দেশের বাজারে আবারও সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। প্রতি লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়ে বোতলজাত সয়াবিন তেলের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২০৪ টাকা। কয়েক মাস আগেই দাম বাড়িয়ে ১৯৯ টাকা করা হয়েছিল। তার আগে ছিল ১৯৫ টাকা। অর্থাৎ, অল্প সময়ের ব্যবধানে তিন দফায় ভোক্তাকে বাড়তি ব্যয়ের মুখে পড়তে হচ্ছে। অন্যদিকে পাম অয়েলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি, আমদানি ব্যয় এবং সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতিকে দাম সমন্বয়ের কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এসব কারণ যে ভোজ্যতেলের দামের ওপর প্রভাব ফেলে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। বাংলাদেশ ভোজ্যতেলের চাহিদার বড় অংশ আমদানিনির্ভর হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামা এবং ডলারের বিনিময় হার সরাসরি অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রভাব ফেলে। কিন্তু প্রশ্ন হলো- এই মূল্যবৃদ্ধির পুরো চাপ কি প্রতিবারই ভোক্তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে?
সয়াবিন তেল বিলাসপণ্য নয়; এটি বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের খাদ্যব্যয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ তেলের পেছনে যায়। প্রতি লিটারে ৫ টাকা বৃদ্ধি আপাতদৃষ্টিতে সামান্য মনে হলেও মাসিক বাজার খরচে এর প্রভাব কম নয়। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো যখন চাল, ডাল, সবজি, মাছ, মাংসসহ প্রায় সব পণ্যের বাড়তি দামের সঙ্গে লড়ছে, তখন ভোজ্যতেলের নতুন মূল্য তাদের ওপর আরো চাপ তৈরি করবে।
এখানে সরকারের দায়িত্ব শুধু দাম ঘোষণা বা সমন্বয় করা নয়; বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাও জরুরি। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে দেশে দাম বাড়বে- এটি স্বাভাবিক। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে সেই সুবিধা ভোক্তারা কত দ্রুত পান, সেটিও নিয়মিতভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আমদানি থেকে পাইকারি ও খুচরা পর্যায় পর্যন্ত মূল্যশৃঙ্খলে কোথায় অযৌক্তিক ব্যয় বা অতিরিক্ত মুনাফা যুক্ত হচ্ছে, তা নজরদারির আওতায় আনতে হবে।
সরকারকে ভোজ্যতেলের বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ানো, আমদানি ও সরবরাহব্যবস্থায় অপ্রয়োজনীয় প্রতিবন্ধকতা কমানো এবং মজুতদারি ও কৃত্রিম সংকটের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতা ও কার্যকারিতা বাড়ানো জরুরি।
দাম সমন্বয় যদি অনিবার্য হয়, তবে তার ভিত্তি ও হিসাব জনসম্মুখে স্পষ্ট করা উচিত। এতে ভোক্তার আস্থা বাড়বে এবং ব্যবসায়ীদের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির সুযোগও কমবে। সয়াবিন তেলের নতুন দাম তাই কেবল একটি পণ্যের দাম বাড়ার ঘটনা নয়; এটি জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বৃহত্তর সংকেত। বাজার বাস্তবতার দোহাই দিয়ে ভোক্তাকে বারবার বাড়তি খরচের বোঝা দেওয়া কোনো টেকসই সমাধান হতে পারে না। প্রয়োজন এমন নীতি, যেখানে ব্যবসায়ীর ন্যায্য স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও স্বস্তি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









