মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার (রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র) ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় সরকার দুঃখিত ও বিব্রত বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। তদন্তে এসব ঘটনায় কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁদেরকে আইনের আওতায় আনা হবেও বলে জানান তিনি। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের সাম্প্রতিক কার্যক্রমের তথ্য জানাতে সংবাদ সম্মেলন করেন তথ্য উপদেষ্টা। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই বিএনপির সঙ্গে চাঁদাবাজির ‘বয়ান‘ তৈরির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, ‘বিএনপির সঙ্গে চাঁদাবাজির এক ধরনের ট্যাগিংয়ের চেষ্টা তো আসলে আছে। এটা রাজনীতি।’
একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির নাম এসেছে। এতে দলটির দুর্নাম-বদনাম হয়েছে, এ নিয়ে সরকার বিব্রত কি না। একই সঙ্গে গ্রেফতার ব্যক্তিদের ভাড়াটে হিসেবে পাঠানো হয়েছিল এবং তাঁদের পাঠানোর সঙ্গে বিএনপির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগসূত্র থাকার অভিযোগ উঠেছে— এ বিষয়ে প্রকৃত তদন্ত হবে কি না, জানতে চান তিনি।
জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে কোনো চাঁদাবাজির ঘটনা না ঘটলেও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সময় পুলিশের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, রাড্ডার ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং যদি সিসিটিভি ফুটেজে কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে, এ বিষয়ে সরকার আইনি পদক্ষেপ নেবে। অপরাধের নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে জড়িত প্রত্যেক অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়াই সরকারের কাজ।
তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের কোনো নাগরিকের অধিকার ক্ষুণ্ণ হলে, তাঁর স্থাপনা ভাঙা হলে বা তিনি হামলার শিকার হলে সরকার প্রতিটি ঘটনায় দুঃখিত এবং অবশ্যই বিব্রত। এমনকি কেউ অপরাধী হলেও তাঁর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য, যদি তাঁর ওপর এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে। কারণ, এই নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্ব সরকারের ছিল, বিব্রত এই অর্থে। তদন্তে কারও নাম এ ঘটনায় যুক্ত থাকার মতো করে এলে তাঁদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
তাঁর ভাষ্য, ‘মানুষের মধ্যে এসব ঘটনার প্রভাব খুবই ভয়ংকর। রাষ্ট্র ও সরকারের কাজ অপরাধ ঠেকানোর চেষ্টা করা। কিন্তু কোনো অপরাধ ঘটে গেলে তার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের অপরাধ না ঘটে, সে ব্যবস্থা নেওয়াও সরকারের দায়িত্ব। তিনি বলেন, ‘সুতরাং এটা এ জায়গায় থেমে থাকবে না, তদন্ত হবে। তদন্ত হতে হতে এর সঙ্গে যদি আরও কেউ যদি জড়িত থাকেন, তাহলে অবশ্যই তাঁকেও আইনের আওতায় আনা হবে।’
এনসিপির চাঁদাবাজবিরোধী কর্মসূচি প্রসঙ্গে জাহেদ বলেন, ‘এনসিপির কর্মসূচিকে আমার কাছে স্যাটায়ার বলে মনে হয়েছে, তারা করতেই পারেন। যেকোনো ভায়োলেন্ট কিছুর বদলে এ ধরনের যেসব কর্মসূচি তারা করছেন, সেটাকে আমরা ওয়েলকাম করি। তারা যদি মনে করেন, এর মাধ্যমে জনগণের সঙ্গে কানেক্ট করতে পারবেন, তারা তা চেষ্টা করুন, তাদের জায়গা থেকে তারা করবেন।’
গত শনিবার রাতে ঢাকার ইসিবি চত্বর এলাকায় নিজের স্টুডিও হামলাকারীদের লক্ষ্যবস্তু হওয়ার পর সালমান মুক্তাদির ঘটনার জন্য ‘বিএনপির চাঁদাবাজদের’ দায়ী করেন। তবে পরে তিনি এ বক্তব্য প্রত্যাহার করেন। এ প্রসঙ্গে সাইবার সুরক্ষা আইনের বিষয়টি টেনে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, ‘এ বিষয়ে কাজ চলছে। জনগণকে সচেতন করার পাশাপাশি অপতথ্য মোকাবিলায় বিষয়গুলোকে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সাইবার সুরক্ষা আইনে এ বিষয়ে কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।’
জামাতা গ্রেপ্তার ইস্যুতে জামায়াত এমপি
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ও নিউগিনি আবাসনে হামলা মামলায় গ্রেফতার মিজানুর রহমান কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল গফুরের জামাতা। এ ঘটনায় ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে দাবি করে ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন এমপি আব্দুল গফুর। তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি ঢাকার মাটিকাটা এলাকা থেকে মিজানুর রহমানের গ্রেফতার এবং তাকে ঘিরে কয়েকটি দৈনিক পত্রিকা ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নাম জড়িয়ে এবং আমাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সম্পৃক্ত করে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার যে অপচেষ্টা চালানো হয়েছে, আমি তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
মিজানুর রহমানকে তার বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, প্রকাশিত সংবাদে দাবি করা হয়েছে, মিজানুর রহমানকে আমার নিজস্ব বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই তথ্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক। প্রকৃত সত্য হলো, ঢাকায় মাটিকাটায় আমার নিজস্ব কোনো ব্যক্তিগত বাসা নেই। আমি সরকারিভাবে বরাদ্দকৃত ‘ন্যাম ভবন’-এ অবস্থান করি। অথচ প্রকৃত তথ্য যাচাই না করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে আমাকে বিতর্কিত ও রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে।’
জামায়াতের এই এমপি বলেন, ‘আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, মিজানুর রহমানের সঙ্গে সংঘটিত বিষয়টি তার সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক বিষয়। এ ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো ব্যক্তিগত বা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই। একইভাবে, মিজানুর রহমানের এই ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক বিরোধের সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কোনো সম্পর্ক নেই। প্রকৃত ঘটনা সম্পূর্ণরূপে একটি ব্যবসায়িক লেনদেনকে কেন্দ্র করে। মিজানুর রহমানের সঙ্গে ‘নিউগিনি প্রোপার্টিজ’-এর দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল। ওই প্রতিষ্ঠানের কাছে মিজানুর রহমানের পাওনা টাকা দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া ছিল এবং তিনি আইনানুগভাবে তা পরিশোধের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানের মালিক সাইফুল ইসলাম পাওনা টাকা পরিশোধ না করার জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করেন। একপর্যায়ে পাওনা টাকা আদায়ের জন্য মিজানুর রহমান আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে থানায় মামলা দায়ের করেন।’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









