পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের ইউনিয়ন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব চরম আকার ধারণ করেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি কমিটি ঘোষণা এবং সংগঠনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে উপজেলা ছাত্রদলের ৯ জন শীর্ষ নেতাকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে জেলা ছাত্রদল।
ঘটনার সূত্রপাত, দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় ইউনিয়ন পর্যায়ে ছাত্রদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ছিল না। সাংগঠনিক গতিশীলতা আনার লক্ষ্যে গত ১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বিভিন্ন ইউনিয়ন ছাত্রদলের আংশিক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে কমিটি ঘোষণার প্রক্রিয়া এবং গঠনতন্ত্রের নিয়ম মানা নিয়ে উপজেলা ছাত্রদলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে প্রকাশ্য রূপ নেয়। এ নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে মির্জাগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মো. আবুল বাশার মোকলেচ গণমাধ্যমকে জানান, ইউনিয়ন কমিটি গঠনের বিষয়ে তিনি সিনিয়র সহ-সভাপতি রাজীব হোসেনের সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার আলোচনার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু রাজীব হোসেন বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করায় এবং বৈঠকে অনুপস্থিত থাকায় সাংগঠনিক স্বার্থে সাধারণ সম্পাদকের সাথে পরামর্শক্রমে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী কমিটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। পাল্টা কমিটি ঘোষণার অভিযোগ তিনি পুরোপুরি অস্বীকার করেন।
অন্যদিকে, ভিন্নমত পোষণ করে সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ রাজীব হোসেন অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় কমিটির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী উপজেলা সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের যৌথ স্বাক্ষরে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার কথা। কিন্তু তাকে আস্থায় না নিয়ে গোপনে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া কমিটিতে ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে অপরিচিতদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এই অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলার পরিপ্রেক্ষিতে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদল কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। গত ১৮ আগস্ট জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক মেহেদী হাসান শামীম চৌধুরী এবং সদস্য সচিব জাকারিয়া আহমেদের নির্দেশে, যুগ্ম আহবায়ক হারুন অর রশিদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে উপজেলা ছাত্রদলের ৯ জন শীর্ষ নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
শোকজ প্রাপ্ত নেতারা হলেন:
১. মো. আবুল বাশার মোকলেচ (সভাপতি)
২. নাজমুল মৃধা (সাধারণ সম্পাদক)
৩. মো. রাজিব হোসেন (সিনিয়র সহ-সভাপতি)
৪. মো. রবিউল ইসলাম (সহ-সভাপতি)
৫. মো. ইব্রাহীম (যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক)
৬. সিরাজুল ইসলাম মিরাজ (সাংগঠনিক সম্পাদক)
৭. মো. কাওসার ইসলাম (সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক)
৮. মো. রাকিব হোসেন (ক্রীড়া সম্পাদক)
৯. মো. রাকিব মিয়া (সদস্য)
নোটিশে উল্লিখিত নেতাদের ১৮ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে পটুয়াখালী জেলা ছাত্রদল কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ও মৌখিক ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এই ঘটনার পর থেকে মির্জাগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। তৃণমূলের সাধারণ কর্মীরা দ্রুত এই সংকটের নিরসন এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









