আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় যুব র্যালি ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী হাতিয়া উপজেলা শাখার যুব বিভাগ। তারুণ্যের শক্তিকে ইতিবাচক কাজে সম্পৃক্ত করা, নৈতিক অবক্ষয় রোধ এবং দেশ গঠনে যুবসমাজের ভূমিকা জোরদারের আহ্বানে বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সকালে হাতিয়া প্রেসক্লাবের সামনে থেকে র্যালিটি শুরু হয়। পরে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা মডেল মসজিদের সামনে গিয়ে শেষ হয়। র্যালিতে জামায়াতের যুব বিভাগের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা অংশ নেন। এ সময় তাদের হাতে বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
র্যালি শেষে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, একটি দেশের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করে তারুণ্যের সঠিক বিকাশের ওপর। অথচ বেকারত্ব, মাদক, সন্ত্রাস, অপরাধ ও নানা সামাজিক সংকটে দেশের একটি বড় অংশের যুবসমাজ চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। তরুণদের মেধা ও কর্মশক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাতিয়া উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বোরহানুল ইসলাম (মাস্টার) বলেন, “প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের স্বার্থে যুবকদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে যুবসমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। দেশের লাখ লাখ যুবক বেকার। কিন্তু তাদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের কার্যকর নজর কতটা রয়েছে, সেটিও প্রশ্নের বিষয়।”
তিনি বলেন, তরুণদের শক্তি কোনোভাবেই ধ্বংসাত্মক কাজে ব্যবহার করা উচিত নয়। মাদক, সন্ত্রাস, সহিংসতা ও অপরাধ থেকে যুবসমাজকে দূরে রেখে তাদের শিক্ষা, কর্মদক্ষতা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তুলতে হবে। দেশ ও সমাজের কল্যাণে তরুণদের সৃজনশীল শক্তিকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হাতিয়া উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি হাফেজ ওসমান গণি রুবেল। বক্তব্য দেন পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা তাওফিকুল ইসলাম, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ফয়জুল বারী তারিফ এবং উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবদুল ওহাব বাবুল।
বক্তারা আরও বলেন, আন্তর্জাতিক যুব দিবস কেবল আনুষ্ঠানিক কোনো আয়োজন নয়; বরং যুবসমাজের অধিকার, দায়িত্ব, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবার একটি সুযোগ। তরুণদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ, মানসম্মত শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে তারাই দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে।
র্যালিতে অংশ নেওয়া তরুণরা বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণে নিজেদের মেধা, শ্রম ও সামর্থ্যকে ইতিবাচক কাজে ব্যবহারের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামী ও এর বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









