আদালতের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা অবস্থায় জমির দলিল নিবন্ধন, জাল দলিল সম্পাদনের অভিযোগ, জমির প্রকৃত শ্রেণি পরিবর্তন করে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি এবং নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় ধারাবাহিক অনিয়মের তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে খিলগাঁও সাবরেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত সাবরেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন আবদুল্লাহ।
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি তাঁর বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ পেয়েছে। যদিও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের এক কর্মকর্তার নাম ভাঙিয়ে এবং নিজেকে সাবেক ছাত্রদল নেতা পরিচয়ে তদন্তে প্রভাব ফেলার চেষ্টা করছেন মাইকেল মহিউদ্দিন আবদুল্লাহ। যেভাবে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের ১৬ বছর নিজেকে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের আত্মীয় (ভাতিজির জামাই) পরিচয় দিয়ে করছেন সব অনিয়ম ও দুর্নীতি।
মন্ত্রণালয়ের তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তদন্ত কার্যক্রম প্রায় শেষ। রেজিস্ট্রেশন সার্ভিসেস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মাইকেল মহিউদ্দিন আবদুল্লাহর নামে বিস্তর তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে। শিগগির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। প্রতিবেদনে অভিযুক্ত মাইকেলকে চাকরিচ্যুত করাসহ শাস্তির সুপারিশ করা হবে।
নাম তার মাইকেল মহিউদ্দিন আবদুল্লাহ। খিলগাঁও সাব-রেজিস্ট্রর অফিসে কর্মরত। যাকে সবাই চিনে দাপটশালী দুর্নীতিবাজ ও পল্টিবাজ। বিগত আওয়ামী শাসনামলে তার মাস্তানী চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি ছিল লাগামহীন। সবার কাছে তার পরিচয় ছিল সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ক্যাশিয়ার হিসেবে। আর এখন তিনি হয়ে গেছেন পুরো তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সের গড ফাদার। সরকারি চাকরি করেও তিনি ২০-৩০ জনের মাস্তান বাহিনী নিয়ে প্রকাশ্যে তেজগাঁও কমপ্লেক্স দাপিয়ে বেড়ান।
মাস্তানবেষ্টিত এই সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেলকে দেখে সবাই পল্টিবাজ হিসেবে হাসাহাসি করে। তিনি আগে ছিলেন দাপুটে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট। জুলাই-আগস্ট বিপ্লবের পর হলেন জিয়ার সৈনিক। বর্তমানে সাব-রেজিস্ট্রার বদলি বাণিজ্য থেকে শুরু করে একজন দলীয় নেতার ভূমিকায় তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্স নিয়ন্ত্রণ করছেন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন পুরনো বোতলে নতুন মদ।
জানা গেছে, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের লাঠিয়াল খিলগাঁও-এর সাব-রেজিস্টার মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহ নারী কেলেংকারিতেও চ্যাম্পিয়ন। সাব-রেজিস্টার মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহ পকেটে লাখ লাখ টাকা নিয়ে অভিজাত গুলশান-বনানীর গোপন আড্ডায় নিয়মিত যাতায়াত করেন। সেখানে উঠতি বয়সী তথাকথিত মডেল, নাটকপাড়ার অভিনেত্রী এবং র্যাম্প মডেলদের সাথে রাতভর মদ পান করেন এবং একাধিক নারীর সাথে ফুর্তি করতে দেখা যায় তাকে। তার এই বেপরোয়া জীবন যাপনের কারণে পরিবারও নাখোশ।
তার কাছে ঘনিষ্ঠজনরা বলেছেন আওয়ামী লীগের সময় তিনি যা করতেন এখনো তাই করেন। সাব-রেজিস্টার বদলি থেকে শুরু করে উপর মহলকে খুশি করার জন্য গালা পার্টি, নারী সাপ্লাই থেকে শুরু করে দামিদামি ব্র্যান্ডের মদও সাপ্লাই দেন সাব রেজিস্টার মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহ। সব আমলেই তিনি ভালো আছেন। কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি করলেও এখনো তিনি বহালতবিয়তে। তিনি বলে বেড়ান দুদক তার চুলও স্পর্শ করতে পারবে না। কেননা মাইকেল নাকি প্রতি মাসে মোটা অংকের টাকা মাসোহারা দেন তাদের। অথচ বিগত দিনে আওয়ামী লীগের পরিচয়ে মাইকেল প্রকাশ্যে অপকর্ম করতেন তা সবার জানা। তিনি বিগত সময় আওয়ামী সরকারের নাম ভাঙিয়ে প্রকাশ্যে অনিয়ম দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যে চ্যাম্পিয়ন ছিলেন।
আইন মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, তদন্তের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বর্তমানে খিলগাঁও সাবরেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত সাবরেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন আবদুল্লাহ। তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আইনমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুবাদে ২০২১ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাভার সাবরেজিস্ট্রি অফিসে দায়িত্ব পালন করেন। অভিযোগ রয়েছে, আপিল বিভাগের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সাভারের বিলামালিয়া মৌজার বিতর্কিত জমিতে ধারাবাহিক দলিল নিবন্ধন করা হয়। একই সঙ্গে দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে জালিয়াতি, রাজস্ব ফাঁকি এবং আইন লঙ্ঘনের অভিযোগও তুলে ধরা হয়। বিষয়টি সরকারের নজরে এলে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। অপরদিকে সাবরেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন আবদুল্লাহর অবৈধ সম্পদ অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত চলমান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
আইন মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ২০২১ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় দুই বছরে সাভারের বিলামালিয়া মৌজায় প্রায় আট হাজার দলিল নিবন্ধিত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসবের উল্লেখযোগ্য অংশ নিবন্ধিত হয়েছে এমন সময়, যখন ওই এলাকার নির্দিষ্ট জমি হস্তান্তরের ওপর আপিল বিভাগের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, আদালতের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকা অবস্থায় কোনো জমি হস্তান্তর বা নিবন্ধনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের কথা। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, বাস্তবে সেই নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়নি। বরং ধারাবাহিকভাবে দলিল নিবন্ধনের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞাকে কার্যত উপেক্ষা করা হয়। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্তে আদালতের আদেশ, নিবন্ধন রেকর্ড, দলিল সম্পাদনের তারিখ, জমির খতিয়ান, মৌজা মানচিত্র, রাজউকের সংশ্লিষ্ট চিঠিপত্র এবং নিবন্ধন আইনের বিধান পর্যালোচনা করা হবে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শুধু আদালতের আদেশ অমান্য হয়েছে কি না, সেটিই নয়; বরং পুরো নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় আইন অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, সেটিও যাচাই করা হবে। বিশেষভাবে দেখা হবে-আদালতের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা অবস্থায় কীভাবে দলিল নিবন্ধিত হলো। জমির প্রকৃত শ্রেণি গোপন বা পরিবর্তন করা হয়েছিল কি না; প্লট বিক্রিকে সাধারণ জমি বিক্রি হিসেবে দেখিয়ে ভ্যাট ও উৎসকর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে কি না; দলিল সম্পাদনের ক্ষেত্রে নিবন্ধন আইন ও বিধিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না; নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের গাফিলতি, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা যোগসাজশ ছিল কি না।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করবে তদন্ত প্রতিবেদন। প্রয়োজনীয় নথি, সরকারি রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পর্যালোচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্তে কেবল একটি বা দুটি দলিল নয়; সংশ্লিষ্ট সময়ের পুরো নিবন্ধন কার্যক্রম বিশ্লেষণ করা হবে। প্রয়োজন হলে বিপুলসংখ্যক দলিল, সংশ্লিষ্ট রেকর্ড এবং সরকারি নথিও যাচাই করা হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, তদন্তে যদি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে এটি শুধু একজন সাব-রেজিস্ট্রারের দায় নির্ধারণের বিষয় থাকবে না; বরং ভূমি নিবন্ধন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অনিয়ম, তদারকির দুর্বলতা এবং জবাবদিহির সংকটও সামনে চলে আসবে। অন্যদিকে অভিযোগ প্রমাণিত না হলে, সেই বিষয়টিও তদন্ত প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উঠে আসবে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি এখন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনের দিকে। কারণ সেই প্রতিবেদনই নির্ধারণ করবে-আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে হাজারো দলিল নিবন্ধনের অভিযোগ কেবল প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার ফল, নাকি এর পেছনে সক্রিয় ছিল একটি সুসংগঠিত অনিয়ম ও দুর্নীতির নেটওয়ার্ক।
অনুসন্ধানে পাওয়া কয়েকটি দলিল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বাস্তবে প্লট আকারে বিক্রি হওয়া জমি দলিলে সাধারণ জমি হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে। ফলে বাংলাদেশ রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী প্রযোজ্য ভ্যাট ও উৎসকর আদায় হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, কয়েকটি নির্দিষ্ট দলিল পর্যালোচনায় সরকারের প্রায় ১১ কোটি টাকার সম্ভাব্য রাজস্ব ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তে এই অভিযোগেরও পূর্ণাঙ্গ যাচাই করা হবে। রাজস্ব বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো জমির প্রকৃত ব্যবহার বা প্রকৃতি গোপন করে কম মূল্যে নিবন্ধন করা হলে শুধু সরকারের রাজস্বই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না; ভবিষ্যতে সেই সম্পত্তি নিয়ে আইনি জটিলতাও সৃষ্টি হতে পারে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, সাভার সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে মাইকেল মহিউদ্দিন আবদুল্লাহর দায়িত্ব পালনকালে (২১ নভেম্বর ২০২১ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৩) ওই মৌজায় প্রায় আট হাজার দলিল সম্পাদিত হয়। এর বড় একটি অংশই হয়েছে সর্বোচ্চ আদালতের হস্তান্তর নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করে। বর্তমানে খিলগাঁওয়ে কর্মরত এই কর্মকর্তা অবশ্য তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বিতর্কিত ওই আবাসন প্রকল্পটি নিয়ে উচ্চ আদালতে দীর্ঘ আইনি লড়াই হয়েছে।
রাজউকের মহাপরিকল্পনায় জলাধার ও বন্যাপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত স্থানে এমন প্রকল্পের বৈধতা বাতিল করেন সুপ্রিম কোর্ট। এরপর বিলামালিয়া ও বলিয়ারপুর মৌজার নির্দিষ্ট সম্পত্তিতে ক্রয়-বিক্রয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকার পাশাপাশি রাজউক জনসতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তিও জারি করে। তার পরও ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে হাজারো দলিল নিবন্ধনের নেপথ্যে কেবল প্রশাসনিক ত্রুটি নয়, বরং প্রভাবশালী ভূমিদস্যুদের সক্রিয়তা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দালাল চক্রের প্রলোভনে এখনো জমি কেনাবেচা থামেনি। ‘ভবিষ্যতে সরকার প্লট মালিকদের মোটা অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হবে’ এমন চটকদার আশ্বাসে অনেকেই বিনিয়োগ করছেন।
ভূমি নিবন্ধন বিধিমালা অনুযায়ী জমির শ্রেণি ভিত্তিক সরকারি মূল্য নির্ধারিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, আবাসিক বা ‘বাড়ি‘ শ্রেণির অতি মূল্যবান জমিকে দলিলে ‘সাইল’ বা নিচু জমি হিসেবে দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ নিবন্ধন ফি, স্ট্যাম্প শুল্ক ও স্থানীয় কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। তবে মাইকেল মহিউদ্দিনের দাবি, তার সময়ে জমির শ্রেণি বদল করে কোনো নিবন্ধন হয়নি।
সবচেয়ে ভয়ংকর জালিয়াতি হয়েছে ভ্যাট ও উৎস করের ক্ষেত্রে। ২০১০ সালের রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন আইন অনুযায়ী, রাস্তা বা অবকাঠামো উন্নয়ন করে জমি বিক্রি করলে বিক্রেতাকে ডেভেলপার হিসেবে গণ্য করে কর আদায় বাধ্যতামূলক। কিন্তু শত শত দলিলে রাস্তার উল্লেখ থাকলেও কর আদায়ের কোনো প্রমাণ মেলেনি। ২০২৩ সালে সম্পাদিত বেশকিছু দলিলে প্লটকে সাধারণ জমি দেখিয়ে প্রায় ১১ কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জ্যেষ্ঠ রাজস্ব কর্মকর্তার মতে, এটি কর আইনেরও মারাত্মক লঙ্ঘন, যা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তদন্তের আওতায় আসা উচিত।
অনুসন্ধানে আরো দেখা যায়, একই পাওয়ার অব অ্যাটর্নি ব্যবহার করে একটি জমিকে অসংখ্য ছোট অংশে ভাগ করে বিক্রি করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে একই দিন একাধিক ক্রেতার নামে দলিল হয়েছে, যা পুরোপুরি বাণিজ্যিক প্লট বিক্রির প্রতিচ্ছবি। অথচ কাগজে-কলমে একে সাধারণ জমি দেখিয়ে কর ফাঁকির সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। দলিলের বৈধতা নিশ্চিতে মুসাবিদাকারক (দলিল লেখক) ও শনাক্তকারীর সই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বহু দলিলে তা অনুপস্থিত। কোথাও নাম থাকলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রকৃত অস্তিত্ব নিয়ে সংশয় রয়েছে। নিবন্ধন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, পরিচয় যাচাই ছাড়া এসব ভুয়া দলিলের কারণে ভবিষ্যতে মারাত্মক মালিকানা বিরোধ ও আইনি জটিলতা তৈরি হবে।
মাইকেলের অপসারণ দাবি রূপগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জে
এর আগে নারায়ণগঞ্জ রূপগঞ্জের পূর্ব সাব-রেজিস্ট্রার থাকাকালীন দুর্নীতি, দলিল লেখক, দাতা ও গ্রহীতাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, নকল পেতে ভোগান্তিসহ নানা অনিয়মের প্রতিবাদে মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহর অপসারণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে দলিল লেখক ও ভেন্ডার সমিতি। সমিতির আহ্বায়কের পক্ষ থেকে দলিল লেখকরা কলম বিরতি কর্মসূচিও পালন করেন। এছাড়াও মুন্সিগঞ্জ সদর সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসে কর্মরত থাকায় মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহর অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী জনগণ ও দলিল লেখকরা। সংবাদ সম্মেলনে বেআইনীভাবে বরখাস্তকৃত দলিল লেখক ও ভুক্তভোগী জনসাধারণ তাদের অভিযোগ সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।
তারা জানান, দুর্নীতিবাজ ও স্বেচ্ছাচারী এই সাব রেজিষ্ট্রার মুন্সিগঞ্জে দায়িত্ব পালনের শুরু থেকেই দলিল লেখক ও সাধারণ জনগণের সঙ্গে বিদ্বেষমূলক আচরণ করে আসছেন। তার অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও দলিল লেখকদের সঙ্গে খারাপ আচরণের প্রতিবাদে ২০১৮ সালের প্রথম সপ্তাহে দলিল লেখক সমিতি ৭ দিনের কর্মবিরতি পালন করে। এই ৭ দিন মুন্সিগঞ্জ সদর সাব-রেজিষ্ট্রার অফিস থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় হয়নি। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সেই সময় প্রতিনিয়ত তার কর্মকান্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হতে থাকে।
এরপর তিনি চাপে পড়ে তার অন্যায্য দাবি-দাওয়া থেকে সরে এসে আর ভুল হবেনা স্বীকারোক্তি দিয়ে দলিল লেখকদের আন্দোলন থামান। এরপর থেকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে দলিল লেখকদের হয়রানি শুরু করেন। তার অনিয়ম দুর্নীতি এখনও চলমান। আন্দোলনের ৭ম দিনে দলিল লেখকদের সঙ্গে সমঝোতা বৈঠকের কথোপকথনের একটি অডিও টেপ এবং দলিল লেখকদের সঙ্গে দলিল প্রতি ঘুষ নির্ধারণের একটি বৈঠকের অডিও টেপ সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করা হয়। সাব-রেজিষ্ট্রারের অনিয়ম দুর্নীতির শিকার দলিল লেখক ও সাধারণ জনগণ সাংবাদিকদের মাধ্যমে তার বিচার এবং অপসারণ দাবি করেন।
একই অভিযোগ নারায়নগঞ্জের রূপগঞ্জে সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালীন। সাব-রেজিস্ট্রার দলিল লেখক ও ভেন্ডার সমিতির আহ্বায়ক মুশফিকুর রহমান রিপন বলেন, পূর্ব সাব-রেজিস্ট্রার মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহ দুর্নীতি, স্থানীয় দলিল লেখক, দাতা ও গ্রহীতাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। এছাড়া অহেতুক ছুটি নিয়ে অনুপস্থিত থাকেন তিনি। এতে নকল পেতে ভোগান্তিসহ নানা ধরনের দুর্ভোগ পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
তিনি বলেন, বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে তিনি আমাদের জিম্মি করে ফেলেছেন। অবিলম্বে তার প্রত্যাহার জরুরী। তাকে প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি চলবে। অভিযোগ অস্বীকার করে সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিন আব্দুল্লাহ বলেন, নতুন ভূমি আইন বাস্তবায়নে দলিল লেখকদের বা জমির মালিকদের আপত্তি থেকে ভুল বুঝাবুঝি সৃষ্টি হচ্ছে। কিছুদিন গেলেই এই সমস্যার সমাধান হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









