মধ্যপ্রাচ্যের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্রমবাজার ‘মালয়েশিয়া’ আর ‘সিন্ডিকেট’ শব্দটি যেন বাংলাদেশ নামের সমার্থক। কিন্তু এবার সেই সিন্ডিকেটকেও নিয়ন্ত্রণ করছে বিদেশি মাফিয়া। ফলে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার ঘিরে যে তোজজোড় এবং স্বপ্নে বিভোর সংশ্লিষ্টরা তাদের জন্য বিষয়টি রীতিমতো দুঃস্বপ্নের হয়েই দেখা দিয়েছে। কারণ, এতদিন যে সিন্ডিকেটের কবজায় ছিল এ খাতটি, এবার সেই স্বদেশি সিন্ডিকেটকেও নিয়ন্ত্রণ করছেন মালয়েশিয়ারই আরেক মাফিয়া চক্র, যেখানে দুটি দেশের সরকারও রীতিমতো অসহায়। একইসাথে আছে ছোট ও নামসর্বস্ব কিছু ‘ডামি’ এজেন্সি, যেগুলো নিয়ন্ত্রণ করছেন কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশি এই আদম ব্যবসা এখন নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে বিদেশ থেকে।
এদিনের অনুসন্ধানে জানা গেছে, অতীতে এই শ্রমবাজারে পেছন থেকে যেসব প্রভাবশালী কলকাঠি নেড়েছেন এখনো তারাই বহাল আছেন। মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর অনলাইন পদ্ধতি এফডব্লিউসিএমএসকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছেন মালয়েশিয়ার নাগরিকত্ব নেওয়া বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম বিন আবদুল নূর (দাতো আমিন)। সেখানে সে (দাতো আমিন) যেন মাফিয়ার ভূমিকায় আছেন। কারণ দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইবরাহিমের পারিবারিক ব্যবসায়িক পার্টনার তিনি। দাতো আমিনের কথার বাইরে গিয়ে শ্রমবাজার নিয়ে বিশেষ করে বাংলাদেশের ইস্যুতে কোনো সিদ্ধান্তে যান না মালয়েশিয়ার সরকার।
বাংলাদেশে তার মনোনীত সিন্ডিকেটের অন্যতম সদস্য বিতর্কিত ব্যবসায়ী রুহুল আমিন স্বপন, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) সাবেক মহাসচিব। তাঁর ঘনিষ্ঠ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মালয়েশিয়ার নাগরিক আমিনুল ইসলাম বিন আমিন নূর ওরফে দাতো শ্রী আমিনসহ বেশ কয়েকজন সহযোগী মিলে গড়ে তুলেছেন একটি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার সিন্ডিকেট। তাই নতুন করে শুরু হতে যাওয়া মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে তাদের ছায়াই স্পষ্ট হলো। আর এই সিন্ডিকেটের বড় অংশ মালয়েশিয়ায় বসবাস করছেন। শুধু কিছু মুখ পরিবর্তন হচ্ছে এজেন্সির নামে।
সম্প্রতি বাংলাদেশি ২৫ এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করে মালয়েশিয়া। এ নিয়ে বিতর্ক এবং অনুরোধের পর গত বৃহস্পতিবার সরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি বোয়েসেলকে যুক্ত করে ২৬ এজেন্সি বাংলাদেশ সরকারের এবং তাদের ৩১২ সহযোগী এজেন্সির তালিকা দেয় এফডব্লিউসিএমএস, যেটি শুক্রবার অনুমোদন দেয় প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়। সিন্ডিকেট হিসেবে পরিচিতি পাওয়ায় প্রথম তালিকার ২৫ এজেন্সির অধীন ১০টি করে ২৫০ এজেন্সিকে ‘অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি’ বলা হয়েছে। বাকি ৬২টিকে সরকারি এজেন্সি বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) সহযোগী বলা হয়েছে।
সূত্র জানায়, মূলত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে পুরনো জটিলতা কাটতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর আগে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর আগে মালয়েশিয়া সফর করে শিগগিরই এ বাজার খুলে যাচ্ছে বলে আশ্বস্ত করেন। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি বাংলাদেশি ২৫ এজেন্সির তালিকা প্রকাশ করলে এটা সিন্ডিকেট হিসেবে পরিচিতি পাওয়ায় এসব এজেন্সির অধীন ১০টি করে ২৫০ এজেন্সিকে ‘অ্যাসোসিয়েট রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি’ বলা হয়েছে। বাকি ৬২টিকে সরকারি এজেন্সি বোয়েসেলের সহযোগী বলা হয়।
যদিও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় নিজেদের ‘ইজ্জত রক্ষায়’ এগুলোর তালিকা প্রকাশ করেছে জানিয়ে অধিকাংশ রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক অভিযোগ করেন, ছোট ও নামসর্বস্ব কিছু ‘ডামি’ এজেন্সি রাখা হয়েছে, যেগুলো প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নিয়ন্ত্রণ করছেন। কারণ মালয়েশিয়ায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের প্ল্যাটফর্ম এফডব্লিউসিএমএস ৩৩৮ বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা প্রকাশে সংক্ষুব্ধ এজেন্সিগুলোর প্রতিনিধিদের অভিযোগ, এই ২৫ এজেন্সির সিন্ডিকেটের নেপথ্যে আগের মতোই সক্রিয় রয়েছে একটি প্রভাবশালী চক্র। মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর অনলাইন পদ্ধতি এফডব্লিউসিএমএসকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছেন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম বিন আবদুল নূর এবং বাংলাদেশে তার সহযোগী রুহুল আমিন স্বপন। তাই এ তালিকা প্রকাশ শুধু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ইজ্জত বাঁচানোর ব্যাপার মাত্র।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক সেলিম রেজা এটিকে ‘মাফিয়া গ্রুপ’ তৈরির প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছেন। তার ভাষ্য, ‘কিসের ভিত্তিতে এবং কোনো যোগ্যতায় এই ২৫টি এজেন্সিকে বেছে নেওয়া হলো, তা জনসমক্ষে খোলাসা করা হয়নি।’ পুরো প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ করতে একটি অনলাইন ট্র্যাকিং সিস্টেম চালু করার জোর সুপারিশ করেন এই অভিবাসন বিশেষজ্ঞ।
তাই এটিকে ‘আইওয়াশ’ বলছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিসের (বায়রা) একাংশ। তারা বলছে, সব প্রশ্নের পরিষ্কার উত্তর না করে শুধু ৩১২টি নাম প্রকাশ করে বাজার সিন্ডিকেটমুক্ত হয়েছে বলার সুযোগ নেই । বরং ২৫টি এজেন্সিই মূল নিয়ন্ত্রণে থাকবে, বাকিরা তাদের অধীনস্থ হয়ে সাব-এজেন্ট হিসেবে কাজ করবে।
এ ব্যাপারে বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল ইসলাম দৈনিক এদিনকে বলেন, ‘সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, এজেন্সি যাচাই-বাছাইয়ের কাজটি সম্পন্ন করেছে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত উচ্চপর্যায়ের যৌথ কমিটি। এতগুলো মন্ত্রণালয় কখন কিভাবে এই ২৫টি এজেন্সিকে তালিকাভুক্ত করল, সেটি খুব অবাক হওয়ার বিষয়। যেখানে এমন এজেন্সিও রয়েছে, যারা একজন কর্মীও পাঠায়নি।’
তিনি বলেন, ‘আগেও আমরা ১ হাজার ৪০০ রিক্রুটিং এজেন্সির নাম এফডব্লিউসিএমএসে পেয়েছি। কিন্তু কাজ করেছে ২৫ জন। ফলে এখানে নতুন কিছু নেই। পুরনো জিনিসকে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে হাজির করা হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এ তালিকার ব্যাপারে বর্তমান সরকার মালয়েশিয়ার কাছে অনুরোধ জানিয়েছিল- বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের ৪২৩টি রিক্রুটিং এজেন্সির মধ্যে যারা ফ্যাসিবাদী সরকারের সময় বিভিন্নভাবে সুবিধাভোগী এবং সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত, তাদের যেন বাদ দেওয়া হয়। এর পরই মালয়েশিয়া ২৫টি বাংলাদেশি রিক্রুটিং এজেন্সিকে সরাসরি এবং আরো ৩১২টি রিক্রুটিং এজেন্সিকে সহযোগী হিসেবে কর্মী পাঠানোর সুযোগ দিল। পাশাপাশি বোয়েসেল একই প্রক্রিয়ায় কর্মী পাঠানোর সুযোগ পাচ্ছে।’
‘কিন্তু যাদের শুক্রবার ফরেন ওয়ার্কার সেন্ট্রালাইজড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে (এফডব্লিউসিএমএস) এ অন্তর্ভুক্ত করা হলো, তারা কি সরাসরি কর্মী পাঠাতে পারবে? পারবে না। মূলত এরা ২৫ জনের সাব-এজেন্ট। এরা কিন্তু ২৫ জনের মুনাফার অংশও পাবে না। ২৫ এজেন্সিকে টাকা দিয়েই তবে তারা কর্মী পাঠাতে পারবে’- যোগ করেন ফখরুল। জনশক্তি ব্যবসায়ীরা বলছেন, সিন্ডিকেটে এজেন্সির নামে কর্মী পাঠাতে হলে, তা হবে অতীতের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি। কারণ যাদের সহযোগী এজেন্সি করা হয়, তারা মূল এজেন্সির কাছে জিম্মি এবং ফি দিয়েই কর্মী পাঠাতে হবে। এ কারণেই এ বিষয়ে মন্ত্রী-সচিবের মুখে কুলুপ।
এদিকে সম্প্রতি মালয়েশীয় সরকার যে ২৫টি এজেন্সির নাম প্রকাশ করেছে সেই তালিকায় সাবেক অনেক সিন্ডিকেট সদস্যের নামও আছে। এ তালিকায় থাকা ম্যানগ্রুপ কেয়ার লিংক-এর ম্যানেজিং পার্টনার যুবদলের বর্তমান সহসভাপতি আতিকুর রহমান বিশ্বাসের স্ত্রী সাবিহা সুলতানা। আবার আগের সিন্ডিকেটে ছিলেন গ্রিনল্যান্ড ওভারসিজের স্বত্বাধিকারী আবদুল হাই। এবার তার স্ত্রীর নামে ‘ইউনাইটেড গালফ’ এজেন্সি তালিকাভুক্ত।
এ রকম আরো অন্তত ১১টি রিক্রুটিং এজেন্সির নাম পাওয়া গেছে, সেগুলো আগের সিন্ডিকেটে অন্য নামে ছিল। একইভাবে কয়েকটি রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক অভিযোগ করেছেন, ছোট ও নামসর্বস্ব কিছু ‘ডামি’ এজেন্সি রাখা হয়েছে, যেগুলো প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নিয়ন্ত্রণ করছেন। এদের সবার নিয়ন্ত্রক মালয়েশিয়ার মাফিয়া দাতো আমিন।
এ বিষয়ে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং সচিব মোখতার আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্প্রতি এক বিজ্ঞপ্তিতে বলছে, বর্তমান সরকারের অব্যাহত প্রচেষ্টার ফলে শিগগিরই মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের দুয়ার খুলছে। বড় মাইলফলক হলো– সরকারের বিশেষ অনুরোধে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ ১০ হাজার কর্মীকে বিনামূল্যে নিতে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে। কিন্তু এই ১০ হাজার কর্মী মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় ঘোষিত ১৫ হাজারের কোটার নাকি সম্পূর্ণ আলাদা, তা উল্লেখ নেই।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে বাংলাদেশসহ ১৬টি দেশের সঙ্গে কর্মী নেওয়ার চুক্তি করে মালয়েশিয়া, যা আগামী ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে। মূলত ওই চুক্তির শেষ কোটা ১৫ হাজার। তাই আলাদা করে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী যাওয়ার সুযোগ খুবই কম। আবার ১৬ দেশের ভাগেই যদি ১৫ হাজার কর্মী হয়, তাহলে বাংলাদেশের অংশ ১ থেকে ২ হাজার। ফলে সত্যিকার অর্থে কতজন কর্মী মালয়েশিয়া যেতে পারবেন, তা এখনো অনিশ্চিত।
অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, ‘অতীতে যা হয়েছে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ে এখনো তা-ই হচ্ছে। মালয়েশিয়ার দিক থেকে তারা নির্ধারণ করে দিচ্ছে। এমনকি দ্বিপক্ষীয় যে সমঝোতা স্মারক, সেখানেও দেখা যাচ্ছে– তারা যেসব শর্ত দিচ্ছে, বাংলাদেশ পুরোপুরি মেনে নিচ্ছে।’
এদিকে মালয়েশিয়ার বিদেশি কর্মী নিয়োগ ব্যবস্থায় সিন্ডিকেট, একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ও সীমিত সংখ্যক এজেন্সিকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার বিরুদ্ধে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে যৌথভাবে বিৃবতি দিয়েছে বাংলাদেশ, নেপাল, পাকিস্তান ও মিয়ানমারের সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং অ্যাসোসিয়েশনগুলো। গত বৃহস্পতিবার দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে সব বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির জন্য সমান সুযোগ, স্বচ্ছতা ও ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। একইসঙ্গে মালয়েশিয়া শ্রমবাজার কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণে নয়; সব বৈধ এজেন্সির জন্য উন্মুক্ত, স্বচ্ছ ও বৈষম্যহীন হতে হবে মর্মে অভিন্ন অবস্থান জানিয়েছে চার দেশ।
মালয়েশিয়ায় দাতো আমিনের সাম্রাজ্যে
সূত্র জানায়, দারিদ্র্যের কশাঘাতে নব্বইয়ের দশকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান দাতো শ্রী আমিন। উচ্চশিক্ষায় অগ্রসর হতে না পারলেও চতুরতায় ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। কিছুদিনের মধ্যে তিনি জড়িয়ে পড়েন পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ নানা অপরাধে। গলাকাটা পাসপোর্টে বাংলাদেশিদের মালয়েশিয়ায় অবৈধ প্রবেশে গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। অপরাধে জড়িয়ে একাধিকবার কারাভোগ করেন মালয়েশিয়ায়। একটি কোম্পানির ৫০০ পাসপোর্ট জালিয়াতির ঘটনার মধ্য দিয়ে ব্যবসায়ীর রূপ নেন তিনি।
২০০৭-০৮ সালে হাজার হাজার বাংলাদেশিকে ভুয়া ভিসায় মালয়েশিয়ায় পাঠিয়ে রাস্তায় ছেড়ে দেন তিনি ও তাঁর দালালচক্র। ওইসব কর্মীর বড় অংশ কারাভোগ শেষে শূন্য হাতে দেশে ফিরতে বাধ্য হয়। এর জের ধরেই মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়া বন্ধ করে দেয়। এই নিষেধাজ্ঞার আগেই দাতো আমিন হাতিয়ে নেন শত শত কোটি টাকা। বিপুল অর্থের জোরে তিনি পেয়ে যান মালয়েশিয়ার নাগরিকত্ব ও ‘দাতো শ্রী’ উপাধি। এরপর ২০১৬ ও ২০২২ সালে আবারও সিন্ডিকেট করে হাজার কোটি টাকা লোপাট করেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশ থেকে স্বপনের মাধ্যমে অর্থ পাচার করে মালয়েশিয়ায় নিতেন আমিন। এজন্য ব্যবহার করা হতো তাঁর ১৯টি কোম্পানিকে। তাঁর চতুরতায় এখন পর্যন্ত মালেশিয়ান সরকার তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। মালয়েশিয়ায় থাকা তাঁর কোম্পানিগুলো হলো—বেস্টিনেট আইটি সলিউশনস, বেস্টিনেট পেমেন্ট সার্ভিসেস, সোলেস এশিয়া, টিএফজি দ্য ফার্ম গ্রুপ, ব্রডফিল্ড ন্যাচারাল রিসোর্সেস, (আগে বেস্টিনেট এফডব্লিউকিউএস,) ক্রিস্টাল ক্লিয়ার টেকনোলজি, এটিলাইস এআই, কানেক্টেড মোবিলিটি টেকনোলজিস, অ্যাটিলজে ডিজিটাল, জিথ্রি টেকনোলজিস, এজিথ্রি, এটিলাইজস সলিউশন, জিথ্রি হেলথ, জয়েন্ট রিসোর্সেস এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সি, বেস্টিনেট টেকনোলজি, কেরিকম, কুনচি সেমাঙ্গাত, মাসডটস, র্যাফলসকেয়ার (এম) এসডিএন বিএইচডি (মালেশিয়ায় প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে এটি লেখা হয়)। এ ছাড়া কানাডা, দুবাই, সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর বিনিয়োগ রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









