ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর প্রধান পরাগ জৈনের ঢাকা সফর নিয়ে অযথা ‘জল্পনা-কল্পনা’ না করার পরামর্শ দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তিনি বলছেন, বাংলাদেশের ডিজিএফআই প্রধান যেমন কিছুদিন আগে ভারতে গিয়েছিলেন, সেরকম সরকারি সফরে ‘র’ প্রধান এবার ঢাকায় এসেছেন।
এটা দুই প্রতিবেশী দেশের স্বাভাবিক যোগাযোগের অংশ। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও অর্জন নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার তথ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তথ্য উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, ‘র’-এর যিনি এসেছেন, প্রধান এসেছেন, তাকে নিয়ে প্রচুর স্পেকুলেশন দেখছি। তিনি চায়না থেকে ঢাকায় এসেছেন। এটাও তার এক ধরনের সফর এবং আমাদের যে কাউন্টারপার্ট আছে তার সাথে বসবেন। সরকার যদি মনে করে সেই সফরের পর কোনো একটা স্টেটমেন্ট হয়তো দেওয়া হবে। কিন্তু এটা নিয়ে স্পেকুলেশনের কিছু নেই।’
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘অনেকে এমন ভাব করছেন, যে গোপন। (অথচ) সবাই সব জানেন, পত্রিকায় সব চলে এলো। কিন্তু এরকম কথা নেই, কোনো ব্যাপারই নেই, যেমন আমাদের যিনি গোয়েন্দা প্রধান আছেন তিনি তো ভারতে গিয়েছিলেন।’
পরাগ জৈন ভারতের বহিঃগোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ের (আরএডব্লিউ বা র) সেক্রেটারির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ বা এসপিজির স্পেশাল সেক্রেটারির দায়িত্বে রয়েছেন। দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টার মধ্যে গত রবিবার দুপুরে তিনি সরকারি সফরে ঢাকা পৌঁছান। ঢাকা সফরে তার সঙ্গে রয়েছেন অশ্বীন মুকুন্দ কোটনিস, রাহুল নেগি এবং শৈবাল রায় চৌধুরী।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘একটা কথা আমি একটু ক্লিয়ার করতে চাই, জনাব ত্রিবেদী, (দীনেশ ত্রিবেদী) হাই কমিশনার কিন্তু তার বক্তব্যে এই কথাটা বলেছেন, যে কথাটা আমরা সবসময় বলি, আমাদের তো প্রতিবেশী পাল্টানো যাবে না। এটা পররাষ্ট্রনীতিতে বলা হয়, বন্ধু পাল্টানো যায়, কিন্তু প্রতিবেশী পাল্টানো যায় না। সো আমাদের তো আসলে এনগেজ করতে হবে।’
ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ‘ঠিকঠাক’ করার প্রত্যাশা তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, ‘নতুন করে আমাদের সম্পর্ক রিঅ্যালাইন—আমি বারবার রিঅ্যালাইনমেন্টের কথা বলছি। কারণ আগে যেভাবে ভারত বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক তৈরি করতে চেয়েছে, টু সাম পার্টি অর টু সাম পার্সন, স্পেসিফিক্যালি একজন মানুষের প্রতিই তারা সম্পর্ক করতে চেয়েছে, সেটা না হয়ে এখন জনগণের সাথে হতে হবে।’
জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘ভারতের বক্তব্যে আমরা অন্তত এই আলাপটা এখন দেখছি, তারা জনগণের সাথে সম্পর্কের কথা বলছেন। সুতরাং সেটা ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা, আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা, তাদের যেসব কাউন্টারপার্ট যারা আছে, তাদের মধ্যে এনগেজমেন্ট, তাদের মধ্যে কথাবার্তা এগুলো তো হতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘ব্যাপারটা হচ্ছে এই, ভারতের কোনো সংস্থা, কোনো প্রতিষ্ঠান আগে যেভাবে বাংলাদেশে কাজ করেছে—আমি হাসিনার আমলের কথা বলছি—যে ধরনের অ্যাটিটিউড করেছে, সেটা হতে পারবে না, আমরা আলাপ করছি সেটা।’
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘একটা স্বাধীন, সার্বভৌম, আত্মমর্যাদাশীল জাতির সাথে যেভাবে আচরণ করতে হয়, কথা বলতে হয়... ভারতের নিরাপত্তা নিয়ে তাদের কোনো বক্তব্য থাকতে পারে, আমাদেরও থাকতে পারে। এগুলো নিয়ে আলাপ-আলোচনা হবে। কিন্তু ওই যে বললাম, দুটো স্বাধীন, সার্বভৌম দেশ আলাপ করছে, এভাবে এটা হতে হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সার্বিক অগ্রগতিও তুলে ধরেন উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. আলম মোস্তফা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
‘বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন করে তৈরি হবে’
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান আরো বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক নতুন করে তৈরি হবে। গত ১৭ বছর যেভাবে সম্পর্ক ছিল, সেখান থেকে বেরিয়ে সমতার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে। সাবেক স্বৈরাচারী শাসক শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকার সময়ের মতো ভারতের কোনো সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানকে বাংলাদেশে কাজ করতে দেওয়া হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন থেকে সবকিছু স্বাধীন, সার্বভৌম ও আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে আলোচনার মাধ্যমে করা হবে।
‘প্রধানমন্ত্রী যে কোনো সময় ভারতে যেতে পারেন’
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিমসটেকের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। এ ছাড়া ভারতের পক্ষ থেকেও আলাদাভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আর প্রধানমন্ত্রী যে কোনো সময় ভারতে যেতে পারেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, তাকেও দেশে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা দেওয়া হবে। সবচেয়ে বীভৎস মানুষটাও তার নাগরিক অধিকার পাবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









