আপনি যদি মনে করেন যে মহাশূন্যে ভিনগ্রহের প্রাণী বা এলিয়েন রয়েছে, তবে জেনে রাখুন—আপনি একা নন! প্রকৃতপক্ষে, একটি গবেষণায় দেখা গেছে, শীর্ষস্থানীয় অ্যাকাডেমিক, ডাক্তার এবং বিজ্ঞানীসহ আমাদের মধ্যে ৯৫ শতাংশ মানুষই এলিয়েন বা গবেষণার ভাষায় 'এক্সট্রা-টেরেস্ট্রিয়াল' সত্তায় বিশ্বাস করেন… কিন্তু আমরা তা প্রকাশ্যে স্বীকার করতে চাই না। হাস্যোস্পদ হওয়ার ভয়ে বেশিরভাগ মানুষই মুখ ফুটে বলেন যে তারা দূরের কোনো গ্যালাক্সিতে বা ছায়াপথে জীবনের অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন না।
ভিনগ্রহের জীবনে মানুষের বিশ্বাস কতটুকু, তা নিয়ে গবেষণা করতে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইসরাইলের রাইখম্যান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ৬,১১৪ জন উচ্চশিক্ষিত ও বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহী ব্যক্তির ওপর জরিপ চালান। এদের সবারই ডিগ্রি, স্নাতকোত্তর বা ডক্টরেট ডিগ্রি রয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের গড় বয়স ছিল ৪৯ বছর এবং তাদের বড় একটি অংশ যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন ও কানাডার বাসিন্দা।
গবেষণায় দেখা গেছে, ৯৫ শতাংশ উত্তরদাতা বিশ্বাস করেন যে মহাবিশ্বে বুদ্ধিমান ভিনগ্রহের প্রাণীর অস্তিত্ব রয়েছে।
অন্যদিকে, মাত্র ১ শতাংশ মানুষ মনে করেন যে এলিয়েনদের অস্তিত্ব থাকার সম্ভাবনা একেবারেই নেই বা খুব কম। তবে এই দলের মানুষ ধারণা করেছিলেন যে তাদের সহকর্মীদের মধ্যে হয়তো মাত্র অর্ধেক (৪৮ শতাংশ) মানুষ বুদ্ধিমান এলিয়েনের অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন।
গবেষকরা লিখেছেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে প্রায় সবাই মেনে নিলেও, বুদ্ধিমান ভিনগ্রহের প্রাণীর অস্তিত্ব সম্পর্কিত বিশ্বাসের কথা প্রকাশ্যে বলতে সামাজিক নানা বাধা কাজ করে। বিশেষ করে শিক্ষিত মানুষের মধ্যে অবৈজ্ঞানিক হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার ভয় এই বিশ্বাস প্রকাশে বাধা সৃষ্টি করে। এলিয়েন বা এক্সট্রা-টেরেস্ট্রিয়াল ইন্টেলিজেন্সের বিশ্বাসকে মূলধারার বাইরে বা ষড়যন্ত্র তত্ত্বের (কনস্পিরেসি থিওরি) সাথে মিলিয়ে দেখার কারণে সমাজে সুনাম হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়। এই ভুল ধারণার ফলে একটি চক্র তৈরি হয়; মানুষ তাদের বিশ্বাসের কথা প্রকাশ করে না এবং অন্যের নীরবতাকে তারা তাদের সংশয় বা অবিশ্বাস হিসেবে ধরে নেয়।’
জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা বিশেষজ্ঞদের বিশ্বাসের দৃঢ়তাকেও বেশ কম করে অনুমান করেছিলেন। তারা ভেবেছিলেন যে হয়তো মাত্র ২১ শতাংশ বিশেষজ্ঞ দৃঢ়ভাবে এলিয়েনের অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন। অথচ বাস্তবে প্রায় ৬০ শতাংশ অ্যাস্ট্রোবায়োলজিস্ট (বিজ্ঞানী যারা পৃথিবীর বাইরে জীবনের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা করেন) এলিয়েনের অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন।
কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সায়েন্স জার্নাল 'ArXiv'-এ প্রকাশিত এই গবেষণায় লুকিয়ে রাখা এই বিশ্বাসকে 'কসমিক ক্লোসেট' বা 'মহাজাগতিক গোপনীয়তা' হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। গবেষকরা যোগ করেন, এটি ‘বহুত্ববাদী অজ্ঞতার (Pluralistic Ignorance) অন্যতম বড় উদাহরণ’—যেখানে মানুষ মনে করে অন্য সবাই একটি নিয়ম বা ধারণা মেনে চলছে, তাই ভুল জেনেও নিজেরা তা অনুসরণ করে চুপ থাকে।
গত মাসে যুক্তরাজ্যের একজন অন্যতম শীর্ষ মহাকাশ বিজ্ঞানী ঘোষণা দিয়েছিলেন যে তিনি মহাশূন্যে এলিয়েন থাকার বিষয়ে 'সম্পূর্ণ নিশ্চিত'। ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের পদার্থবিদ্যা ও জ্যোতির্বিদ্যা বিভাগের ডেম ম্যাগি অ্যাডেরিন-পোকক জানান, তিনি আশা করছেন ২০৭৫ সালের মধ্যে অন্য কোনো গ্রহে জীবনের 'ইতিবাচক সন্ধান' পাওয়া যাবে। সূত্র: ডেইলি মেইল।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









