বিশ্বব্যাপী কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের ভূমিকা নগণ্য (মাত্র ০.৪৮ শতাংশের কম) হলেও ভৌগোলিক ও জলবায়ুগত চরমভাবাপন্নতার কারণে বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় সপ্তম স্থানে রয়েছে এই ভূখণ্ড। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উপর্যুপরি প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়, তীব্র দাবদাহ, অসময়ের বন্যা এবং উপকূলীয় অঞ্চলে নজিরবিহীন লবণাক্ততা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক আঘাত হানছে। জলবায়ু পরিবর্তনের এই মহাবিপর্যয় মোকাবেলা করতে বাংলাদেশের প্রতি বছর গড়ে ১২.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন হলেও মিলছে চাহিদার মাত্র ০.৭ শতাংশ। এই চরম আর্থিক সংকটের মধ্যেই গোদের ওপর বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে অভ্যন্তরীণ জলবায়ু তহবিলের নজিরবিহীন দুর্নীতি ও অনিয়ম।
এমতাবস্থায় জলবায়ু পরিবর্তনের মরণফাঁদে পড়া বাংলাদেশের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে যেমন বৈশ্বিক দরবারে জোরালো কূটনীতি প্রয়োজন, তেমনই অভ্যন্তরীণ তহবিলের স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় জাতীয় চ্যালেঞ্জ। কারণ একদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী উন্নত দেশগুলোর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ে বাংলাদেশ জাতিসংঘসহ বিভিন্ন বিশ্বমঞ্চে নেতৃস্থানীয় ভূমিকা পালন করছে, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে বরাদ্দকৃত তহবিলের (ফান্ড) অর্ধেকেরও বেশি অর্থ দুর্নীতি ও অনিয়মের গ্রাসে চলে যাচ্ছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জলবায়ু কূটনীতির সাফল্য ধরে রাখার পাশাপাশি দেশের ভেতরের আর্থিক সুশাসন নিশ্চিত করা না গেলে আগামী কয়েক দশকে দেশের এক তৃতীয়াংশ এলাকা জলবায়ু শরণার্থীর চারণভূমিতে পরিণত হবে। কারণ, বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষয়ক্ষতি এখন আর কেবল পরিবেশবাদীদের তাত্ত্বিক আলোচনার বিষয় নয়, সংখ্যার হিসেবে তা স্পষ্ট ও উদ্বেগজনক।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক তথ্য ও বিশ্ব ব্যাংকের কান্ট্রি ক্লাইমেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সম্প্রতি প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের বহুমুখী অভিঘাত দেশের সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তাকে এক গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি কমে বর্তমানে এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন ২.৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
সাম্প্রতিক কৃষি ও বায়োফিজিক্যাল ক্রপ মডেলিং সংক্রান্ত গবেষণার উপাত্ত বলছে, জলবায়ুর তিনটি প্রধান প্রভাব—তীব্র তাপপ্রবাহ, মৌসুমি বায়ুর অনিয়মিত আচরণ এবং লবণাক্ততার আগ্রাসন- দেশের প্রধান প্রধান ফসল চক্রকে (আমন, বোরো ও আউশ) খাদের কিনারায় দাঁড় করিয়েছে।
এরমধ্যে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ১০.৬ লাখ হেক্টর আবাদি জমি এখন মাঝারি থেকে তীব্র লবণাক্ততায় আক্রান্ত। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও জোয়ারের পানির কারণে লবণাক্ততার এই তীব্র বিস্তারে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বোরো চাষ। প্রাক্কলন বলছে, এর ফলে উপকূলীয় এলাকায় বোরো ধানের উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। উচ্চ-লবণাক্ত অঞ্চলে ইতিমধ্যেই ধানের আবাদ এলাকা প্রায় ৬৯ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। এছাড়া সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রতি বছর গড়ে ৩.৮ থেকে ৫.৮ মিলিমিটার হারে বাড়ছে। ২০৫০ সালের মধ্যে উপকূলের প্রায় ১৭ শতাংশ ভূমি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে, যা প্রায় ২ কোটি মানুষকে “জলবায়ু শরণার্থী”তে পরিণত করবে।
এছাড়া উত্তরাঞ্চলের তাপপ্রবাহ ও পরাগায়ন সংকটও নতুন আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে রাজশাহী ও বরেন্দ্র অঞ্চলে এপ্রিল-মে মাসে বোরো ধানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রাক-ফসল তোলার সময়ে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাচ্ছে। উপাত্তে দেখা যায়, ধানের শীষে ফুল ফোটার অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়ে তাপমাত্রা অবলীলায় ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের থ্রেশহোল্ড অতিক্রম করছে। এর ফলে ফসলে ‘স্পাইকলেট স্টেরিলিটি’ বা চিটা হওয়ার হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে।
অপরদিকে হাওরাঞ্চলের অকাল বন্যা ও সেচ খরচ বৃদ্ধির কারণে উদ্বিগ্ন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে (সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলে) আগের দশকের তুলনায় বর্তমানে প্রায় ১৫ দিন আগেই আকস্মিক বন্যা আঘাত হানছে। ফলে ফসল কাটার ঠিক আগমুহূর্তে সম্পূর্ণ বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে।
অপরদিকে, অনিয়মিত বর্ষার কারণে রবি মৌসুমে সেচের জন্য গভীর নলকূপের ওপর নির্ভরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকের সেচ খরচ ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেড়ে গেছে, যা ক্ষুদ্র চাষিদের চাষাবাদকে অলাভজনক করে তুলেছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ড. জীবন কৃষ্ণ বিশ্বাস এদিনকে বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমাদের আবহাওয়ার ধরন চরম ও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কৃষকেরা একই মরশুমে খরা ও বন্যা—উভয় সংকটের মুখোমুখি হচ্ছেন। যদি আমরা অনতিবিলম্বে স্থানীয় পরিবেশের উপযোগী এবং জলবায়ু-সহিষ্ণু (খরা, বন্যা ও লবণাক্ততা সহনশীল) ফসলের জাত ব্যাপকভাবে মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে না পারি, তবে ২০৩০ সালের মধ্যে আমাদের খাদ্য আমদানির ওপর নির্ভরতা বিপজ্জনক স্তরে পৌঁছাবে।”
এদিকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের ঐতিহ্যগত অবস্থান ও ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণ নিয়েও নতুন করে আলোচনা চলছে। কারণ, বাংলাদেশ দীর্ঘকাল ধরে বিশ্বমঞ্চে ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরাম এবং স্বল্পোন্নত দেশগুলোর পক্ষে জলবায়ু ন্যায়বিচারের অগ্রণী কণ্ঠস্বর হিসেবে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। এজন্য জাতিসংঘের মঞ্চে বাংলাদেশের অবস্থান সবসময়ই স্পষ্ট ও অনড়: “কার্বন নিঃসরণ করবে ধনী বিশ্ব, আর তার মাশুল দেবে উন্নয়নশীল বা ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো—এটি হতে পারে না।”
অন্যদিকে বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় প্রতি বছর ১২.৫ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন অনুভব করলেও ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক উৎস থেকে গড়ে বার্ষিক মাত্র ৮৬.২ মিলিয়ন ডলার পেয়েছে। ২০০৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ২১ বছরে বৈশ্বিক ক্ষতিপূরণ হিসেবে এসেছে মাত্র ১.২ বিলিয়ন ডলার, যা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত সামান্য। তাই জলবায়ুর এই ভয়াবহ ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বাংলাদেশের বিশাল পরিমাণ অর্থায়নের প্রয়োজন। জাতীয়ভাবে প্রণীত ‘ন্যাশনাল অ্যাডাপ্টেশন প্ল্যান ২০২৩-২০৫০’ বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন প্রায় ২৩০ বিলিয়ন (২৩,০০০ কোটি) মার্কিন ডলার। অথচ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এই তহবিল প্রাপ্তি অত্যন্ত ধীর এবং জটিল।
তবে অভ্যন্তরীণ অর্থায়নে গঠিত ‘বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট ফান্ড’ নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। “বাংলাদেশে জলবায়ু অর্থায়নে সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়” শীর্ষক এই গবেষণায় উঠে এসেছে তহবিলের টাকার হরিলুটের চিত্র।
এতে বলা হয়েছে ২০১০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ট্রাস্ট ফান্ডের অধীন ৮৯১টি প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দকৃত অর্থের ৫৪ শতাংশেরও বেশি (প্রায় ২ হাজার ১১০ কোটি টাকা বা ২৪৮ মিলিয়ন ডলার) অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে। তাছাড়া নিয়োগ ও অনুমোদনে ঘুষে বিষয়টিও ওপেন সিক্রেট। কারণ প্রকল্প অনুমোদনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব ও যোগসাজশের মাধ্যমে ১৭.৫ বিলিয়ন টাকা, ঠিকাদার নিয়োগে ৬০ বিলিয়ন টাকা এবং বাস্তবায়ন পর্যায়ে ১২৮ বিলিয়ন টাকা আত্মসাৎ ও ঘুষ লেনদেনের তথ্য মিলেছে।
এ ব্যাপারে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সীমিত সম্পদের মধ্য থেকেও জলবায়ু তহবিলের ২ হাজার কোটিরও বেশি টাকা রাজনৈতিক প্রভাব ও যোগসাজশের মাধ্যমে লুটপাট করা হয়েছে। এই দুর্বল জবাবদিহিতা আমাদের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মুখ পুড়িয়েছে। যদি আমরা অভ্যন্তরীণ ফান্ডের শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে না পারি, তবে বৈশ্বিক গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো আমাদের সরাসরি অর্থায়ন করতে দ্বিধাবোধ করবে। ট্রাস্ট ফান্ডকে অনতিবিলম্বে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করে পেশাদারিত্বের সাথে পুনর্গঠন করতে হবে।
তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক জলবায়ু কূটনীতিতে আমরা উন্নত দেশগুলোর কাছে অনুদানের জন্য জোরালো দাবি জানাচ্ছি এবং বলছি যে তারা যেন আমাদের ঋণের জালে না জড়ায়। কিন্তু আমাদের নিজেদের ভেতরের সুশাসন যদি নিশ্চিত না হয়, তবে কোনো ফান্ডই কাজে আসবে না। ২০২৫ সাল পর্যন্ত আমরা যা পেয়েছি তা তো নগণ্য, কিন্তু যেটুকু এসেছে তার প্রতিটি টাকার ব্যবহার হতে হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং এর জন্য থার্ড-পার্টি কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা আবশ্যক।”
জানা গেছে, জাতীয় ফান্ডের অধীন ৬১.৬ শতাংশ প্রকল্পের মেয়াদ কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে গড় প্রকল্পের সময়কাল ১৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ৪ বছরের প্রকল্প শেষ হতে ১৪ বছর পর্যন্ত সময় লাগার নজির তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক মঞ্চ ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের নেতৃত্ব ও অবস্থান নিয়ে আলোচনা চলছে। কারণ, অভ্যন্তরীণ দুর্নীতিতে ইমেজ সংকটে পড়লেও, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এবং জাতিসংঘের জলবায়ু কূটনীতিতে বাংলাদেশ বরাবরই একটি প্রশংসিত এবং অনুকরণীয় নাম। কারণ বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে প্রান্তিক মানুষের মানবাধিকার রক্ষা এবং ক্ষয়ক্ষতি তহবিলের অর্থ অবমুক্ত করার দাবিতে বাংলাদেশ বৈশ্বিক ফ্রন্টলাইন দেশগুলোর প্রধান কণ্ঠস্বর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
যদিও বাংলাদেশের এই দ্বিমুখী সংকট নিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় পরিবেশবিদ, পানি বিশেষজ্ঞ এবং জলবায়ু গবেষকরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, জলবায়ু অর্থায়ন এবং অভ্যন্তরীণ সুশাসন খুবই জরুরী। এজন্য শুধু অর্থ নয়, অবকাঠামোগত সংস্কার ও ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ বাস্তবায়নেও জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
পানি বিশেষজ্ঞ এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত বলেন, “জাতিসংঘ বা আন্তর্জাতিক সম্মেলনগুলোতে আমাদের জলবায়ু কূটনীতি নিঃসন্দেহে শক্তিশালী। আমাদের শতবর্ষী ‘বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০’ বা বদ্বীপ পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে এর বাস্তবায়ন গতি অত্যন্ত ধীর। উপকূলীয় অঞ্চলের বেড়িবাঁধগুলোকে শুধু উঁচু করলেই হবে না, সেগুলোকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে ‘জলবায়ু-সহনশীল’ করে পুনর্র্নিমাণ করতে হবে। অন্যথায় প্রকল্প শুধু কাগজের কলমেই থাকবে, কাজের কাজ কিছুই হবে না।”
তবে সবকিছু ছাড়িয়ে কৃষি খাতের রূপান্তর ও খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি এখন বহুল আলোচিত। কারণ সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাটের উপকূলীয় ১৯টি জেলার প্রায় ১.০৫ মিলিয়ন হেক্টর আবাদি জমি ইতিমধ্যেই লবণাক্ততায় আক্রান্ত। সেখানে ভূগর্ভস্থ পানির উৎস নষ্ট হওয়ায় নারীদের সুপেয় পানির জন্য প্রতিদিন গড়ে ৪ থেকে ৬ কিলোমিটার হাঁটতে হয়। অতিরিক্ত নোনা পানি ব্যবহারের কারণে নারীদের জরায়ুর রোগ ও উচ্চ রক্তচাপের হার স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ও কৃষি বিজ্ঞানী ড. মো. শাহজাহান কবীর জলবায়ু-সহনশীল কৃষি প্রযুক্তির ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘লবণাক্ততা ও খরা আমাদের কৃষির মূল শত্রু। আমাদের বিজ্ঞানীরা ইতিমধ্যেই লবণাক্ততা-সহনশীল (যেমন- ব্রি ধান ৬৭, ৯৭, ৯৯) এবং খরা-সহনশীল ধানের জাত উদ্ভাবন করেছেন। তবে এগুলো মাঠপর্যায়ে কৃষকদের কাছে দ্রুত পৌঁছানো প্রয়োজন। যদি আমরা সঠিক অভিযোজন ও কৃষি প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ না বাড়াই, তবে জলবায়ুর প্রভাবে ২০৩০ সালের মধ্যে চালের উৎপাদন ১০-১৫ শতাংশ কমে যাওয়ার তীব্র ঝুঁকি রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









