বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) আফজাল হোসেনের বিরুদ্ধে এবার নারী কেলেঙ্কারিসহ একাধিক গুরুতর ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পসহ রেলের বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে তিনি আগে থেকেই আলোচনা-সমালোচনায় ছিলেন। তবে এবার এক নারীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক এবং প্রতারণার অভিযোগ নতুন করে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সোহেলী আক্তার নামের এক ভুক্তভোগী নারী মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন, অনৈতিক সম্পর্ক রক্ষা এবং পরবর্তীতে প্রতারণার অভিযোগ এনে একটি আইনি নোটিশ (লিগ্যাল নোটিশ) পাঠিয়েছেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর রেলভবনসহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক তোলপাড় ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল বলছেন, আর্থিক দুর্নীতির সমান্তরালে একজন শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ ধরনের নৈতিক স্খলন ও নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ সংস্থার ভাবমূর্তিকে পুরোপুরি ক্ষুণ্ণ করেছে। এই বহুল আলোচিত কর্কর্তার নৈতিক স্খলনের আদ্যোপান্ত নিয়ে ‘এদিন’-এর পাঁচ পর্বের বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের আজ শেষ পর্ব।
সংশ্লিষ্ট সূত্র এবং বিশ্বস্ত সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবীর মাধ্যমে ভুক্তভোগী নারী সোহেলী আক্তার এই লিগ্যাল নোটিশটি পাঠান। নোটিশে উল্লেখ করা হয়- দীর্ঘ সময় ধরে ডিজি আফজাল হোসেনের সাথে ওই নারীর যোগাযোগ এবং ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ডিজি নিজেকে পারিবারিক দূরত্বে আছেন দাবি করে ওই নারীকে বিয়ের মৌখিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন এবং দীর্ঘদিন তাদের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক বজায় থাকে।
পরবর্তীতে রেলের শীর্ষ পদে আসীন এই কর্মকর্তা ওই নারীর সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং সম্পর্ক অস্বীকার করেন। বিষয়টি পারিবারিকভাবে ও সামাজিকভাবে মীমাংসা করার দাবিতেই ওই নারী লিগ্যাল নোটিশের আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানা গেছে। নোটিশে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান না হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
সূত্রমতে, রেলওয়ের ভেতরে-বাইরে এখন প্রধান আলোচনার বিষয় ডিজি আফজাল হোসেনের এই আকস্মিক নৈতিক স্খলনের খবর। এর আগে তার বিরুদ্ধে ওঠা প্রধান অভিযোগগুলো ছিল- পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্পে অনিয়ম। মেগা প্রকল্পটিতে কেনাকাটা, ঠিকাদার নিয়োগ এবং পরামর্শক ফি বাবদ বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। রেলের নিয়োগ, বদলি এবং টেন্ডার বাণিজ্যে একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগও দীর্ঘদিনের।
এই বিস্ফোরক অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা জানতে রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। পরবর্তীতে দপ্তরে গিয়েও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে তার ঘনিষ্ঠ কিছু সূত্র দাবি করেছে, এটি তাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্ত। অন্যদিকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি। সরকারি একজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অত্যন্ত বিব্রতকর। লিখিত কোনো অভিযোগ বা আদালতের নির্দেশনা এলে মন্ত্রণালয় বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেবে।
রেলওয়ের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা বলছেন, একের পর এক দুর্নীতি এবং এখন নারী কেলেঙ্কারির মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠার পরও কেন তাকে দায়িত্বে রাখা হয়েছে, তা বোধ্যগম্য নয়। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তাকে দ্রুত পদ থেকে অপসারণ করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠনের জোর দাবি উঠেছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









