সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার আলীরগাঁও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে দীর্ঘ দিন ধরে কোনো ডাক্তার বা কর্মকর্তা না থাকায় চরম চিকিৎসা সংকটে ভুগছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এই কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠিত হলেও বর্তমানে এটি নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। চিকিৎসা সেবা নিতে আসা সাধারণ রোগীদের এখন একমাত্র ভরসা কেবল ওই কেন্দ্রের আয়া।
সরেজমিনে সোমবার দুপুরে আলীরগাঁও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, পুরো কেন্দ্রটি প্রায় জনশূন্য। ভেতরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো চিকিৎসক, উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো) কিংবা পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা (এফডব্লিউভি) উপস্থিত নেই। পুরো কেন্দ্রে একা বসে আছেন আয়া দিলারা বেগম। তিনিই নামমাত্র অফিসটি খুলে পাহারা দিচ্ছেন। কোনো রোগী এলে পরামর্শ বা ওষুধ দেওয়ার মতো কোনো লোক নেই।
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সপ্তাহের শুধুমাত্র বুধবারে জাফলং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র থেকে একজন কর্মকর্তা এসে এখানে কোনোমতে কয়েক ঘণ্টার জন্য সেবা প্রদান করেন। সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতে এখানে কোনো কর্মকর্তা থাকেন না। ফলে আলীরগাঁও ইউনিয়নের দূর-দূরান্ত থেকে আসা গর্ভবতী নারী, শিশু ও বৃদ্ধ রোগীরা চিকিৎসা ও সরকারি ওষুধ না পেয়ে প্রতিনিয়ত নিরাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। সামান্য সর্দি, জ্বর কিংবা জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসার জন্যও তাদের এখন অতিরিক্ত টাকা ও সময় খরচ করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কিংবা জেলা সদরের হাসপাতালে যেতে হচ্ছে।
সেবা নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আজির উদ্দিন ও শেরগুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা গরিব মানুষ, বড় ডাক্তারের কাছে গিয়ে ফি দিয়ে চিকিৎসা করার সামর্থ্য আমাদের নেই। সরকারি এই কেন্দ্রে এসে ডাক্তার দেখাব এবং ওষুধ পাব—এই আশায় এসে দেখি হাসপাতাল ফাঁকা। শুধু আয়া একাই বসে আছেন। বুধবার ছাড়া অন্য কোনো দিন এলে এখানে কোনো ডাক্তার পাওয়া যায় না। আমাদের এই কষ্ট দেখার কেউ নেই।
সরেজমিন পরিদর্শনের সময় কেন্দ্রের আয়া দিলারা বেগম নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, এখানে দীর্ঘ দিন ধরে কোনো ডাক্তার বা বড় কর্মকর্তা নেই। আমি একা মানুষ, শুধু কেন্দ্রটি খুলে বসে থাকি। রোগীরা এসে ডাক্তার না পেয়ে আমার ওপর রাগ করেন। সপ্তাহে কেবল বুধবার জাফলং থেকে একজন ম্যাডাম আসেন, তখন কিছু রোগী ওষুধ পান। বাকি দিনগুলোতে রোগীরা এসে ঘুরে যান। একা এই বড় কেন্দ্র সামলানো আমার পক্ষেও কঠিন হয়ে পড়েছে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বদরুল ইসলাম জানান, আলীরগাঁও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে জনবল সংকটের বিষয়টি আমাদের জানা আছে। কর্মকর্তা সংকটের কারণেই মূলত জাফলং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে ডেপুটেশনে সপ্তাহে এক দিন (বুধবার) একজনকে পাঠিয়ে কোনোমতে সেবা সচল রাখা হয়েছে। আমরা শূন্য পদের বিবরণ উল্লেখ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত চিঠি পাঠিয়েছি। নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ বা পদায়ন হলেই এখানে সার্বক্ষণিক চিকিৎসক ও স্টাফ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সাময়িক এই জনভোগান্তির জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
তৃণমূলের অবহেলিত ও দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে আলীরগাঁও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে স্থায়ী কর্মকর্তা ও চিকিৎসক নিয়োগ দিয়ে কেন্দ্রটি পূর্ণাঙ্গভাবে সচল করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









