গাজীপুর সদর উপজেলার আলোচিত বাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান খান হাবিব। যিনি সদর উপজেলার আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি।
তিনি ছিলেন পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান। সে সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করে করেছেন সাধারণ মানুষ ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শত শত বিঘা ফসলি জমি দখল। জোরপূর্বক বিল ভরাটের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। বিগত রাজনৈতিক প্রভাবের জোরে এসব অপকর্ম শুরু করলেও পটপরিবর্তনের পরও তিনি ও তার বাহিনী সমানভাবে বেপরোয়া রয়েছেন বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
জানা গেছে, আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী পদে থাকাকালে চেয়ারম্যান হাবিব হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রায় সাড়ে ১২ শ বিঘা ধানী জমি জোরপূর্বক দখল করে সেখানে মৎস্য প্রজেক্ট বা মাছের ঘের তৈরি করেন। তার ক্ষমতার দাপটে জমির মালিকরা আজও নিজেদের জমি উদ্ধার করতে পারেননি। উল্টো জমি ফেরত চেয়ে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না তারা। এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকরা তাদের অসহায়ত্বের কথা জানিয়ে এই প্রতিবেদকের কাছে।
সুকুমার চন্দ্র দাস জানান, তার ৪ বিঘা জমি জোর করে দখল করে রাখা হয়েছে, যা কোনোভাবেই উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। রতি মজুমদার ও জ্যোতি মজুমদার জানান, তাদের দুই ভাইয়ের ২৮ বিঘা জমি মাছের ঘেরের নামে দখল করে রাখা হয়েছে। সাইফুল ও রুহুল জানান, তাদের ১০ বিঘা জমিও মাছের প্রজেক্টের নামে বলপূর্বক দখল করে রাখা হয়েছে। নুরু মিয়া জানান, মাছের প্রজেক্টে তার জমি থাকলেও তিনি তা ফেরত পাননি। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তারা সরকারের উচ্চ মহলের সহযোগিতা কামনা করেন।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও পরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের সুযোগ নিয়ে চেয়ারম্যান হাবিব ও তার বাহিনী আবারও সক্রিয় হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের অভিযোগ, হাবিব চেয়ারম্যানের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে, যাদের দাপটে বাড়িয়া ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ সব সময় আতঙ্কে থাকেন।
এই বাহিনীতে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের পাশাপাশি বিভিন্ন দলের সুবিধাবাদী ব্যক্তিরাও যুক্ত রয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে দলীয় পরিচয় বদলে তারা এলাকায় আগের মতোই দাপুটে। এরই অংশ হিসেবে বেলাই বিলে বালু ও মাটি ফেলে বিল ভরাট শুরু করেছেন হাবিব চেয়ারম্যান।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরো জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর হাবিব চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করেন এবং পরে জামিনে মুক্ত হন। সম্প্রতি স্কুলের একটি বিচারে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদ করা এক নেতাকে মারধরের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে নতুন করে মামলা দায়ের হয়। এর মাঝেই নিজ এলাকা খাতিয়া ব্রিজসংলগ্ন বিলে মাটি ভরাটের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
তবে ২০১৯ সালের ৩১ জুলাই দলীয় পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল বলে তথ্য জানা গেলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্ষমতা ও বলয় বদল করে তিনি ও তার বাহিনী ঠিকই সরকারি জমি, হিন্দুদের জমি এবং গরিবের পতিত জমি নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। এলাকাবাসী এই সিন্ডিকেটের হাত থেকে রক্ষা পেতে এবং তাদের জবরদখলকৃত জমি ও সরকারি বিল রক্ষায় প্রশাসনের জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মঈন এলিস বলেন, ‘খবর পেয়ে আমি সরেজমিনে গিয়ে কাউকে পাইনি। মাটি ভরাটের বিভিন্ন সরঞ্জামাদি জব্দ হয়। স্থানীয় লোকজন বলেছে, এ মাটি হাবিব চেয়ারম্যান ভরাট করেছেন। জমির মালিকানা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান খান হাবিব দাবি করেন, ওই স্থানে তার এক বিঘা উঁচু জমি ছিল। সম্প্রতি রাস্তা নির্মাণের সময় ঠিকাদার ওই জমি থেকে মাটি কেটে নিয়েছেন এবং পরে তা ভরাট করে দেওয়ার কথা ছিল। প্রতিপক্ষ বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করে আসছে বলে জানান তিনি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









