একসময় জুয়াড়িদের খুঁজে পাওয়া যেত পরিত্যক্ত গুদামঘর, নির্জন বাগানবাড়ি কিংবা চায়ের দোকানের পেছনের অন্ধকার কোণে। হাতে থাকত তাস, মুখে বিড়ি, আর চোখেমুখে এক ধরনের রহস্যময় উত্তেজনা। আর এখন? এখনকার জুয়াড়িদের জন্য কোনো নির্জনতা লাগে না, কোনো গোপন আসরও লাগে না। তারা দিব্যি মেট্রো রেলে বসে, কফিশপে প্রেমিকার সামনে, কিংবা বাসের জ্যামে আটকে থেকে, এমনকি নিঝুম রাতে নিজের শোবার ঘরে—মোবাইলের স্ক্রিনে ‘বেট’ বসিয়ে দিচ্ছে। ওপেনে চায়ের দোকানে জটলা বাধিয়ে লুডু খেলায় জুয়ার আসর বসাচ্ছে। ভাগ্যিস স্মার্টফোন আছে। নচেত এদের আবার ঝোপঝাড়ে, আবডালে বসে আসর বসাতে হতো।
এই বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে জাতীয় সংসদে “জুয়া প্রতিরোধ” আইন আনা হয়েছে—যা নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী উদ্যোগ। ১৮৬৭ সালের ব্রিটিশ আমলের সেই পুরোনো “পাবলিং গ্যাম্বিলিং অ্যাক্ট"
বাতিল করে ডিজিটাল যুগের জন্য নতুন আইন প্রণয়ন—এ যেন পুরোনো লাঠি ফেলে আধুনিক অস্ত্র হাতে নেওয়া। “পুরোনো ছাতা দিয়ে নাকি নতুন বৃষ্টি ঠেকানো যায় না।” কিন্তু প্রশ্ন একটাই—আইন কি সত্যিই এই ডিজিটাল জুয়ার নেশাকে থামাতে পারবে? “চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনী।” আর এখনকার অনলাইন জুয়াড়িরা তো শুধু ধর্মের কাহিনীই নয়, আইনের ধমকও খুব একটা পাত্তা দেয় না। তাদের কাছে ভিপিএন যেন আলাদিনের চেরাগ—এক ক্লিকেই দেশ-সীমা পেরিয়ে অন্য জগতে প্রবেশ! মহাভারতের শকুনি মামা পাশা খেলেই কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ বাধিয়েছিলেন। আজকের শকুনি মামারা পাশা নয়, ‘অ্যালগরিদম’ দিয়ে খেলে। বর্তমানের জুয়ার অ্যাপগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাকে বলা হয় ‘গ্যামিফিকেশন’। এটি এক ধরণের ডিজিটাল কারসাজি, যা মানুষের মস্তিষ্কের ডোপামিন হরমোনকে নিয়ন্ত্রণ করে। একজন নতুন খেলোয়াড় শুরুতেই কিছু টাকা জেতে, যা তাকে বোঝায় যে সে খুব দক্ষ। আসলে এটি একটি নিখুঁত ফাঁদ।
নতুন আইনে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। শুনতে বেশ কঠিন, কিন্তু যে লোক প্রতিদিন পাচশত টাকা হারাতে অভ্যস্ত, তার কাছে পাঁচ কোটি টাকার জরিমানা অনেকটা “আকাশ কুসুম কল্পনা”। এই জরিমানার অঙ্ক শুনে কোনো জুয়াড়ি যদি জ্ঞান হারায়, তবে দায়ভার কি রাষ্ট্র নেবে? ডিজিটাল জুয়ার এই জগতটি কেবল বাজি ধরার বিষয় নয়, এটি একটি গাণিতিক ও প্রযুক্তিগত শোষণের মডেল। অ্যাপ নির্মাতারা এমন সব অ্যালগরিদম তৈরি করে যা শুরুতে জেতার আনন্দ দেয় এবং পরবর্তীতে নেশাগ্রস্ত করে সব লুটে নেয়।
অনলাইন জুয়া কেবল সাধারণ অ্যাপ বা ওয়েবসাইটে সীমাবদ্ধ নয়। অনেক ক্ষেত্রে এর সাথে যুক্ত থাকে আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেট। জুয়ার প্ল্যাটফর্মগুলোতে টাকা লেনদেনের সময় ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার করা হয়, যা ট্র্যাক করা অত্যন্ত কঠিন। এছাড়া খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত তথ্য যেমন: পাসপোর্ট, এনআইডি, ব্যাংক কার্ড চুরি করে সেগুলো আন্তর্জাতিক হ্যাকারদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। অর্থাৎ, একজন জুয়াড়ি শুধু নিজের অর্থই হারায় না, সে তার ব্যক্তিগত সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা এমএফএস এর এজেন্টদের একাংশের অসাধু তৎপরতা। এই অসাধু এজেন্টরা জুয়াড়িদের টাকা লেনদেনের পথ প্রশস্ত করে দেয়, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য জুয়ার অর্থপ্রবাহ ট্র্যাক করা দুঃসাধ্য করে তোলে।
জুয়াড়িরা বিভিন্ন ‘এজেন্ট’ ব্যবহার করে টাকা লেনদেন করে, যারা নিয়মিত সিম পরিবর্তন করে লেনদেনের পথ লুকিয়ে রাখে। আইনি কাঠামোতে শুধুমাত্র জুয়াড়িকে ধরার কথা বলা হলেও, এই লেনদেন চক্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা ছাড়া জুয়ার জাল ছিঁড়ে ফেলা অসম্ভব। বর্তমানে জুয়ার প্রচারণার মাধ্যম বদলেছে। সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার বা ছোট ছোট ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিওর মাঝে যেভাবে জুয়ার সাইটের বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়, তা তরুণ প্রজন্মের মনে এই বার্তাই দেয় যে—‘এটি একটি স্বাভাবিক আয়ের উৎস’। অনেক সময় প্রিয় খেলাধুলা বা জনপ্রিয় তারকাদের ইমেজ ব্যবহার করে জুয়ার সাইটের ব্র্যান্ডিং করা হয়, যা তরুণদের নৈতিক বাধাগুলোকে দুর্বল করে দেয়। খেলার মাঠের বাইরে এখন দর্শক মোবাইলে বসে হিসাব করছে—“কোন বলে নো-বল হবে!” বিষয়টা হচ্ছে এমন যে, খেলার আনন্দকে কামড়ে খাওয়া এক অদৃশ্য মশা ভনভন করছে। এই প্রচারণার ধরণ এতটাই সূক্ষ্ম যে, অনেকেই বুঝতে পারে না তারা জুয়া খেলছে। অনেকে মনে করে, তারা ‘অনলাইনে কিছু করছে বা ‘ক্যারিয়ার’ গড়ছে। ইনফ্লুয়েন্সাররা যখন জুয়ার প্ল্যাটফর্মকে ‘স্মার্ট ইনকাম’ হিসেবে উপস্থাপন করে, তখন তা তরুণদের মস্তিষ্কে গেঁথে যায়। এটি একটি সামাজিক অবক্ষয়ের চরম পর্যায়, যেখানে পরিশ্রমের মূল্য কমে গিয়ে জুয়ার মাধ্যমে ভাগ্য পরিবর্তনের আশা প্রধান হয়ে ওঠে।
জুয়া কেবল একটি আসক্তি নয়, এটি দীর্ঘমেয়াদে মানুষের ব্যক্তিত্বকে পরিবর্তন করে দেয়। একজন জুয়াড়ি ধীরে ধীরে মিথ্যা বলায় অভ্যস্ত হয়ে ওঠে, প্রিয়জনদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং সমাজবিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, গ্যাম্বলিং আসক্তরা প্রায়ই ‘ইমপালসিভ ডিসিশন মেকিং’ বা হঠাৎ সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতায় ভোগে। দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির মুখে পড়ে তারা তীব্র হতাশায় ভোগে, যা অনেক ক্ষেত্রে আত্মহত্যার মতো চরম সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেয়। হাসপাতালের মনোবিজ্ঞান বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ইন্টারনেট আসক্তি সংক্রান্ত চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে জুয়া সম্পর্কিত মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা এখন উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। এটি অনেকটা ক্যানসারের মতো—ধীরে ধীরে পুরো মস্তিষ্ক ও জীবনকে গ্রাস করে ফেলে। আসক্তরা তাদের কাজের জায়গা, পরিবারের সম্পর্ক এবং বন্ধুত্বের জায়গা হারিয়ে ফেলে। এই মানুষগুলো তখন এক অদ্ভুত শূন্যতায় ভোগে, যা তাদের আরও গভীর জুয়ার দিকে ঠেলে দেয়।
অনলাইন জুয়ার কারণে দেশের অর্থনীতিতে এক ভয়াবহ ক্ষত তৈরি হচ্ছে। এই জুয়ার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যাচ্ছে। হুন্ডি ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে এই লেনদেনগুলো সরকারি মনিটরিংয়ের বাইরে থেকে যায়। ফলে এটি কেবল ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, জাতীয় অর্থনীতির জন্যও একটি বড় হুমকি। যখন একজন কর্মক্ষম তরুণ তার উপার্জিত অর্থ বা পরিবারের জমানো টাকা এই ভার্চুয়াল নেশায় হারিয়ে ফেলে, তখন সে দেশের উৎপাদনশীলতা থেকে বিচ্যুত হয়। দেশের জিডিপি ও অর্থনৈতিক কাঠামোর ওপর এই অদৃশ্য জুয়া কী পরিমাণ প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে বড় ধরনের গবেষণার সময় এসেছে। এছাড়া জুয়াড়িদের মধ্যে অর্থের অভাব দেখা দিলে তারা চুরি, ডাকাতি ও জালিয়াতির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে, যা সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করছে। আইন যতই কঠোর হোক, প্রয়োগ যদি দুর্বল হয়, তাহলে সেটি কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকবে। বাংলাদেশে সাইবার অপরাধের তদন্তে আমাদের জনবল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এখনো অনেক পিছিয়ে। একটি জুয়ার অ্যাপ বা ওয়েবসাইট বন্ধ করলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নতুন সার্ভার থেকে আরেকটি সাইট চালু হয়। এই ‘ইঁদুর-বিড়াল’ খেলায় কেবল আইন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সাইবার ইন্টেলিজেন্সের জোরদার ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে কোঅর্ডিনেশন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে এখন প্রথাগত তদন্তের বাইরে এসে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কয়েক গুণ বাড়াতে হবে।
বর্তমান ডিজিটাল আইনগুলো কি যথেষ্ট? উত্তর হলো—প্রযুক্তি যে গতিতে পরিবর্তিত হচ্ছে, আইন সেই গতিতে পরিবর্তন করা এবং তার চেয়েও দ্রুত কার্যকর করা বড় চ্যালেঞ্জ। জুয়াড়ির নেশা দূর করতে হলে প্রয়োজন বহুমুখী ও সমন্বিত পদক্ষেপ। পাঠ্যসূচিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও নৈতিকতা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। আমাদের শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই বোঝাতে হবে—ডিজিটাল জগতের সুবিধা কী এবং এর অন্ধকার দিক কী। সন্তানের মোবাইল ব্যবহারের ওপর নজর রাখা এবং সম্পর্কের মাঝে স্বচ্ছতা রাখা। অভিভাবকরা যেন সন্তানের ডিজিটাল আচরণের প্রতি উদাসীন না থাকেন। অর্থপাচার রোধে ব্যাংক ও এমএফএস সংস্থাগুলোকে আরও কঠোর নজরদারি করতে হবে। সন্দেহজনক লেনদেন মাত্রই ব্লক করার ক্ষমতা বাড়াতে হবে। জুয়াকে সামাজিকভাবে বয়কট এবং পরিশ্রমী জীবন দর্শনের প্রচারণা চালানো। মিডিয়া ও নাটকগুলোতে এর কুফল নিয়মিত তুলে ধরা উচিত।
আসক্তদের জন্য সহজলভ্য মানসিক স্বাস্থ্য ও কাউন্সিলিং সেবা নিশ্চিত করা। জুয়াড়িদের অপরাধী না ভেবে অসুস্থ হিসেবে দেখে তাদের সুস্থ করার চেষ্টা করা।
আমাদের সমাজ দ্রুত নগরায়ণের দিকে ধাবিত হচ্ছে, যেখানে মানুষের মাঝে এক ধরণের অস্থিরতা কাজ করছে। মানুষের মধ্যে ‘দ্রুত ধনী হওয়ার’ আকাঙ্ক্ষা অত্যন্ত তীব্র। পুঁজিবাদী সমাজ কাঠামো আমাদের সবসময় শেখায়—‘সাফল্য মানেই টাকা’। এই ভুল ধারণার কারণে তরুণ প্রজন্ম শর্টকাট উপার্জনের নেশায় অনলাইন জুয়াকে পেশা হিসেবে নিতে দ্বিধা করছে না। তারা বুঝতে পারছে না যে, এই অ্যাপগুলো যারা তৈরি করেছে, তারা গণিতের এমন এক মডেল ব্যবহার করছে যেখানে জুয়াড়ির জেতার কোনো সম্ভাবনা নেই—জয় সবসময় অ্যাপ মালিকেরই হয়। মানুষের এই লোভকে পুঁজি করেই ডিজিটাল জুয়ার সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছে।
আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় এখন কেবল ডিগ্রি অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু নৈতিকতা ও জীবনের মৌলিক মূল্যবোধের শিক্ষা অনেকটাই অনুপস্থিত। যদি আমরা একটি সুস্থ প্রজন্ম পেতে চাই, তবে প্রযুক্তি ব্যবহারের সাথে সাথে নৈতিকতার পাঠটি বাধ্যতামূলক করতে হবে। ডিজিটাল জগত সম্পর্কে জ্ঞান না থাকা এবং এর ভয়ংকর অন্ধকার সম্পর্কে অজ্ঞতাই তরুণদের এই মরণফাঁদে নিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মিত কাউন্সেলিং সেশন আয়োজন করতে হবে, যেখানে শিক্ষার্থীরা অনলাইন আসক্তির কুফল সম্পর্কে জানতে পারবে। ডিজিটাল নাগরিকত্ব বা ডিজিটাল সিটিজেনশিপ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
পরিবার হলো একটি শিশুর প্রথম বিদ্যালয়। অভিভাবকরা যদি সন্তানদের ইন্টারনেটের অন্ধকার জগত সম্পর্কে সতর্ক না করেন, তবে রাষ্ট্র একা জুয়া বন্ধ করতে পারবে না। অনেক সময় অভিভাবকরা ভাবেন, সন্তান ঘরে বসে ল্যাপটপ বা মোবাইলে কিছু করছে মানেই সে আধুনিক হচ্ছে বা পড়াশোনা করছে। এই ভুল ধারণাটিই কাল হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অভিভাবক এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে তথ্যের আদান-প্রদান এবং অসাধু এজেন্টদের চিহ্নিত করা রাষ্ট্রের জন্য অপরিহার্য। রাষ্ট্রের উচিত কেবল আইন প্রণয়ন নয়, বরং সচেতনতা তৈরিতে প্রতিটি পরিবারকে সম্পৃক্ত করা।
পরিশেষে বলা যায়—এই নতুন আইন প্রয়োজন, জরুরি, সময়োপযোগী। কিন্তু এটি কোনো জাদুর কাঠি নয়। যদি সমাজ সচেতন না হয়, পরিবার দায়িত্ব না নেয়, প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণে না আসে—তাহলে একদিন হয়তো আমরা আবার নতুন আইন করব। আর তখন শিরোনাম হবে— “আরও কঠোর আইন, আর শকুনি মামার চতুর মোবাইল গেম!”
সেই দিন আসার আগেই যদি আমরা থামতে পারি—তখনি এই আইনের সার্থকতা। অন্যথায়, শকুনি মামা পাশা ছেড়ে মোবাইলে খেলতেই থাকবে— আর আমরা শুধু তাকিয়ে দেখব, কীভাবে মানুষ নিজের ভবিষ্যৎ নিজেই বাজি রাখে। অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সংগ্রাম তাই শুধু আইন দিয়ে নয়—চাই সচেতনতা, মানবিকতা এবং প্রযুক্তির সঠিক দিকনির্দেশনা। আজ যারা তরুণ, তারাই আগামী দিনের বাংলাদেশ। তাদের ভবিষ্যৎ রক্ষা করতেই হবে এখনই। কারণ একটি প্রজন্ম যদি হারিয়ে যায়, তার মূল্য শুধু অর্থ দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। সমাজের ভবিষ্যৎ, দেশের অগ্রগতি এবং পরিবারের সুখ—সবই তখন অনিশ্চয়তার অন্ধকারে ডুবে যাবে।
লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









