গর্ভবতী মা, প্রসূতি ও নবজাতকের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর হার কমানোর লক্ষ্যে গাজীপুরের প্রহলাদপুর ইউনিয়নের দমদমা গ্রামে নির্মাণ করা হয়েছে ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্র। নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে প্রায় দুই বছর আগে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ ভবন, রোগীর শয্যা, জেনারেটর, এসি, ফ্যান, চেয়ার-টেবিলসহ প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রও রয়েছে। তবে প্রশাসনিক অনুমতি না থাকায় এখনো চালু হয়নি হাসপাতালটি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হাসপাতালটি চালু না হওয়ায় দমদমাসহ আশপাশের প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। চিকিৎসার জন্য তাদের গাজীপুর জেলা শহরসহ দূরের হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি নানা ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে রোগী ও স্বজনদের।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অধীনে প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টির মান উন্নয়ন ও টিকাদান কর্মসূচি জোরদারের পাশাপাশি মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন পর্যায়ে এ ধরনের স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপন করা হয়। এরই অংশ হিসেবে ২০২২ সালে প্রহলাদপুর ইউনিয়নের দমদমা গ্রামে ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু স্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
স্থানীয়দের দান করা ৪৩ শতাংশ জমির ওপর স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে ৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে হাসপাতালটির নির্মাণকাজ করা হয়।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হ্যাভেন এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স রুপালী এন্টারপ্রাইজ নির্মাণকাজ শেষ করার পর ২০২৪ সালের জুন মাসে এটি পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস ছাত্তার বলেন, ‘আমাদের গ্রামের কয়েকজন মিলে হাসপাতাল নির্মাণের জন্য ৪৩ শতাংশ জমি দান করেছেন। এখানে আধুনিক ভবনসহ সবকিছু করা হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত চিকিৎসকের দেখা পেলাম না। কী কারণে হাসপাতালটি চালু হচ্ছে না, সেটিও আমাদের বোধগম্য নয়। এখন আমাদের গাজীপুর জেলা শহরে গিয়ে চিকিৎসা করাতে হয়। এতে সময় ও অর্থ দুটোই বেশি লাগে।
হাসপাতালটি চালু হলে আমরা সহজে ও কম খরচে চিকিৎসাসেবা পেতাম। আমরা চাই, সরকার দ্রুত হাসপাতালটি চালুর ব্যবস্থা করুক।’দমদমা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রহিম বলেন, ‘হাসপাতালটি চালু হলে সীমান্তবর্তী তিন উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ সহজেই চিকিৎসাসেবা পেতেন। এত সুন্দর আধুনিক ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র ও সরঞ্জামও দেওয়া হয়েছে। শুধু প্রশাসনিক অনুমতির কারণে হাসপাতালটি চালু হচ্ছে না। এটি দ্রুত চালু করা দরকার।’
স্থানীয় বাসিন্দা মোতাহার হোসেন পালোয়ান বলেন, ‘আমাদের গ্রামের মানুষ বড় আশা নিয়ে হাসপাতালটির জন্য জমি দান করেছিলেন। কিন্তু তাদের সেই আশা পূরণ হয়নি। হাসপাতালটি চালু হলে দমদমা, নলগাঁও, চিনাশুকানিয়া, দরপাড়াসহ আশপাশের প্রায় ২০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ হাতের নাগালে চিকিৎসাসেবা পেতেন। সরকারের কাছে দাবি, দ্রুত হাসপাতালটি চালু করা হোক।’
হাসপাতালটির দেখভালের দায়িত্বে থাকা সহকারী নার্সিং অ্যাটেনডেন্ট জোবাইদা আক্তার রিমা বলেন, তিনি এখানে ডেপুটেশনে কর্মরত রয়েছেন। তবে দুই বছরের বেশি সময় ধরে কোনো বেতন-ভাতা না পাওয়ায় তিনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এত বড় হাসপাতালে একা থাকাকেও তিনি অনিরাপদ মনে করছেন।
গাজীপুর জেলার স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শিহাব উদ্দিন বলেন, দমদমা গ্রামের ১০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি নির্মাণে ৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ২০২৪ সালের জুন মাসে পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের কমিটির মাধ্যমে হাসপাতালটি হস্তান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে গাজীপুর পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক আবু তাহের মো. সানাউল্লাহ নুরী বলেন, ‘প্রশাসনিক অনুমতি না থাকায় হাসপাতালটি চালু করা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরকে অবহিত করে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত সময়ের মধ্যেই হাসপাতালের কার্যক্রম চালু হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









