কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের সৈয়দপুর বাজার এলাকা থেকে গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে একটি নাশকতা মামলায় আলম হাজারী নামের উপজেলা বিএনপির এক নেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অথচ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। তবে গোপনে ঠিকই সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে অর্থের জোগান দিতেন গ্রেপ্তার হওয়া নব্য এই বিএনপি নেতা। এমন বাস্তবতায় প্রশ্ন উঠেছে- কাদের ইশারা-ইঙ্গিত আর নেতৃত্বে চলছে বিএনপির কার্যক্রম?
কারণ দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা, হামলা, গ্রেপ্তার আর নির্যাতনের মধ্য দিয়ে বিএনপির রাজনীতিতে টিকে থাকা নেতা-কর্মীদের অনেকেই এখন নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত। ক্ষমতার পালাবদলের পর দলের সামনে যখন নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা, তখনই তৃণমূলে দেখা দিয়েছে পুরনো বনাম নতুনের টানাপোড়েন। দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতা-কর্মীদের অভিযোগ- দুঃসময়ে যারা ছিলেন না, সুদিন ফিরতেই তাদের অনেকে বিএনপিতে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। ফলে ত্যাগীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বঞ্চনা ও হতাশা। এসব ‘বসন্তের কোকিলের’ দাপটে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে বিএনপির ভাবমূর্তি।
জানা গেছে, রাজনৈতিক দৃশ্যপটের পরিবর্তনের সাথে সাথে মাঠপর্যায়ে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে এক নতুন সংকট। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে দেখা যাচ্ছে ব্যাপক পরিবর্তন। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-হামলা আর জেল-জুলুম সহ্য করা 'ত্যাগী' নেতা-কর্মীরা যখন মূল্যায়নের প্রত্যাশায় ছিলেন, ঠিক তখনই একশ্রেণীর সুযোগসন্ধানী, যাদের রাজনৈতিক অঙ্গনে 'বসন্তের কোকিল' বলা হয়- দলের নিয়ন্ত্রণ ও সুযোগ-সুবিধার ভাগ বসাতে শুরু করেছে। এই নব্য বিএনপি নেতাদের নানা অনিয়ম, দখলদারি ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জেরেই আজ বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে পুরো রাজনৈতিক দলটি।
সূত্র জানায়, বিগত ১৫ বছরের কঠিন সময়ে দলীয় কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে হাজার হাজার নেতা-কর্মী ভিটেমাটি ছাড়া হয়েছেন, বছরের পর বছর খেটেছেন জেল। কিন্তু পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে তাদের অনেকেরই ঠাঁই হচ্ছে না প্রথম সারিতে। দলীয় পদায়ন, স্থানীয় নিয়ন্ত্রণ কিংবা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তারা দিন দিন আরো কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন। ত্যাগীদের অভিযোগ, বিগত দিনে যারা রাজপথে ছিল না, এমনকি অনেকে ক্ষমতাসীনদের সাথে আঁতাত করে চলেছে, তারাই এখন টাকার জোরে বা ক্ষমতার দাপটে সামনে চলে আসছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে জমি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল, চাঁদাবাজি, ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পেছনে উঠে আসছে নব্য নেতা-কর্মীদের নাম। এদের মধ্যে অনেকেই রাতের আধারে দল পরিবর্তন করে বিএনপিতে ভিড়েছে। এদের অপকর্মের দায় এসে পড়ছে দীর্ঘদিনের আদর্শিক কর্মীদের ঘাড়ে, যা সর্বসাধারণের মাঝে বিএনপির ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করছে। এদের কারণে দীর্ঘ হচ্ছে বদনামের খতিয়ান। যেমন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আলম হাজারী দেবিদ্বার উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর ২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর দেবিদ্বারের সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য প্রকৌশলী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর বাসায় আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন তিনি। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মিছিল-মিটিংয়ে অর্থের জোগান দেওয়ার অভিযোগে দায়ের করা একটি নাশকতা মামলায় তাকে গত শুক্রবার গ্রেপ্তার করা হয়।
এমন বাস্তবতায় বিএনপির সামনে এখন ‘ত্যাগী বনাম কোকিল’বিতর্কের সমাধান জরুরি বলে মনে করছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। তারা বলছেন, নতুনদের জন্য দরজা খোলা থাকবে- এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সেই দরজা দিয়ে যেন দুঃসময়ের কর্মীরা বেরিয়ে যেতে বাধ্য না হন, সেটিই বড় পরীক্ষা। কারণ বসন্তের কোকিলের কণ্ঠ যতই মধুর হোক, শীতের দীর্ঘ রাতে পাহারা দেওয়া কর্মীদের অবদান ভুলে গেলে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনই দীর্ঘমেয়াদে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়াতে পারে না।
তাই বিএনপির সামনে এখন প্রশ্ন একটাই- সুদিনে যারা এসেছে, তাদের জায়গা হবে; কিন্তু দুঃসময়ে যারা ছিল, তাদের ঠেলে ফেলে দিয়ে কি?
দলটির তৃণমূলের এই অসন্তোষ এখন আর শুধু ব্যক্তিগত আড্ডা কিংবা ঘরোয়া আলোচনায় সীমাবদ্ধ নেই। বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ‘ত্যাগের মূল্যায়ন’নিয়ে প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। সম্প্রতি বঞ্চিত ও অবহেলিত নেতা-কর্মীদের নিয়ে ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ত্যাগী ঐক্য পরিষদ’নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশের খবরও এসেছে।
এমনই অভিযোগ করে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি গাজী সিরাজ নিজ দলের ভেতরের বৈষম্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘বিএনপিতে এখন নেতার ছেলে নেতা হচ্ছে, নেতার সন্তানরা গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও পদ-পদবি পাচ্ছেন। তাহলে আমরা গত ১৭ বছর কী করেছি? ঘাস কেটেছি?’
তিনি আরো বলেন, ‘যারা হামলা-মামলা, গ্রেপ্তার, জেল-জুলুম, নির্যাতন আর রাজনৈতিক নিপীড়নের মধ্য দিয়ে বছরের পর বছর দলকে টিকিয়ে রেখেছেন তাঁদের জায়গা কোথায়? আর যারা ক্ষমতার কঠিন সময়ে মাঠে ছিলেন না, তাঁদের সন্তানরা যদি ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসেন, তাহলে ত্যাগের মূল্য কোথায়?’
তিনি আরো কঠিন প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘যে নেতাদের সন্তানরা আজ উত্তরাধিকার সূত্রে পদ-পদবি পাচ্ছেন, তাঁদের কতজন গত ১৭ বছরে এক দিনের জন্যও জেলে গেছেন? কতজন রাজপথে পুলিশের লাঠি খেয়েছেন? কতজন মামলা কাঁধে নিয়ে ঘুরেছেন?’
গত ১৭ বছরের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের সঙ্গে এর চেয়ে বড় প্রহসন আর কী হতে পারে? এমন প্রশ্নও তুলেছেন সিরাজ।
দলীয় একাধিক নেতা বলেন, গাজী সিরাজ অন্তত সেই অস্বস্তিকর কথাটিই প্রকাশ্যে বলেছেন, যেটি অনেকে হয়তো ভেতরে ভেতরে বলছেন, ত্যাগীদের বাদ দিয়ে উত্তরাধিকারীদের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা হলে দল শুধু ক্ষমতায় যেতে পারে, কিন্তু আদর্শের জায়গায় জিততে পারে না।
এদিকে গত শুক্রবার রাজধানীর গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল প্রসঙ্গে বিএনপির অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা করছেন। তারা বলছেন, ত্যাগীদের কোণঠাসা করে সুযোগসন্ধানীদের জায়গা দিলে তো এমনই হবে। কারণ, ত্যাগীরা অভিমানে এখন আর রাজপথে নামতে চান না।
দলের সিনিয়র অনেক নেতার মতে, ক্ষমতার বাইরে থাকা অবস্থায় একটি দলের সাংগঠনিক শক্তি আর ক্ষমতায় যাওয়ার পর সেই দলের রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা এক নয়। বিরোধী অবস্থানে যাদের ওপর নির্ভর করতে হয়, ক্ষমতায় যাওয়ার পর তাদের পাশাপাশি নতুন সামাজিক ও রাজনৈতিক শক্তিকেও দলে জায়গা দিতে হয়। কিন্তু এই ভারসাম্য রক্ষা করতে ব্যর্থ হলে পুরনো কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দৈনিক এদিনকে বলেন, ‘আমাদের দলের প্রত্যেক নেতা-কর্মীর ত্যাগ অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে তাঁরা বীরের মতো লড়েছেন। নানাভাবে ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন। সবাইকে দল যথাযথভাবে মূল্যায়ন করবে। তবে অনেকেই হতাশার কথা বলছেন। আশা করি একটা সময় সার্বিক পরিস্থিতি তারা বুঝতে পারবেন। সবেমাত্র বিএনপি সরকার গঠন করেছে। দেশ গঠনের কাজ চলমান। পাশাপাশি বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের ত্যাগী নেতারা মূল্যায়িত হবেন।’
২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের আগস্ট পর্যন্ত দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরে প্রায় দেড় লাখ মামলায় ৬০ লাখ নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়েছে বলে দাবি বিএনপির। কারও কারও বিরুদ্ধে জমেছে মামলার পাহাড়।
সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন রাজনীতিতে নিষ্ক্রিয় থাকা কিংবা অন্য রাজনৈতিক পরিচয়ে থাকা কিছু ব্যক্তি নতুন করে বিএনপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হচ্ছেন। কেউ কেউ গুরুত্বপূর্ণ পদ-পদবি কিংবা নির্বাচনী রাজনীতিতে নিজেদের জায়গা করে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তৃণমূলের ভাষায়, বসন্ত এলে যেমন কোকিলের দেখা মেলে, তেমনি সুদিন ফিরতেই দলে নতুন মুখের আনাগোনা বেড়েছে। তাই এই ‘কোকিল’ বিতর্কই এখন বিএনপির তৃণমূল রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয়।
অনেকেই আক্ষেপ করে বলছেন, আন্দোলনের সময় যাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি, তারাই এখন প্রভাবশালী। আর যারা জীবনবাজি রেখে রাজপথে ছিলেন, তারা অবহেলিত। কেউ কেউ সরাসরি দলের কাছে ত্যাগের স্বীকৃতি দাবি করছেন। তাঁদের মতে, শুধু ক্ষমতায় আসাই শেষ কথা নয়, যাঁরা এই পথ তৈরি করেছেন, তাঁদের মূল্যায়ন না হলে দলীয় ঐক্য ও ভবিষ্যৎ রাজনীতি হুমকির মুখে পড়তে পারে।
তবে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের যুক্তি ভিন্ন। একটি বড় রাজনৈতিক দলকে শুধু পুরনো কর্মীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। নতুন নেতা, নতুন ভোটার, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং নির্বাচনীভাবে জনপ্রিয় ব্যক্তিদেরও দলে জায়গা দিতে হবে। নির্বাচনে জয়ের জন্য সাংগঠনিক ত্যাগের পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততা, জনপ্রিয়তা ও নির্বাচনী সক্ষমতাও বিবেচনায় নিতে হবে। যদিও তৃণমূলের পাল্টা প্রশ্ন- নতুনদের জায়গা দিতে গিয়ে পুরনোদের বাদ দেওয়া হবে কেন?
এই প্রশ্নটি বিশেষভাবে সামনে এসেছে সাংগঠনিক পুনর্গঠনকে ঘিরে। বিএনপি নেতৃত্ব ইতোমধ্যে তৃণমূলে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি পুনর্গঠন এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে দলকে প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়েছে।
অর্থাৎ আগামী কয়েক মাসে ইউনিয়ন, উপজেলা, পৌরসভা, জেলা ও মহানগর পর্যায়ে নেতৃত্বের পুনর্বিন্যাস হতে পারে। আর সেখানেই ত্যাগী বনাম নতুনদের দ্বন্দ্ব আরো প্রকাশ্য হওয়ার আশঙ্কা করছেন দলের নেতা-কর্মীরা।
কারণ পদ-পদবির পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচনও এখন বড় ফ্যাক্টর। বিএনপি স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সাংগঠনিক পরীক্ষার অংশ হিসেবে দেখছে এবং তৃণমূলকে প্রস্তুতি নিতে বলেছে।
দলের ভেতরে আলোচিত আরেকটি বিষয় হচ্ছে- কাকে ‘ত্যাগী’হিসেবে বিবেচনা করা হবে? শুধু মামলা আছে- এমন নেতাই কি ত্যাগী? নাকি দীর্ঘদিন মাঠে সক্রিয় থাকা, দলের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া, সংগঠন ধরে রাখা, সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রতিকূল সময়ে নেতা-কর্মীদের পাশে থাকাও ত্যাগের মাপকাঠি হবে? এই প্রশ্নের সুস্পষ্ট উত্তর না থাকলে স্থানীয় পর্যায়ে নতুন করে বিভাজন তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে তৃণমূলের কর্মীরা বলছেন, শুধু কর্মসূচি দিলেই হবে না; তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন পদ-পদবি ছাড়াই দলের সঙ্গে ছিলেন, তাদের মধ্যে ক্ষোভ সবচেয়ে বেশি। তাদের বক্তব্য- ‘দুঃসময়ে পদ-পদবি না থাকলেও দল ছাড়িনি। এখন সুসময় এসেছে; কিন্তু এখন যদি আমাদেরই জায়গা না থাকে, তাহলে ত্যাগের মূল্য কী?’
তাই অনতিবিলম্বে দলে সদ্য যোগদানকারী বা বিতর্কিত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের দলীয় কার্যক্রম থেকে বিরত রাখাসহ বেশ কিছু বিষয়ে দলকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে মনে করছেন তৃণমূলের নেতারা। তাঁদের মতে, দলের প্রতিটি স্তরে ত্যাগী ও বিগত দিনের নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের যথাযথ সম্মান ও পদায়ন নিশ্চিত করা, ব্যক্তির অনিয়মকে কোনোভাবেই দলের অনিয়ম বানাতে না দিয়ে দ্রুত কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। নইলে রাজনীতিতে 'বসন্তের কোকিলদের' দাপট বন্ধ না হলে ত্যাগী কর্মীদের হতাশা বাড়বে এবং জনগণের আস্থায় ফাটল ধরবে। তাই হাইকমান্ডের এখনই এদের দমনে কঠোর হওয়া জরুরি বলেও মনে করছেন তারা।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল দৈনিক এদিনকে বলেন, ‘বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে আমাদের বিভিন্ন সময়ে ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনে উৎসাহিত করেছেন। তিনি সবকিছু অবগত রয়েছেন। চেয়ারম্যান যথাসময়েই দলের ত্যাগী নেতা-কর্মী যারা আছেন, তাদের পুরস্কৃত ও সম্মানিত করবেন। এই বিশ্বাস আমার আছে।’
জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু দৈনিক এদিনকে বলেন, ‘প্রথমত সবাই তো (ত্যাগী নেতা) এমপি, মন্ত্রী কিংবা প্রত্যাশিত পদ পাবেন না। কারণ, পরিবর্তনের পর একটা পার্টি পছন্দমতো জায়গায় সবাইকে স্থান দিতে পারবে- এমনটা ভাবা উচিত নয়। সেদিক থেকে সরকারের মেয়াদ দুই মাস পেরোয়নি। এখনই কোনো বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









