নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হলেও ক্ষমতার কয়েক মাসের মাথায়ই নানামুখী বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছেন রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মণ্ডল। দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন, বিতর্কিত ব্যক্তিবর্গের পুনর্বাসন, ক্ষমতার অপব্যবহার করে ডিও লেটার প্রদান এবং স্বজনদের মাধ্যমে বিলে পুকুর খননের অভিযোগে এখন তোলপাড় পুরো পুঠিয়া-দুর্গাপুর। ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়ন আর হাইব্রিড বলয় তৈরির মাধ্যমে তিনি দলের রাজনীতিতে নতুন সংকট তৈরি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এনিয়ে রাজশাহী জেলা বিএনপি ও স্থানীয় তৃণমূল রাজনীতির অভ্যন্তরে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। দলীয় হাইকমান্ডের নীতিকে তোয়াক্কা না করে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তারের এই রাজনীতি তৃণমূল বিএনপির ভিত নড়বড়ে করে দিচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতারা।
জানা গেছে, রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে প্রায় চার লাখ মানুষের বসবাস। রাজনৈতিক গুরুত্বের দিক থেকে রাজশাহী জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই আসন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর জনপ্রিয় ও অভিজ্ঞ নেতা প্রয়াত নাদিম মোস্তফার মৃত্যুর পর এই আসনে রাজনৈতিক শূন্যতা সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও তৃণমূলভিত্তিক একজন নেতাকে হারিয়ে দলীয় নেতাকর্মীরা হয়ে যান দিশেহারা। পরবর্তীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে এই আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন নজরুল ইসলাম মন্ডল। তবে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ উঠতে শুরু করে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন, অসৌজন্যমূলক আচরণ, সরকারি বরাদ্দ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের নেতাদের পুনর্বাসনের বিতর্ক এবং আত্মীয়দের মাধ্যমে ফসলি জমিতে পুকুর খননের মতো নানা অভিযোগ এখন স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
তৃণমূল নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়নের অভিযোগ
স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতাকর্মীর অভিযোগ, সংসদ সদস্য হওয়ার পর নজরুল ইসলাম মন্ডল দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করেননি। বরং দলের দুঃসময়ে নিষ্ক্রিয় থাকা কিংবা নতুন যোগ দেওয়া ব্যক্তিদের প্রতি বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে বলে দাবি তাদের। দূর্গাপুর পৌরসভা মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের সভাপতি রেজাউল করিম বলেন, “নজরুল ইসলাম মন্ডল এমপি হওয়ার আগে তার উপরে আমাদের আস্থা ছিল যে তিনি দলের জন্য কাজ করবেন। কিন্তু তিনি নির্বাচিত উল্টো আমাদের উপরে আরো হয়রানি করেছেন। তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের তিনি চিনেনই না। আমাদের কারো সাথেই তিনি এখন আর যোগাযোগ রাখে না। একজন এমপি হয়ে যদি তিনি এইরকম আচরণ করেন তাহলে তো বিষয়টা আমাদের জন্য অনেক কষ্টের বিষয়।”
ত্রাণ তহবিল নিয়ে প্রশ্ন তোলায় বহিষ্কারের অভিযোগ
গত জুন মাসে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের ঈদ উপহারের অর্থ বিতরণকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, এমপির পছন্দের ব্যক্তিদের মধ্যে অর্থ বিতরণের তালিকা করা হয়েছিল। এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলার পর দুর্গাপুরে ছাত্রদলের দুই নেতা এবং মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের দুই নেতাকে এমপির নির্দেশে বহিষ্কার করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। বহিষ্কৃতরা হলেন দুর্গাপুর পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক আল আমিন রিমন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সোহাদ আলী, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের দুর্গাপুর পৌর শাখার সভাপতি রেজাউল করিম এবং সিনিয়র সহ-সভাপতি সজিব আলী। দুর্গাপুর পৌর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সোহাদ আলী বলেন, “গত ঈদে আমরা ত্রাণ তহবিলের টাকা বিতরণের বিষয়ে জানতে চেয়েছিলাম। এরপর এমপির নির্দেশে আমাদের বহিষ্কার করা হয়। যদি বিতরণে স্বচ্ছতা থাকত, তাহলে আমাদের বহিষ্কার করা হতো না। আমরা মনে করি সেখানে অনিয়ম ছিল বলেই প্রশ্ন তোলায় আমাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া এমপি আমাদের ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদেরও ঠিকমতো চেনেন না।”
আ’লীগের নেতাদের পুনর্বাসনের অভিযোগ
পুঠিয়া-দুর্গাপুরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিএনপিতে পুনর্বাসনের অভিযোগও উঠেছে সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মন্ডলের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি দুর্গাপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণার পরই শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা দাবি করেন, যারা গত ১৭ বছর বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন না, বরং আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন, তাঁদেরই নতুন কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এমপির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব জোবায়েদ হোসেনের তত্ত্বাবধানে জনয়নগর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডে দুটি করে পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। একটি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সান্টুর অনুসারী এবং অন্যটি সাধারণ সম্পাদক জাকিরের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য, একটি ওয়ার্ডে দুটি কমিটি গঠন সংগঠনের জন্য নেতিবাচক দৃষ্টান্ত এবং এতে দলীয় বিভক্তি আরও বেড়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন কমেটিতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ব্যাক্তিদের বিএনপির কমেটিতে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
‘আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ’ব্যক্তিকে ঘিরে বিতর্ক
স্থানীয়ভাবে পরিচিত ব্যবসায়ী আতিকুর রহমানকে ঘিরেও নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির একাংশের অভিযোগ, তিনি আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ দারার ঘনিষ্ঠ ও অর্থের যোগানদাতা ছিলেন। বর্তমানে তিনিই সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মন্ডলের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে দুই উপজেলায় বিভিন্ন আর্থিক বিষয় সমন্বয় করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পুঠিয়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও আতিকুর প্রভাবশালী ছিলেন। সে আওয়ামী লীগের এমপি আব্দুল ওয়াদুদ দারা’র ডোনার ছিল।সরকার পরিবর্তনের পরও তাঁর অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। এখন সে বর্তমান এমপি নজরুল ইসলাম মন্ডলেরও ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। এমনকি বিএনপি থেকে পৌরসভা নির্বাচনের প্রস্তুতিও নিচ্ছেন বলে শুনছি। এভাবে এমপি নজরুল ইসলাম মন্ডল বিভিন্ন ইউনিয়নে হাইব্রিড বিএনপি তৈরী করছেন। আমাদের দলের ত্যাগী নেতাদের তিনি চিনেন না।”তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আতিকুর রহমান বলেন,“আামি প্রায় ৩০ বছর থেকে ব্যবসার সাথে জড়িত। এমপি নজরুল মন্ডল আমার নানা হোন। আমাকে নিয়ে যেগুলো অভিযোগ তোলা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।”
আত্মীয়দের মাধ্যমে পুকুর খননের অভিযোগ
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম মন্ডলের আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে পুঠিয়া উপজেলার বিভিন্ন বিলে ফসলি জমিতে পুকুর খনন করা হচ্ছে। অভিযোগে যাঁদের নাম এসেছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন রিকো মন্ডল, কুসুম মন্ডল, ও রানা মন্ডল। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও ফসলি জমিতে পুকুর খনন অব্যাহত রয়েছে, যা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুঠিয়া উপজেলা বিএনপির এক নেতা বলেন, “ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় যেভাবে পুকুর খনন হয়েছিল, আমরা ভেবেছিলাম সরকার পরিবর্তনের পর তা বন্ধ হবে। কিন্তু এখন এমপির আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমেই পুকুর খনন হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে তো এতে দলের বদনাম হচ্ছে।”
তবে পুকুর খননের বিষয়ে অস্বীকার করেন এমপির আত্নীয় রিকো। পুকুর খননের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা সবসময় পুকুর খননের বিরুদ্ধে। কোথাও পুকুর খনন হোক আমরা এটা চাইনা। যারা আমাদের নাম বলছে তারা আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। আমাদের বর্তমান এমপি নির্দেশ দিয়েছেন কোথাও যেন পুকুর খনন না হয়।”সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুঠিয়া উপজেলার শিলমাড়িয়া সহ দুই উপজেলার বিভিন্ন বিলে এখনো পুকুর খনন চলছে। প্রশাসনের চোঁখ ফাঁকি দিয়েই প্রভাবশালীরা নিয়মিত ফসলি জমি স্কেভেটার মেশিন দিয়ে পুকুর খনন করছে।
পুকুর খননে ডিও লেটার
দুর্গাপুরে ‘সাংবাদিক সমাজের উন্নয়নের’জন্য পুকুর খননের একটি আবেদনপত্রের সুপারিশে এমপি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম মণ্ডলের ডিও লেটার (আধাসরকারি পত্র) দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে বির্তক সৃষ্টি হয়েছিল। যেখানে সরকার থেকেই পুকুর খনন নিষিদ্ধ সেখানে একজন এমপি পুকুর খননে ডিও লেটার প্রদান করেন, এটিকে অনেকে ক্ষমতার অপব্যবহার বলেও মনে করেছেন।
আ.লীগ নেতাকর্মীদের মামলা প্রত্যাহারে সুপারিশ
দণ্ডপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মামলা প্রত্যাহারের জন্য সুপারিশ করেছিলেন এমপি নজরুল ইসলাম মন্ডল। পারিবারিক বিরোধের মামলা রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহারের জন্য তিনি জাতীয় সংসদের প্যাডে দিয়েছিলেন প্রত্যয়নপত্র। এমপি নজরুল দণ্ডপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মামলা প্রত্যাহারে সুপারিশ করায় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ এবং অসন্তোষ দেখা দিয়েছিল সেইসময়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে উঠে তোলপাড়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২১ সালের ৩১ মে নির্যাতন এবং বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনায় পরের দিন ১ জুন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের ১২ নেতাকর্মীর নামে রাজশাহীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এ মামলা করেন জেলার দুর্গাপুর উপজেলার নামুদরখালি সোনারপাড়ার গোলাম মোস্তফা। এ মামলার এক নম্বর আসামি শহীদুল দেলুয়াবাড়ী ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য সচিব। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি সাহার চার নম্বর আসামি। ১০ নম্বর আসামি সৈয়দ আলী যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।
তিন নম্বর আসামি জেকের মোল্লা এবং আবু তালেব ওয়ার্ড কমিটির সদস্য। এছাড়া বাকি পাঁচ আসামি আওয়ামী লীগ এবং যুবলীগের সক্রিয় সদস্য ও সমর্থক। এ মামলার রায় ২০২২ সালের ৫ ডিসেম্বর ঘোষণা করেন আদালত। রায়ে আদালত প্রত্যেককে দুই বছর করে কারাদণ্ডাদেশ দেন। আসামিরা রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা অবস্থায় জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আপিল করেন। এক মাস পরে জামিন পান।
গত মে মাসে আসামিরা মামলা প্রত্যাহার এবং সাজা মওকুফ করার জন্য রাজশাহী জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেছেন। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ২৫ মে রাজশাহী-৫ আসনের এমপি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম জাতীয় সংসদের প্যাডে উল্লেখ করেন, ‘মামলার আসামিরা জাতীয়তাবাদী দলের সক্রিয় সদস্য। বাদী কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সক্রিয় সদস্য এবং শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এ মামলা করেছেন। রাজনৈতিক কারণে হয়রানিমূলক বিবেচনায় মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য সুপারিশ করছি।’
এমপির এমন কর্মকান্ডে তখন বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছিল।
পুঠিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় কমেটির সদস্য আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন,“আমাদের বতর্মান এমপির বিরুদ্ধে অভিযোগের শেষ নেই। তিনি বিএনপি নেতাকর্মীদের চিনে না। যারা ফ্যাসিস্ট্র আওয়ামী লীগের সময়ে জেল-জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছিল তাদেরও কোন মূল্যায়ন নাই এমপির কাছে। ত্রাণ তহবিল দুই উপজেলায় ১০ লাখ টাকা এসেছিল। এই টাকার হিসাব চাওয়ায় তিনি ছাত্রদলের নেতাদের বহিস্কার করান। এছাড়াও আাওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিএনপিতে নিয়ে এসে ত্যাগীদের কোণঠাসা করছেন আমাদের বর্তমান এমপি নজরুল ইসলাম মন্ডল। তার আত্নীয় স্বজনেরাই এখন বড় বিএনপি।”
যা বলছেন নজরুল ইসলাম মন্ডল
সার্বিক বিষয়ে জানতে এমপি নজরুল ইসলাম মন্ডলকে প্রায় ২৬ বার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে ব্যাক্তিগত সহকারীর মাধ্যমে উনাকে ফোনে পাওয়া যায়। উনার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ গুলো জানালে তিনি সবগুলো অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,“আমি বিএনপির এমপি। বিএনপিকে সুসংগঠিত করতে যা যা করার দরকার তা আমি করছি। আমার দুই উপজেলায় আমার জনপ্রিয়তা আছে বলেই আমি ৮০ হাজার ভোটে পাশ করেছি। আমার চেয়ে ত্যাগী নেতা আর কে আছে? আমি জেল খেটেঁছি, আমার ছেলে ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে জেল খেঁটছে। দলের জন্য আমরা সবসময় কাজ করেছি।”
আত্নীয়স্বজনেরা ফসলি জমিতে পুকুর খনন করছে, এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি সবসময় পুকুর খননের বিরুদ্ধে। উপজেলা প্রশাসন এবং পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া আছে পুঠিয়া-দূর্গাপুরের কোথাও কোন জায়গায় পুকুর খনন হবে না। আর আমার আত্নীয় স্বজন পুকুর খনন করছে এটি অবাস্তব কথা। আমার জানামতে তারা কোথাও কোন পুকুর খনন করেনি বরং কোথাও পুকুর খনন হলে তারা বন্ধ করতে বলে।” এখনও দুই উপজেলার বিভিন্ন বিলে পুকুর খনন হচ্ছে জানালে এমপি নজরুল ইসলাম মন্ডল বলেন,“এখন সংসদ চলছে। আমি ঢাকায় আছি। রাজশাহী গেলে এই বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









