর্শক ধারণ করা সম্ভব হবে। আর মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর বর্তমান ধারণক্ষমতা ৭৮ হাজার ২৯৭।
চলতি সপ্তাহে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি রাফায়েল লুয়ানও বলেছেন, আমরা সবাই প্রার্থিতা (আয়োজক স্বত্ব) মেনে নেওয়ার জন্য স্বাক্ষর করেছি... দুর্ভাগ্যজনক যে ফাইনাল ম্যাচটি কোথায় অনুষ্ঠিত হবে, সেটি পুরোপুরি পরিষ্কার করা হয়নি। পুরুষ ও নারী উভয় ফুটবলে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে স্পেনেরই ফাইনাল আয়োজন করা উচিত।
তিন বছর আগে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোকে ২০৩০ বিশ্বকাপের যৌথ আয়োজক নিশ্চিত করার সময় এটিকে ইউরোপ ও আফ্রিকার মধ্যে সেতুবন্ধ তৈরি এবং পশ্চিম ভূমধ্যসাগরীয় দুই প্রতিবেশীর সম্পর্ক আরও জোরদার করার একটি আদর্শ আয়োজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। কিন্তু ফাইনালের ভেন্যু নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি মাদ্রিদ ও রাবাতের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কও আগে থেকেই কিছুটা টানাপোড়েনের মধ্যে রয়েছে। সীমান্ত অতিক্রম করে স্পেনের সেউতা ছিটমহলে মরক্কোর নাগরিকদের ঢুকে পড়ার ঘটনায় ১৪০ জনের মৃত্যু হয় বলে আনুষ্ঠানিক তথ্য জানা গেছে।
স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোর পাশাপাশি ২০৩০ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজন করবে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ে। ১৯৩০ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্বকাপের শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে এই তিন দেশ একটি করে নিজ নিজ জাতীয় দলের ম্যাচ আয়োজন করবে। ১৯৩০ সালের বিশ্বকাপের পুরো আসরই উরুগুয়ের রাজধানী মন্টেভিডিওতে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









