মাত্র ছয় মাসে সব সমস্যার শতভাগ সমাধান কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তবে তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, দায়বদ্ধতা ও দায়িত্বশীলতা রয়েছে। সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় মাহদী আমিন এ কথা বলেন।
সভায় নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করাসহ সরকারের গত ছয় মাসের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী, ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর, জাহেদ উর রহমান, বিশেষ সহকারী এস এম জিয়া উদ্দিন হায়দার, সাইমুম পারভেজ, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমানসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে বিএনপি সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কার্যক্রম, সাফল্য ও সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে একটি ই-বুক প্রকাশ করেছে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং। গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানানো হয়। পোস্টে বলা হয়, বর্তমান সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ ও জবাবদিহিমূলক। সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে জনগণের জানার অধিকার রয়েছে। সেই আগ্রহ পূরণের লক্ষ্যেই সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের সাফল্য এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে ই-বুকটি প্রকাশ করা হয়েছে। ই-বুকে সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ, সংস্কার ও অর্জনের তথ্যনির্ভর চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের উদ্যোগে প্রকাশিত এই ই-বুককে শুধু সরকারের ছয় মাসের কার্যক্রমের বিবরণ নয়, বরং ভবিষ্যৎ পথচলার ভিত্তি এবং পরিবর্তনশীল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার একটি প্রামাণ্য দলিল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন ঘটনা ও প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, ‘১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে যে বাংলাদেশকে আমরা নতুন করে পুনর্গঠন করছি, সেখানে মাত্র ছয় মাসে সব সমস্যার শতভাগ সমাধান করে ফেলা হয়তো কিছুটা দুরূহ। তবে একটি বিষয় আজ নিশ্চিতভাবে বলা যায়, প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই নির্বাচিত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সরকারের রয়েছে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা ও দায়িত্বশীলতা।’ইশতেহারের প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়ার কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, এর মূল কারণ, এই ইশতেহারের ভিত্তির ভেতরে রয়েছে বিএনপির সুদৃঢ় রাজনৈতিক দর্শন।
এই ইশতেহারেই প্রতিফলিত হতে দেখেছি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ১৯ দফা, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সেই ‘ভিশন ২০৩০’, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী প্রণীত বিএনপির ২৭ দফা এবং যুগপৎ আন্দোলনের শরিক সব রাজনৈতিক দলকে এক কাতারে নিয়ে আসা সেই ৩১ দফা। সুতরাং ঐতিহাসিক ১৯ দফা, ভিশন ২০৩০, ২৭ দফা ও ৩১ দফা—এই চারটি মৌলিক বিষয় এবং নির্বাচন-পূর্ববর্তী সময়ে বাংলাদেশজুড়ে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে প্রণীত ইশতেহারের আলোকেই আজ দেশ পরিচালিত হচ্ছে। ঠিক যেভাবে নোট অব ডিসেন্টসহ বিএনপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছিল, ঠিক সে অনুযায়ী প্রতিটি প্রতিশ্রুতি অক্ষরে–অক্ষরে বাস্তবায়ন হবে বলে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, ভোট দেওয়ার পর হাতের কালি শুকানোর আগেই নির্বাচনী ইশতেহারের কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছিল। মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই অত্যন্ত স্বল্প সময়ের ভেতর সবার আগে যে সিদ্ধান্তটি কার্যকর করা হয়েছিল, তা হলো কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফ করা।
প্রথম মন্ত্রিসভার সেই অনুমোদিত সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় ১৩ লাখ কৃষক পরিবার সরাসরি উপকৃত হয়েছে। এ সময় কৃষকদের ক্ষমতায়নে কৃষক কার্ড, নারীর ক্ষমতায়নের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, প্রবাসীদের অধিকার ও সহায়তায় প্রবাসী কার্ড, এবং দেশজুড়ে প্রতিটি জেলা পর্যায়ে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালুর উদ্যোগ, ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত, যাজক ও বৌদ্ধ অধ্যক্ষদের জন্য সম্মানী ও খাল খনন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরুর কথা তুলে ধরেন মাহদী আমিন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর একটি অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। কারণ, দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ এমন একটি রাষ্ট্রকাঠামো রেখে গিয়েছিল, যা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিল।
তাঁরা দায়িত্ব গ্রহণের পরই পবিত্র রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে। সরকার গঠনের অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রব্যবস্থায় যাতে কোনো সিন্ডিকেট গড়ে উঠতে না পারে এবং কৃত্রিমভাবে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি না পায়, সে বিষয়ে কঠোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় দীর্ঘকাল পর কোনো ধরনের শ্রমিক অসন্তোষের ঘটনা ঘটেনি। মাহদী আমিন বলেন, গত ছয় মাসে বাক্স্বাধীনতা, আইনের অনুশাসন ও মানবাধিকারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মানদণ্ড বজায় রাখার দৃষ্টান্ত দেখা গেছে, যেখানে কোনো রাজনৈতিক নিপীড়ন হয়নি।
তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি সর্বোচ্চ বাক্স্বাধীনতা। অনেক সময় তা সীমা লঙ্ঘন করেছে, উসকানি দেওয়া হয়েছে কিংবা অশোভন আচরণ করা হয়েছে, তবু সরকারের সর্বোচ্চ ধৈর্য ও সহনশীলতার মাধ্যমে ঠিক যেভাবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সেটিকে ধারণ করেই এগিয়ে চলেছে জনগণের এই সরকার।’
শিক্ষায় সংস্কার শুরু
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার খুব অল্প সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের কোনো ঘটনা ঘটেনি। বরং সম্পূর্ণ নির্মোহ ও নিরপেক্ষভাবে যেই শিক্ষার্থীর যে গ্রেড বা নম্বর প্রাপ্য, ঠিক সেভাবেই উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসর ভাতা এবং কল্যাণ ট্রাস্টের প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা ফ্যাসিবাদের সরকার লোপাট করে দিয়েছিল বলে অভিযোগ করেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, এর ফলে ২০২২ সালের পর থেকে বিগত চার বছর ধরে সম্মানিত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা তাঁদের অবসর ও কল্যাণের ন্যায্য টাকা পাননি।
বিষয়টি অবহিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে অর্থের সংস্থান করে দেন। দুই দিন আগে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ২ হাজার কোটি টাকার চেক প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল সংস্কারের অংশ হিসেবে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে পাঠ্যক্রমে চতুর্থ শ্রেণিতে দুটি এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে দুটি নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই–ফাই সুবিধা, প্রথম শ্রেণি থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুলড্রেস ও ব্যাগ প্রদান শুরু হয়েছে। এ ছাড়া প্রাইমারি গোল্ডকাপে ছেলে, মেয়েসহ মোট ২২ লাখ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে দেশজুড়ে একটি অভূতপূর্ব ক্রীড়া বিপ্লব সংঘটিত হয়েছে।
এ ছাড়া দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ‘ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং কম্পিটিশন’ আয়োজন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায়, মেয়েদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত সম্পূর্ণ অবৈতনিক শিক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং দেশজুড়ে মিড-ডে মিল কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে চালু হয়েছে। তৃতীয় ভাষা শিক্ষাকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে এবং তৃতীয় ভাষায় দক্ষ বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক গ্যারান্টি দিয়ে বাইরে পাঠানোর সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বৈশ্বিক সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্যাস ও বিদ্যুতের যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার কিছুটা প্রভাব এ দেশের ওপরও পড়েছে বলে জানান উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেন ‘গত কয়েক দিন ধরে গ্যাসের যে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে, তা আমরা গভীরভাবে উপলব্ধি করছি। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, সংকট নিরসনে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’
নতুন বেতনস্কেল চূড়ান্তের পথে
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সুবিধার জন্য যে নতুন পে-স্কেল প্রণয়ন করা হচ্ছে, তা অনেকটাই চূড়ান্তের পথে রয়েছে বলে জানান উপদেষ্টা মাহদী আমিন। উপদেষ্টা বলেন, ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, নতুন ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ প্রতিষ্ঠা এবং দেশজুড়ে খেলার মাঠগুলোর সংস্কার ও সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। জনমানুষের আবেগ ও আকাঙ্ক্ষার প্রতীক ‘জুলাই জাদুঘর’ যেমন চালু করা হয়েছে, তেমনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এবং বিগত দেড় দশকের ফ্যাসিবাদবিরোধী রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে শহীদ হওয়া পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে সরকারি সহায়তার হাত প্রসারিত করা হয়েছে। আহত ব্যক্তিদের দেশে ও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী আরও বাড়ানো হয়েছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে আলাদা তহবিলের ব্যবস্থা ও শ্রমবান্ধব আইনের মাধ্যমে শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হচ্ছে বলেও জানান উপদেষ্টা।
আর্থিক খাতে সংস্কার
মাহদী আমিন বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর যে ভেঙে পড়া অর্থনৈতিক কাঠামো পেয়েছিল, সেখানে প্রয়োজনীয় সংস্কারের কাজ ইতিমধ্যে শুরু করা হয়েছে। যার প্রতিফলন দেখা গেছে জনবান্ধব বাজেটে, যেখানে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুযোগ বৃদ্ধি করা হয়েছে, যেখানে প্রয়োজন সেখানে কর হ্রাস করা হয়েছে, আমানতকারীদের আমানতের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে এবং শতভাগ রপ্তানিমুখী প্রতিটি ইন্ডাস্ট্রির জন্য বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
পাশাপাশি ট্রেড ও ব্যবসার লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়াকে অত্যন্ত সহজতর করা হয়েছে। এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে, যেখানে উৎপাদনমুখী উদ্যোগ বহুমুখী রূপ নিয়েছে। ব্যবসা সহজ করা এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে সরকার মুনাফা নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় বিদ্যমান বাধা দূর করে সুযোগ আরও বৃদ্ধি করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকও এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পলিসি সাপোর্ট ও রাজস্ব নীতির সমন্বয় সাধন করেছে। উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, মানি লন্ডারিংয়ের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বিদেশে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছিল, তা দেশে ফেরত আনার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় ইতিবাচক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, ‘নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ভেঙে পড়া অর্থনৈতিক কাঠামোর মতো, ঠিক একইভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতেও একটি অত্যন্ত নাজুক অবস্থা পেয়েছিল। কিন্তু সেখান থেকে আমরা দেখেছি, প্রথমবারের মতো উত্তরণের মাধ্যমে এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদের ধারাবাহিকতা সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়ে রাজনৈতিক হয়রানিমুক্ত, জনবান্ধব ও সেবাধর্মী পুলিশ ও প্রশাসন তৈরি করা হয়েছে।’
মাহদী আমিন বলেন, ‘আজ এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে পুলিশ, প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর সাধারণ মানুষ পূর্ণ আস্থা ফিরে পাচ্ছেন, মানুষ কোনো সমস্যা নিয়ে গেলে তাৎক্ষণিক সমাধান ও আইনি প্রতিকার পাচ্ছেন। এরপরও বিভিন্ন অপশক্তির ষড়যন্ত্র এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাসমূহ সর্বোচ্চ সজাগ ও কার্যকর ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।’
মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে পার্শ্ববর্তী দেশের কাছে ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যর্পণ আবেদন জানানো হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। পররাষ্ট্রনীতির কথা তুলে ধরেন মাহদী আমিন বলেন, বিএনপির নির্বাচিত সরকার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, রাষ্ট্র পরিচালনার মূল মন্ত্র ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। তাঁরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান, যেখানে বিশ্বের প্রতিটি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তি হবে সমতা, ন্যায্যতা এবং মর্যাদা। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতিমধ্যে ভিআইপি সংস্কৃতি সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়ে সাধারণ মানুষের মতো করে সাধারণ মানুষের কাতারে নেমে এসেছেন।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার জনগণের কাছে নিয়মিতই জবাবদিহি করবে। আগামী ৫ বছরের সরকারের ১ হাজার ৮২৫ দিনের মেয়াদের প্রথম ১৮০ দিনকে তিনি রাষ্ট্র ও সমাজের বিদ্যমান ধ্বংসস্তূপের জঞ্জাল পরিষ্কার করার পর্ব হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। যা ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উপযোগী ভিত্তি তৈরির পর্ব। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণবিস্ফোরণ ও গণবিদ্রোহ ছিল জনগণের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। এর মধ্য দিয়ে তৎকালীন ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন ঘটে এবং ফ্যাসিবাদের শিখণ্ডীরা দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। জনগণের সেই ক্ষোভ থেকে উৎসারিত গণঅভ্যুত্থান ৫ আগস্টকে একটি ঐতিহাসিক প্রতীকে পরিণত করেছে।
তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে লাখো-কোটি মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, ভালোবাসা ও প্রত্যাশা ছিল সেই ক্ষোভের বিপরীতের আরেকটি প্রতীক। একদিকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছিল জনগণের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ, অন্যদিকে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর ছিল জনগণের প্রত্যাশা, ভালোবাসা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্নের প্রকাশ। আবার ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর বাংলাদেশের গণতন্ত্রের দীর্ঘ সংগ্রামের প্রধান নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে মানুষের যে অভূতপূর্ব ভালোবাসা, শ্রদ্ধা সম্মান প্রদর্শন করেছেন সেটিও ছিল জনগণের আরেকটি প্রতীকী বার্তা।
মন্ত্রী বলেন, ধ্বংসস্তূপের ওপর নতুন ভবন নির্মাণের আগে জঞ্জাল পরিস্কার করতে হয়। একইভাবে অর্থনীতি, সমাজ, রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ও অঙ্গকে প্রথমেই এমনভাবে পুনর্গঠন করতে হচ্ছে, যাতে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনায় রূপ দেওয়া যায়। প্রতিষ্ঠানগুলোর সমস্যা ও ক্ষত চিহ্নিত করে সেগুলো মেরামত ও কার্যকর করা এবং ভবিষ্যৎ কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় ভিত্তি তৈরির এই কঠিন পর্ব সরকারকে অতিক্রম করতে হচ্ছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের সময়কালে সব কর্মসূচি একযোগে বাস্তবায়নের চেয়ে রাষ্ট্রকে নতুন কর্মসূচি বাস্তবায়নের উপযোগী করে তোলার কাজই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, জবাবদিহিতার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সরকারের মেয়াদ যত এগিয়ে যাবে, প্রাথমিক পুনর্গঠনের কঠিন পর্ব অতিক্রম করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারের পরিকল্পনা আরো মসৃণ ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হবে। তিনি বলেন, আমরা আশা করি, সামনে যত এগোব, ততই যথাযথভাবে আমাদের নেতার ঘোষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারব। প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী সরকারের ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং ভবিষ্যতেও জনগণের সামনে সরকারের জবাবদিহিতার এই ধারা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেন, বর্তমান সরকার গত ছয় মাসে কী কাজ করেছে, আমি বলি সেটি হচ্ছে, এই রাষ্ট্র-সমাজে মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা, মানুষের সম্মান প্রতিষ্ঠা করা। এগুলো আমরা দেখিনি; আগে ছিল না। আপনারা দেখেছেন, মিরপুরে যখন শিশু রামিসা হত্যা হত্যা হলো, সেই শিশু রামিসার ঘরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে গিয়েছেন। এর মানে হচ্ছে মজলুমের ঘরে যখন সরকারপ্রধান যান, তখন বুঝতে হবে যে আসলে এমন বাংলাদেশে আমরা প্রত্যাশা করি, যেখানে জনগণের কাছে রাষ্ট্র বা সরকার দায়বদ্ধ। প্রেস সচিব বলেন, ‘‘গতকাল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী (কিশোরগঞ্জ) গিয়েছিলেন। আপনারা দেখবেন, আমাদের একটা বাস আছে। আমরা বাসে যাওয়ার সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যখন যাচ্ছেন, তখন বাস থেকে প্রধানমন্ত্রী খেয়াল করেছেন যে, কিছু সময় সম্ভবত রাস্তাটা খুব ক্লিয়ার। “উনি সঙ্গে সঙ্গে নোটিস করলেন এবং কনসারন অথরিটিকে বললেন যে, সামনের দিকে যেন আর কখনো না হয়। সাধারণ মানুষ যেভাবে যাবে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেভাবে যাবেন। এই যে নিজেকে আলাদা করে না রেখে জনগণের সঙ্গে মিশে যাওয়া, জনগণের একজন হয়ে যাওয়া, এমন বাংলাদেশ কিন্তু আমাদের প্রত্যাশার জায়গায় ছিল এবং আমরা সেই বাংলাদেশটা পেয়েছি।”
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিশেষ সহকারি রাশেদ খান, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাষ্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল, প্রধানমন্ত্রীর স্ক্রিপট রাইটার মাহফুজুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, মো. সুজাউদ্দৌলা, শাহাদাৎ স্বাধীন, সহকারি প্রেস সচিব কেএম নাজমুল হক, আবদুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার ও আশরোফা ইমদাদ উপস্থিত ছিলেন।
সরকারের ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান সরকারের বিগত ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। তবে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী এটিকে আরও সুসংহত করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। গতকাল সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন, ২০২৫’-এর প্রতিবেদনসংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এখন মাত্র ছয় মাস পার হলো। এর মধ্যে আমরা অনেক সংস্কারকাজ করেছি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন প্রশংসনীয় উদ্যোগ আপনারা দেখেছেন। বিগত ১৮০ দিনে সরকার কর্তৃক গৃহীত ও বাস্তবায়িত বিভিন্ন উদ্যোগ ও কর্মসূচি জনগণের নিকট প্রশংসিত হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত রূপরেখার আলোকেই প্রথম ১৮০ দিনে একাধিক প্রশংসনীয় উদ্যোগ ও জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সরকার একের পর এক বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখোমুখি হলেও তা অত্যন্ত দক্ষতা ও সফলতার সঙ্গে মোকাবিলা করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি ও গ্যাস–সংকটের ধাক্কা বিশ্বব্যাপী অনুভূত হলেও সরকার তাৎক্ষণিকভাবে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি। বোরো মৌসুমে কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার প্রায় এক মাস পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধি স্থগিত রাখে এবং পরবর্তীকালে সহনীয় মাত্রায় সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। অথচ ওই সময়ে বিশ্ববাজারসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে জ্বালানির দাম প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল।
বিগত সরকারের রেখে যাওয়া দীর্ঘদিনের গ্যাস ও জ্বালানিসংকট রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার টেকসই ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার মাধ্যমে এ সংকট উত্তরণে কাজ করছে। বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আকৃষ্ট করা, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ও উৎপাদন অব্যাহত রাখতে প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা আবশ্যক। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর পরিদর্শন শেষে সেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি, বিদ্যমান সামিট এবং অ্যাকসিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে প্রায়ই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার সমস্যা নিরসনে একাধিক এফএসআরইউ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য স্থান বাছাইয়ে বর্তমানে জরিপকাজ চলমান রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমদানিনির্ভরতা কমাতে দেশের ভেতরে এবং অফশোর ও অনশোরে নতুন গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এ সমস্যার টেকসই সমাধান অর্জিত হবে।
সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত অনুমোদিত ও বাস্তবায়িত হয়েছে। এর পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় কর্মকর্তা এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের মাসিক সম্মানী দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া দেশের ক্রীড়াবিদ ও সংস্কৃতিবিদদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানসহ একাধিক কল্যাণমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসংক্রান্ত জাতীয় প্রকিউরমেন্ট কমিটির প্রধান হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকারের সঠিক নীতি ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের ফলে দেশে খাদ্যের একটি মজবুত ও নিরাপদ মজুত গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে। এ ছাড়া সরকারের ১৮০ দিনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অর্জিত সামগ্রিক অগ্রগতির সমন্বিত বিবরণী শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং অথবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা দপ্তর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









