যে কোনো নতুন সরকারের স্বল্প মেয়াদে কয়েকটি মাইলফলক থাকে। সুশাসন, জবাবদিহিতা ও গণতান্ত্রিক মানদণ্ড যাচাইয়ে সব সরকারই ১০০ দিন, ১৫০ দিন, ছয় মাস বা ১৮০ দিনের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে কাজ করে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকারও তার ব্যতিক্রম নয়। চলতি বছরের গোড়ায় ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করে বর্তমান সরকার। সে হিসেবে গতকাল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হলো।
কিন্তু এই ছয় মাসে মানুষের প্রত্যাশা কতটা পূরণ হয়েছে? সরকার গঠনের পর নানা ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী সূচনা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাত-দিন একাকার করে দৌড়ালেও সরকারই বা তার প্রতিশ্রুতি কতটা পূরণ করতে পেরেছে? সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে অম্লমধুর। এরই ধারাবাহিকতায় সরকারের সামনে আরো বেশকিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে যা হানিমুন শেষে কঠিন বাস্তবতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তারা বলছেন, সাদামাটা জীবনযাপন আর চলাফেরায় মানুষের মন জয় করে প্রধানমন্ত্রীর চিরাচরিত চরিত্রের ধারণা অনেকটা বদলে দিয়েছেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর এই গতির সঙ্গে পেরে উঠছেন না তার রানিংমেটরা। মন্ত্রী-উপদেষ্টাদের কেউ কেউ ‘আছেন’ না ‘নেই’ সেটা টের পাওয়া যাচ্ছে না। তবুও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়-দপ্তরে ঠিক আগের মতোই স্থবিরতা রয়েছে। খুব একটা বদলায়নি। শুধু রুটিনওয়ার্ক হচ্ছে। কোনো কোনো মন্ত্রী-উপদেষ্টা দৌড়ঝাঁপ করছেন। এই ছয় মাসের কার্যক্রমে বোঝা যাচ্ছে সরকার সামনে কি করতে পারবে। এ সময় সরকারের নানা জনবান্ধব কর্মসূচি যেমন মানুষকে আশান্বিত করেছে তেমনি সিরিজ ক্রাইসিসে মানুষ আশাহত। দ্রুতই এসব সংকট কাটাতে না পারলে সামনে পরিস্থিতি আরো জটিল হতে পারে এমনটা আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষ করে বেশ কয়েকটি বিষয় সরকারের সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে যেগুলো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বেশ ভোগাবে। বিষয়গুলো হলো জ্বালানি নিরাপত্তা, গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ ঠিক রাখা, নিত্যপণ্যের লাগাম টেনে ধরা, দেশে জঙ্গিবারে উত্থান ও একে নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং সবশেষে আইনশৃংখলা পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা। এসব নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে সামনের দিনগুলোয় সরকারের জন্য একটা বিপদ অপেক্ষা করছে এবং ইতিমধ্যে তার কিছু ইঙ্গিতও লক্ষ্য করা গেছে। দ্রুতই এসব সংকট কাটাতে না পারলে সামনে পরিস্থিতি আরো জটিল হতে পারে এমনটা আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী শাসনের সময় প্রশাসন ও আমলাতন্ত্রে যে অনিয়ম তৈরি হয়েছে তা অনেক ক্ষেত্রে এখনো বিদ্যমান। জনপ্রশাসনে এখনো পুরোমাত্রায় শৃঙ্খলা ফেরেনি। যার ফলে সরকারের কোনো কার্যক্রমই কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোতে পারছে না। পদে পদে আটকে যাচ্ছে। ভালো উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। গত ছয় মাসে সরকারের বাইরে বিএনপি’র দলীয় কোনো কার্যক্রম খুব একটা দৃশ্যমান নেই। অনেকটা দল এবং সরকার একাকার। দলের নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে। দলীয় কার্যক্রমে মন্থর থাকায় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের অনেকে দিকভ্রান্ত্র। বিশেষ করে পুরনো ত্যাগীরা চরম হতাশ। কেউ কেউ জড়াচ্ছেন অনিয়ম ও অপরাধমূলক কাজে। এতে দল এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে বিরামহীন গতিতে ছুটে চললেও তার মন্ত্রিসভার অনেকে তার সঙ্গে পাল্লা দিতে পারছেন না। অনেকে বলছেন, শুরুতে ২০ সদস্যের মন্ত্রিসভা করার আলোচনা থাকলেও মন্ত্রিসভার সদস্য আরো বাড়ানো হয়েছিল। মন্ত্রিসভা বড় হলেও কার্যক্রমে এর প্রভাব খুব একটা পড়েনি। কারণ একজনকে একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়ার কারণে তারা সব গুছিয়ে উঠতে পারেননি। কেউ কেউ আবার শুরুতেই ব্যক্তিগত অর্জন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় সংকট তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম কিছু কার্যক্রমের জন্য ব্যাপক সমালোচিত হয়েছেন। এতে সরকারের জন্যও বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে। পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের ব্যক্তিগত ভিডিও ফাঁসের ঘটনাও বিব্রতকর অবস্থা তৈরি করে। শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত বক্তব্য পেরিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তুলেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এজন্য জাতীয় সংসদে দুঃখপ্রকাশ করতে হয় তাকে।
আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী শাসনের সময় মানুষ নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে অতিষ্ঠ ছিল। বলতে গেলে জনবিক্ষোভ তৈরি করেছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এসে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল। বর্তমান সরকারের ছয় মাসের মাথায় বাজার পরিস্থিতি এখন অনেকটাই আবার পুরনো অবস্থায় ফিরে গেছে। অনেক পণ্যের দাম বাড়তি। বাজার নিয়ন্ত্রণে মানুষ দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখতে পাচ্ছে না। বিশেষ করে নিত্যপণ্যের দাম যেন বল্গা হরিণ।
এদিকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে শুরু থেকেই ভুগতে হয়েছে সরকারকে। সরকারের দায়িত্ব নেয়ার পরই ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ পরিস্থিতি বলে দেয়। জ্বালানি সংকটে বড় ধাক্কা খায় সরকার। পাম্পে পাম্পে হাহাকার পরিস্থিতি তৈরি হয়। যদিও নানা চেষ্টায় সেই অবস্থা কাটিয়ে জ্বালানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। মধ্যখানে বিরতি দিয়ে কিছুদিন কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও এখন পরিস্থিতি খুবই খারাপ। বিশেষ গ্রামে বিদ্যুতের কাহিল অবস্থা। এর সাথে এখন নতুন করে তৈরি হয়েছে গ্যাস এবং বিদ্যুতের সংকট। বিএনপি’র বিগত সরকারের সময় দায়িত্ব পালন করা আলোচিত-সমালোচিত মন্ত্রীকে এবারো একই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু পরিস্থিতি এখনো পুরো তার অনুকূলে নেই। খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে তার কয়েকটি অনিয়ন্ত্রিত বক্তব্যে কিছুটা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ ক্ষোভও প্রকাশ করছেন। বিদ্যুৎ এবং গ্যাসের কারণে জনদুর্ভোগ লাঘবে এই মন্ত্রণালয়ের সামনে এখন কঠিন চ্যালেঞ্জ। কৃষকের ঋণ মওকুফ ও কৃষক কার্ডের মতো জনবান্ধব উদ্যোগ নেয়া হলেও সার সংকট এখন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সামনে বিরাট এক চ্যালেঞ্জ। সারের দাম বাড়ার পাশাপাশি সংকটে ভুগছেন অনেক এলাকার কৃষক। এ সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে কৃষি এবং জনজীবনে বড় প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং গ্যাস সংকট সারের বাজারে বড় প্রভাব ফেলেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বিশেষ করে আগামী দিনগুলোতে সরকারের সামনে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও প্রশাসনিক সংস্কার বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দেবে। এ ছাড়া সাম্প্রতিক বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও এডিবির মূল্যায়নেও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, ব্যাংকিং খাত, রাজস্ব, সুশাসন ও কর্মসংস্থানকে বড় অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা হয়েছে।
২৪ সালের ৫ আগস্টের পর এক নজিরবিহীন অবস্থায় পড়ে দেশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে চেষ্টা করেও পুরো পারেনি। বিএনপি সরকারের সামনে এটি ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু এখনো বাহিনীগুলোর মনোবল পুরো ফেরেনি। একের পর এক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড উদ্বেগ ছড়াচ্ছে। সামনেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বড় চ্যালেঞ্জ সরকারের সামনে। ইতিমধ্যে উগ্রবাদী গোষ্ঠীর তৎপরতার তথ্য সামনে আসছে। বিভিন্ন স্থানে জঙ্গি তৎপরতার আলামত মিলছে। এরই মধ্যে জাতিসংঘের এক রিপোর্টে এ অঞ্চলে জঙ্গি তৎপরতার খবরে সেই উদ্বেগ আরো বেড়ে গেছে। আইনশৃঙ্খলা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই এই তৎপরতা রুখতে না পারলে সামনে বড় অঘটন ঘটতে পারে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে সরকার বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এই দুই খাত অনেকটাই বিপর্যস্ত। শিক্ষায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী। কিন্তু হাতে সময় কম। দ্রুতই সঠিক উদ্যোগ নিয়ে বা বাস্তবায়নের পথে হাঁটার পরামর্শ বিশেষজ্ঞের। লুটপাট আর অব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত স্বাস্থ্য খাত। শৃঙ্খলা ফেরাতে নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও এখন পুরোমাত্রায় এ খাত নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জনপ্রশাসন এখনো পুরো সরকারের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হয়নি বলে মনে করা হচ্ছে। এ কারণে সরকারের কাজ ও উদ্যোগে কাঙ্ক্ষিত গতি আসছে না। সেবা খাতে বড় পরিবর্তনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ঘুষ এবং অনিয়মের খবর নিয়মিতই আসছে। সরকারের সবচেয়ে বড় সেবামূলক উদ্যোগ ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের শুরুতে নানা নেতিবাচক তথ্য এ কার্যক্রমের পথে বাধা তৈরি করছে। তথ্য সংগ্রহে জনবল নিয়োগ, তালিকা প্রস্তুতি নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় দলের নেতারাই সমস্যা তৈরি করছেন। যা এ প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। একই অবস্থা খাল খনন কর্মসূচি নিয়েও।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেয়ার সময় দেশ ছিল নানা সংকটে জর্জরিত। ছিল রাজনৈতিক বিভাজন, অর্থনীতিতে চাপ, আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক অস্থিরতা। ওদিকে পররাষ্ট্র বিষয়েও নতুন সরকারের সামনে কঠিন বাস্তবতা। প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক, সীমান্ত, বাণিজ্য, পানিবণ্টন এবং ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে কূটনৈতিক জটিলতা কাটাতে সরকার বহুমুখী পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরের পর এখন আলোচনায় ভারত সফর। এই সফর ঘিরে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে। আছে টানাপড়েনও।
এমন অবস্থায় রাজনীতিও খুব একটা স্বস্তিকর অবস্থায় নেই। ছয় মাস বয়সী একটি সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ইস্যুতে রাজপথে সক্রিয় বিরোধী দল। এমনকি সচিবালয় ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচিও তারা পালন করেছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সরকারের বিষয়ে সরকারকে চাপে রাখতে একের পর এক কর্মসূচি দিয়ে আসছে জামায়াত-এনসিপি’র নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল। সামনে রাজনৈতিক এই চ্যালেঞ্জ আরো কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তার ওপর নিজ দলের বঞ্চিত নেতাকর্মীদের ক্ষোভ তো রয়েছেই।
সরকারের ছয় মাসের মূল্যায়ন করে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বর্তমান এনার্জি ক্রাইসিস বাদ দিলে সরকারকে আমি পঞ্চাশ দিতাম। পঞ্চাশ ভালো, আর পঞ্চাশ খারাপ। এখন এনার্জি ক্রাইসিস, আমি জানি না- এই মাসের মধ্যে যদি শেষ হয়ে যায়, এক সপ্তাহের মধ্যে হয়ে যাওয়া উচিত। তাহলে পঞ্চাশেই থাকবে। তিনি বলেন, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্ব নীরবে এবং নিঃশব্দে শক্তিশালীভাবে চলছে এটি সবচেয়ে বড় নেতিবাচক দিক। এসব বন্ধ করতে পারেনি। আমলাতান্ত্রিক দুর্নীতি কমাতে পারেনি।
এদিকে প্রথম ছয় মাসে মার্কিন প্রশাসনের আদলে প্রশাসন গড়তে সরকার যেভাবে দলীয়করণ করেছে তাতে সরকারের ভাবমূর্তি চরম ক্ষুণ্ণ হয়েছে। বিশেষ করে দেশের সব পৌরসভা ও জেলা পরিষদসহ অন্তত ১১টি সরকারি সংস্থার প্রধান পদে বসানো হয়েছে দলের নেতাদের। এর বাইরে ৬৩টি জেলা পরিষদ এবং ১১টি সিটি করপোরেশনে দলের নেতাদের প্রশাসক পদে বসানো হয়েছে। এদের অনেকেই সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত অথবা পদবঞ্চিত নেতারে সরকারি সংস্থাগুলোয় পুনর্বাসন করছে। এ নিয়ে সর্বত্রই প্রশ্ন উঠেছে কিভাবে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবে সরকার। কারণ, সাধারণত জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনে নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনীতিবিদরাই চেয়ারম্যান অথবা মেয়র পদে আসেন। কিন্তু সরকারি সংস্থায় নির্বাচনের মাধ্যমে চেয়ারম্যান অথবা ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ হয় না। সরকারই নিয়োগ দেয়।
সূত্র জানায়, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে বাংলাশে পল্লী উন্নয়ন বোর্ডসহ কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে রাজনীতিবিদদের বসানো হয়েছিল। পরে বিভিন্ন সরকারের সময় এমন নিয়োগ হয়েছে, তা ছিল সীমিত পরিসরে।
বিএনপি সরকারের সময় এবার সরকারি সংস্থায় রাজনীতিবিদরে নিয়োগ দেওয়া বাড়ল। এটা নিয়ে একটি প্রশ্ন সামনে আসছে, সেটি হলো, বিএনপি কি যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্পয়েল সিস্টেমকে’ অনুসরণ করে সরকারি সংস্থার পদে দলীয় লোক বসাচ্ছে?
সরকারের ছয় মাসের মূল্যায়নে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, ছয় মাসে বিএনপি সরকারের অধিকাংশ নির্বাচনী অঙ্গীকার ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন হয়েছে। ছয় মাসের যে লক্ষ্য, সে লক্ষ্য অনুযায়ী মোটামুটি সবই পূরণ হয়েছে। আগামীতে কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিতে সময় লেগেছে। পরবর্তী ছয় মাসে সরকারের কর্মসূচি আরো জোরালো ও দ্রুতগতিতে বাস্তবায়ন হবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
খাদ্য, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ওপর চাপ তৈরি করছে। তাই মূল্যস্ফীতি কমাতে গিয়ে আবার প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এই ভারসাম্য ধরে রাখাও কঠিন হবে। এ ছাড়া খেলাপি ঋণ, দুর্বল ব্যাংক পরিচালনা ও আর্থিক খাতের ঝুঁকি মোকাবিলার চ্যালেঞ্জ তো থাকছেই। কারণ আইএমএফও ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতাকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
অপরদিকে সরকারের ব্যয় বাড়লেও কর-জিডিপি অনুপাত তুলনামূলক কম। কর প্রশাসন আধুনিক করা, কর ফাঁকি কমানো এবং ন্যায্যভাবে রাজস্ব সংগ্রহ করা বড় পরীক্ষা হবে। এর বাইরে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সরকারকে বিরোধী মত, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, আইনশৃংখলা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বিষয়টিও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হয়ে আছে। তার ওপর গ্যাস সংকট ও বিদ্যুতের আকাল মাড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









