চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে খাল নদীর চরগুলো এখন সবুজের সমারোহ। শীতকালীন শাক সবজিতে ভরে উঠেছে চরগুলো।
উপজেলার হালদা, ধুরুং ও ফেনী নদী এবং সর্তা,লেলাং খাল,গজারিয়া খাল,ফটিকছড়ি খাল,তেলপারি খালসহ বিভিন্ন খালের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল এখন শাক সবজির ভাণ্ডারে পরিণত হয়েছে।
বাজারের চাহিদা বিবেচনায় রেখে লাভের আশায় এসব চর এলাকায় শীতকালীন সবজি চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। চরের উর্বর মাটিতে ভালো ফলন দিচ্ছে মুলা, বেগুন, বাঁধাকপি, ফুল কপি, ঝিঙে, শিম, মিষ্টি কুমড়া, ঢেঁড়স, চিচিঙ্গা, লাউ, টমেটো, লাল শাক ও শসাসহ নানা ধরনের শীতকালীন সবজি। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় শীতকালীন সবজি চাষ করে লাভবান হচ্ছেন চরাঞ্চলের কৃষকরা। কোদাল, পাচুন, মই, লাঙল ও গরুসহ প্রয়োজনীয় কৃষি সরঞ্জাম নিয়ে প্রতিদিন কাকডাকা ভোরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েন তারা। ক্ষেতে পৌঁছে যে যার মতো কাজে নেমে পড়েন।
উপজেলার কাঞ্চননগর, পাইন্দং, খিরাম, সুয়াবিল, হেঁয়াকো, বাগান বাজার, নাজিরহাট, হারুয়ালছড়ি, ভূজপুর, নারায়ণহাট, হারুয়ালছড়ি,ফটিকছড়ি বিল এবং ফটিকছড়ি পৌরসভার উত্তর রাঙ্গামাটিয়া সড়কসংলগ্ন একাধিক সবজি খ্যাত গ্রামে ঘুরে এমনই কর্মব্যস্ত দৃশ্য দেখা গেছে। ইতোমধ্যে কৃষকরা বেগুন, মুলা, শিম, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও মিষ্টি আলু বাজারে তুলতে শুরু করেছেন। এসব চরে উৎপাদিত সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে পাইকারদের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে। দেশজুড়ে এসব চরের বেগুন, মুলা ও শিমসহ নানা ধরনের সবজির বিশেষ সুনাম রয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষকদের যথাযথ পরিচর্যার কারণে চলতি মৌসুমে শীতকালীন সবজির উৎপাদন বেশ ভালো হয়েছে।
এমৌসুমে শীতকালীন সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ১২৫ হেক্টর জমি। এর মধ্যে চরাঞ্চলে আবাদ করা হয়েছে ১ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে। এবছর শীতকালীন সবজি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা হেক্টর প্রতি প্রায় ২০ মেট্রিকটন। এ পর্যন্ত উপজেলার মোট ২ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের শীতকালীন সবজি চাষ হয়েছে। কৃষক বেলাল উদ্দিন ও আলাউদ্দিন জানান, এবার শীতকালীন সবজির বাজারদর ভালো থাকায় তারা আশাবাদী। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আগাম সবজি উৎপাদন সহজ হয়েছে। কাঞ্চননগর ইউনিয়নের কৃষক মোহাম্মদ হাশেম বলেন, “পোকামাকড়ের আক্রমণ ও শ্রমিক সংকটের কারণে বাড়তি মজুরিতে কাজ করাতে হচ্ছে, ফলে খরচ কিছুটা বেড়েছে। তবে বাজারদর ভালো থাকলে সেই খরচ সহজেই উঠে আসে।” হেঁয়াকো বাজারের পাইকারি সবজি ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলম বলেন, “এ অঞ্চলের চরে উৎপাদিত সবজির সারা দেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এসব সবজি তুলনামূলকভাবে কীটনাশকমুক্ত ও একেবারে ফ্রেশ হওয়ায় ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। তাই আমি এখান থেকে সবজি কিনে নগরীর বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করি।”
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু ছালেক জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, “ফটিকছড়ির চরে উৎপাদিত সবজির সারা দেশে সুনাম রয়েছে। কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।”
কাওছার/এদিন/ন্যাশনাল


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









