‘মাফিয়া মাইকেলের সম্পদ বেশুমার’শীর্ষক প্রধান শিরোনামে গত ৯ আগস্ট দৈনিক এদিনের প্রথম পাতায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন অভিযুক্ত বাংলাদেশ রেজিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের (বিআরএসএ) মহাসচিব মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহ। লিখিত প্রতিবাদে তিনি নিজের সম্পর্কে স্পষ্টীকরণ করে বলেন, প্রতিবেদনটিতে আমাকে জড়িয়ে বদলি বাণিজ্য, দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, কথিত সিন্ডিকেট পরিচালনা এবং সাবেক আইনমন্ত্রীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার মতো যেসব গুরুতর অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
একজন সরকারি কর্মকর্তা ও একটি পেশাজীবী সংগঠনের দায়িত্বশীল প্রতিনিধি হিসেবে আমার ব্যক্তিগত, পেশাগত ও সামাজিক মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার এ ধরনের অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি।
প্রতিবেদকের বক্তব্য : বহুল আলোচিত এই কর্মকর্তার বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদের বিষয়ে দৈনিক এদিনে সংবাদ প্রকাশের পর ওইদিন তিনি যুবদল-স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা পরিচয়ধারী কতিপয় ব্যক্তিকে নিয়ে দৈনিকে এদিন অফিসে এসে হুমকি-ধমকি দেন। ওইদিন রাত সাড়ে ৮টায় অন্তত ১২ জনের একটি দল নিয়ে মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহ পত্রিকাটির বনানী অফিসে হাজির হন।
সংবাদটি ছাপানোর কারণ জানতে চান সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদক ও নির্বাহী সম্পাদকের কাছে। এ সময় তিনি এবং তার সাথে থাকা ব্যক্তিরা সন্ত্রাসী কায়দায় সংশ্লিষ্টদের হুমকি-ধমকি দেন। যার রেকর্ড এদিন কার্যালয়ের সিসি টিভি ক্যামেরা এবং নিজস্ব ফটোসাংবাদিকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। এর পরও এদিনের অনমনীয় অবস্থানের কারণে পরদিন মাইকেল একা এসে এদিনের সাংবাদিকদের কাছে কৃতকর্মের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।
পরদিন দৈনিক এদিনে একটি প্রতিবাদ ছাপা হওয়ার পরই ভোল পাল্টান মাইকেল। এবার তিনি এদিনের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ আনেন। যে কারণে মাইকেলের বিষয়ে অধিকতর অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেয় দৈনিক এদিন।
প্রতিবাদলিপিতে তিনি বলেন, প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে আমি ২৯তম বিসিএস (নন-ক্যাডার) থেকে সাব-রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগ পেয়েছি। এটি সম্পূর্ণ ভুল ও অসত্য। প্রকৃত সত্য হলো, আমি ২৮তম বিসিএস-এর নন-ক্যাডার প্রার্থী হিসেবে সরকারি বিধিমোতাবেক সাব-রেজিস্ট্রার পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হই।
প্রতিবেদকের বক্তব্য : দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা অভিযোগে মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহকে ২৯তম বিসিএস (নন-ক্যাডার) কর্মকর্তা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, প্রতিবেদনে আমাকে ‘মাফিয়া মাইকেল’আখ্যা দিয়ে বদলি বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল টাকা লেনদেন ও সিন্ডিকেট পরিচালনার যে দাবি করা হয়েছে, তার সঙ্গে আমার কোনো ন্যূনতম সম্পৃক্ততা নেই। সাব-রেজিস্ট্রারদের বদলি ও পদায়ন সম্পূর্ণভাবে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও নীতিমালার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে। আমার প্রশাসনিক অবস্থান ও দায়িত্বের বাস্তবতার সঙ্গেও এ ধরনের অভিযোগের কোনো সামঞ্জস্য নেই।
প্রতিবেদকের বক্তব্য : আইন মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যালয়ে অভিযোগ ও নথিতে তার এসব অভিযোগের প্রমাণ রয়েছে। এ ছাড়া তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে বিভিন্ন ডেস্কে তার সহকর্মীদের মুখে মুখে তাঁর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।
মাইকেল আরো বলেন, প্রতিবেদনে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন স্থানে ফ্ল্যাট, জমি, ইটভাটা বা মাছের ঘেরের যে দীর্ঘ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তার কোনো সত্যতা নেই। বিশেষ করে আমার নামে ২৯টি ফ্ল্যাট থাকার যে দাবি করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এমনকি আত্মীয়স্বজনের নামে থাকা কথিত সম্পদকেও আমার সম্পদ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা বিভ্রান্তিকর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। প্রতিবেদনে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের প্রভাব ব্যবহার করে অবৈধ সুবিধা নেওয়ার যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ কল্পনাপ্রসূত। তার সঙ্গে আমার কোনো আত্মীয়তার সম্পর্ক নেই এবং আমার অবস্থান থেকে প্রভাব খাটানোর কোনো সুযোগই নেই।
প্রতিবেদকের বক্তব্য : মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহর নামে-বেনামে যত সম্পদ রয়েছে, সে বিষয়ে দুদকের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে তার এসব সম্পদের সন্ধান পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। শিগগিরই তার সম্পদের হিসাব চেয়ে চিঠি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কমিশন সূত্র। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে কমিশন। আর সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ছিলেন তাঁর শ্বশুরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সেই সুবাদে আইনমন্ত্রী তার চাচাশ্বশুর এই পরিচয়ে আওয়ামী লীগের সময় সকল বদলি-নিয়োগ বাণিজ্য করতেন। তার দাপটে অন্য কর্মকর্তারা কোণঠাসা থাকতেন।
মাইকেল বলেন, প্রতিবেদনে দুর্নীতি দমন কমিশনে জমা হওয়া অনভিপ্রেত বা যাচাই-বাছাইহীন অভিযোগকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন তা প্রমাণিত সত্য। তদন্ত বা বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ করে আমার দীর্ঘদিনের অর্জিত পারিবারিক ও সামাজিক সুনাম ক্ষুন্ন করা হয়েছে।
প্রতিবেদকের বক্তব্য : বাংলাদেশ রেজিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ শুধু অভিযোগ নয়, তাঁর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে দুদক। আর তিনি নিজেই প্রতিবাদলিপিতে তাঁর অবৈধ সম্পদ অর্জন, নিয়োগ-বদলি বাণিজ্যসহ সকল অপরাধের দায় স্বীকার করে নিয়েছেন। আলোচ্য প্রতিবেদনটিতে তাঁর বিরুদ্ধে যত অভিযোগ পাওয়া গেছে, সে সংক্রান্ত সকল তথ্য-প্রমাণাদি দৈনিক এদিনের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









