বর্ষা আসার সঙ্গে সঙ্গে দেশজুড়ে ডেঙ্গু এবং হাম ও এর উপসর্গের প্রকোপ বাড়ছেই। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরো তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময় ডেঙ্গু নিয়ে ২৫১ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন হাসপাতালে। এ নিয়ে চলতি মাসের প্রথম আটদিনে চারজন ও চলতি বছর রোগটিতে মোট ২২ জনের মৃত্যু হলো। এর মধ্যে গত জুন মাসে প্রাণ গেছে সর্বোচ্চ ১৩ জনের।
আর চলতি মাসের আটদিনে শনাক্ত ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৪৫৩ জনে। জুনে দুই হাজার ৯০৭ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়, যা মাসওয়ারি হিসাবে সর্বোচ্চ। অন্যদিকে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হাম রোগের উপসর্গে সারা দেশে মারা গেছে আরও তিনজন শিশু। এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে গত ১১৫ দিনে হাম ও ভাইরাসজনিত রোগটির উপসর্গে মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৪৫ জনে। তাদের মধ্যে হামে আক্রান্ত ছিল ৯৩ জন আর সন্দেহজনক হাম রোগের লক্ষণ নিয়ে মারা গেছে বাকি ৬৫২ জন।
ডেঙ্গু বাড়ছে ভয়াবহ হারে: এখনো ডেঙ্গুর পুরোপুরি মৌসুম না এলেও হাসপাতালে প্রতিদিনই মিলছে ডেঙ্গু রোগী। মশাবাহিত এই রোগটিতে চলতি বছরে ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত আক্রান্ত সাত হাজার ৫৫৭ জন রোগীর ৬১ দশমিক পাঁচ শতাংশ পুরুষ ও ৩৮ দশমিক পাঁচ শতাংশ নারী। এই বছর মারা যাওয়া ২২ জনের ৫২.৬ শতাংশ পুরুষ ও ৪৭.৪ শতাংশ নারী। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু সংক্রান্ত বুলেটিনে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার সকাল আটটা থেকে গতকাল বুধবার সকাল আটটা পর্যন্ত সারা দেশে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ২৫১ জন ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে সর্বোচ্চ ৬৬ জন বরিশাল বিভাগের। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটির হাসপাতালে ৩৩ জন ও উত্তর সিটির হাসপাতালে ২৪ জন ভর্তি হয়েছেন।
এছাড়া চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে ৪০ জন, সিটি করপোরেশন ছাড়া ঢাকা বিভাগে ১৯ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ১২ জন ও সিলেট বিভাগে দুজন রয়েছেন। এদিকে ২৪ ঘণ্টায় ১৯৯ জনসহ এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ছয় হাজার ৮৭৫ জন।
হাম উপসর্গে তিন শিশুর মৃত্যু: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুমের হাম বিষয়ক প্রতিবেদনে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার সকাল আটটা থেকে গতকাল বুধবার সকাল আটটা পর্যন্ত হামের উপসর্গে মৃত তিনজন শিশুই ঢাকা বিভাগের। জেলা হিসেবেও ঢাকায় সর্বোচ্চ তিনজন শিশু মারা গেছে। ওই একদিনে হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ৭৯৬ জন শিশু, যাদের ৭৪৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১০৬ জন শিশুর শরীরে। এ নিয়ে চলতি বছরে রোগটির উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক লাখ আট হাজার ১৮০ জনে আর ১৩ হাজার ৭০ জন শিশুর শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। এতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাাঁড়িয়েছে এক লাখ ২১ হাজার ২৫০ জনে। চলতি বছরে এ পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ২৮৩ জন ও নিশ্চিত হামে ৫৬ জন শিশু মারা গেছে ঢাকা বিভাগে।
এছাড়া রাজশাহী বিভাগে ৮৯, সিলেটে ৮৬, ময়মনসিংহে ৬২, চট্টগ্রামে ৫৩, বরিশালে ৪১, খুলনায় ২৯ এবং রংপুরে নয়জন শিশু রোগটির উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। আক্রান্তের ক্ষেত্রেও ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি। এ বিভাগে হাম ও উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ৫৭ হাজার ২৮৫ জন।
অন্যদিকে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া ৭৮৪ জন শিশু হাসপাতাল থেকে ছুটিও পেয়েছে। সারাদেশে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক ও হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ৯১ হাজার ২৭০ জন শিশু, যাদের ৮৭ হাজার ৬২৮ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









