কুষ্টিয়ায় রোপণ আমন চাষের শুরুতেই সার সংকটের মুখোমুখি হয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। প্রকারভেদে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কেজিতে ৫ থেকে ৯ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে সার বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে খুচরা বিক্রেতা ও ডিলারদের বিরুদ্ধে। বিশেষ করে ইউরিয়া, টিএসপি এবং এমওপি (পটাশ) সারের ক্ষেত্রে ইচ্ছেমতো দাম হাঁকানো হচ্ছে।
আমনের এই ভরা মৌসুমে ডিলারদের দোকানে গিয়ে বারবার খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী চাষিরা। সাঈদ হাসান নামে এক আমন চাষি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সার কিনতে গেলে দোকান থেকে ৪-৫ দিন পর আসতে বলা হয়। কিন্তু নির্দিষ্ট দিন পার হয়ে গেলে বলা হয় সার শেষ হয়ে গেছে। কৃষকদের অভিযোগ, মূলত সার গুদামে বা অন্যত্র মজুত করে রেখে রাতের আঁধারে ভ্যানে করে তা খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বেশি দামে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ড্যাপ সারের কেজি সরকারিভাবে ২৫ টাকা নির্ধারিত থাকলেও খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা কেজি দরে।
একই ধরনের অভিযোগ করেন নিজাম নামে অন্য এক চাষি। ডিলারদের কাছে সময়মতো সার না পেয়ে ক্ষোভ জানিয়ে ডিলারদের দোকানে না পাওয়ার আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি। কুমারখালী উপজেলার বাঁঝগ্রামের আমন চাষি রুস্তম আলী শেখ জানান, সেখানেও ডিলারদের কাছ থেকে চড়া দামে সার কিনতে হচ্ছে। ড্যাপের কেজি ২৫-২৬ টাকা এবং ইউরিয়া ৩২ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে। অনেক কৃষক সরকারের সঠিক মূল্যতালিকা ও সাম্প্রতিক দর পরিবর্তন সম্পর্কে না জেনে বাধ্য হয়েই চড়া দামে সার কিনছেন।
এদিকে খুচরা সার বিক্রেতা তপন জানান, ডিলাররাই আগে সারের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। পেঁয়াজ উঠার পর থেকেই ডিলাররা সার সংকট দেখিয়ে প্রতি বস্তায় সরকারি দামের চেয়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি রাখছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে বাড়তি দামে সার সংগ্রহ করায় খুচরা বিক্রেতারাও বেশি দামে সার বেচতে বাধ্য হচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তবে এই ধরনের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সার ডিলাররা। ডিলার শফিকুল ইসলাম দাবি করেন, অতি সীমিত লাভে সার বিক্রি করা হচ্ছে। তাঁর ভাষ্যমতে, প্রতি বস্তা ইউরিয়া সারের সরকারি মূল্য ১২৫০ টাকা, ডিএসপি ১২৫০ টাকা, ডিএপি ৯৫০ টাকা এবং এমওপি ৯০০ টাকা। ডিলারদের বস্তাপ্রতি ১০০ টাকা পরিবহন খরচ দেওয়া হয়। খুচরা দোকানগুলোতে কৃষকরা বাকিতে সার কেনায় ৬ মাস বা ১ বছর পর টাকা পরিশোধ করার কারণে তারা কেজিতে ২-৩ টাকা বেশি আদায় করতে পারে।
অতিরিক্ত দাম নেওয়ার বিষয়টি জানা নেই বলে জানিয়েছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক ওয়াহিদুজ্জামান জানান, সারের দাম বেশি নেওয়ার কোনো তথ্য তাঁদের কাছে ছিল না। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে তারা অবিলম্বে তদন্ত করে দেখবেন এবং ডিলার ও সাব-ডিলাররা কোনো অনিয়ম করছেন কি না তার সতত্যা যাচাই করবেন।
ডিলার, খুচরা বিক্রেতা ও কৃষি বিভাগ পাল্টাপাল্টি দায় এড়ালেও শেষ পর্যন্ত সারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছেন সাধারণ কৃষকরাই। রোপণ আমন মৌসুমের শুরুতে সারের ন্যায্যমূল্য ও সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা না গেলে চাষিরা ধান চাষে আগ্রহ হারাবেন বলে মনে করেন স্থানীয় কৃষক নেতারা। সারের বাজার নিয়ন্ত্রণে ও কৃষকদের লোকসান থেকে বাঁচাতে সরকারের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তাঁরা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









