২৩-তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কোনো প্রার্থী তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। ফলে নির্বাচনের তফসিল অনুসারে আগামীকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ভবনে ভোটগ্রহণ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। ওই দুজনের মধ্যে রাষ্ট্রপ্রধান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। এই নির্বাচনের ভোটার হচ্ছেন সংসদ সদস্যরা।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এবার ভোট দেবেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্যরা। সংরক্ষিত নারীসহ সংসদে মোট আসন বা সদস্য সংখ্যা ৩৫০ জন। চট্টগ্রাম-৪ আসনে নির্বাচিত হলেও বিএনপির আসলাম চৌধুরীর সংসদ সদস্যপদ বাতিল করেছেন আদালত। ফলে এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মোট ভোটার ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য।
২৪ জুলাই ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অসুস্থতা দেখিয়ে পদত্যাগ করলে ৬ আগস্ট শূন্যপদে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি। একক প্রার্থী না থাকায় ১৯৯১ সালের পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে এবার ভোটগ্রহণ করা হবে। আগামীকাল দুপুর দুইটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে এই ভোট নেওয়া হবে।
ভোটগ্রহণের আগে নির্বাচন কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন সংসদ সদস্যদের (ভোটার) ভোট দেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে জানাবেন। ব্যালট পেপার হবে সাদার ওপর কালো প্রিন্ট। এর দুটি অংশ থাকবে, একটি মুড়ি অংশ, আরেকটি ব্যালট পেপার অংশ। মুড়ি অংশে থাকবে তিনটি তথ্য। সেগুলো হচ্ছে ক্রমিক নম্বর, সংসদ সদস্যের নাম এবং তার বিভক্তি নম্বর। সংসদ সদস্য পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে ব্যালট গ্রহণ করবেন।
ডান পাশের অংশে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম বাংলা বর্ণমালার আদ্যাক্ষর অনুসারে সাজানো থাকবে। নামের ডান পাশে খালি (স্পেস) জায়গায় সংসদ সদস্যরা তাঁদের পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে ভোট দেবেন। এরপর নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে তাঁরা ব্যালট পেপার জমা দেবেন। বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শেষে সংসদকক্ষেই গণনা করা হবে। পরে সেখানে ফলাফল ঘোষণা করবেন নির্বাচনী কর্তা। পরে গেজেট প্রকাশ করা হবে।
গতকাল মঙ্গলবার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় বিকাল চারটার পর নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ। তিনি জানান, বিএনপি ও সমমনাদের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদের মধ্যে কেউই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। ইসি সচিব বলেন, ‘আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আমরা ব্যালট পেপার ছাপিয়ে ভোটের দিন নিয়ে যাব। ভোটগ্রহণ শেষে তখনই প্রাথমিক ফলাফল ঘোষণা করা হবে। আপনারা দেখবেন, আমরা কত তাড়াতাড়ি ফলাফল প্রকাশ করতে পারি।’
১৯৯১ সালের পর মাঝে সাতজন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়, ক্ষমতাসীন দলের একক প্রার্থী হিসেবে। বিরোধী দল কোনো প্রার্থী দেয়নি। ফলে এবার ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হতে যাচ্ছে। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুসারে, সংসদ সদস্যদের দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই। কেউ দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিলে তাঁর সংসদ সদস্যপদ শূন্য হবে।
ফলে ক্ষমতাসীন বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলামের আলমগীরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া অনেকটাই নিশ্চিত। অন্যদিকে জামায়াত জোটের ৯০ জন সংসদ সদস্যের ভোট তাদের প্রার্থী অলি আহমেদ পাচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









