ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ মঙ্গলবার স্বীকার করেছেন, দেশটির ‘বিদ্বেষবিরোধী আইন’ অপব্যবহার করা হয়েছে। সরকারবিরোধী সমালোচকদের গ্রেপ্তারের পক্ষে যুক্তি দেখাতে দীর্ঘদিন ধরে এই আইন ব্যবহার করা হয়েছে।
গত এক দশকে দেশটির বহু রাজনৈতিক নেতা, অধিকারকর্মী, সাংবাদিক, বিক্ষোভকারী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই আইনে ‘বিদ্বেষ উসকে দেওয়ার’ অভিযোগ আনা হয়েছে। আইনটিতে এ অপরাধের জন্য ১০ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে দেশটির শাসনভার সামলাচ্ছেন রদ্রিগেজ। ওয়াশিংটনের চাপের মুখে তিনি একটি সাধারণ ক্ষমা কার্যক্রমের উদ্যোগ নেন। এর আওতায় শত শত রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। তাদের অনেকেই এই আইনের আওতায় দণ্ডিত হয়েছিলেন। তবে বেসরকারি সংস্থা ফোরো পেনাল জানিয়েছে, এখনো ৩২৪ জন রাজনৈতিক বন্দি কারাগারে রয়েছেন।
২০১৭ সালে রদ্রিগেজ নিজেই তখনকার গণপরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এই আইন পাসের তদারকি করেছিলেন। তবে মঙ্গলবার তিনি স্বীকার করেন, আইনটি যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হয়নি।
দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় পর্তুগেসা রাজ্যে কফি উৎপাদনকারীদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি বলেন, ‘আইনটি যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হয়নি। এই আইনের অপব্যবহার হয়েছে।’
তবে তিনি বলেন, তিনি এখনো এই আইনের মূলনীতিতে বিশ্বাস করেন— যার মধ্যে রয়েছে সহনশীলতা, ভালোবাসা এবং পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যাতে বিদ্বেষ প্রাধান্য না পায় এবং মানুষ সহাবস্থান করতে পারে।
এর আগে রদ্রিগেজ জাতীয় পরিষদকে আইনটি সংস্কারের আহ্বান জানান। সরকার ও বিরোধী আইনপ্রণেতাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে শুরু হওয়া রাজনৈতিক সংলাপের পরিপ্রেক্ষিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
প্রেসিডেন্ট জাতীয় পরিষদে পাঠানো এক চিঠিতে বলেন, সংস্কারের লক্ষ্য হলো এই আইনের আওতাভুক্ত আচরণকে ‘অপরাধ হিসেবে গণ্য না করার দিকে এগিয়ে যাওয়া’।
জাতীয় পরিষদের প্রধান রদ্রিগেজের ভাই হোর্হে রদ্রিগেজ।
আইনটি ঘোষণার পর বিরোধী দলের প্রতিনিধিদল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে অভিযোগ করে, ‘বিদ্বেষবিরোধী আইনটি ভিন্নমত দমন ও রাজনৈতিক নিপীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।’
বিবৃতিতে তারা আরও বলে, আইনটির প্রয়োগে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তাদের পরিবারের প্রতি তারা সংহতি প্রকাশ করছে।
সংস্কারের বিষয়ে কাজ করতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পার্লামেন্ট একটি কমিশন গঠন করেছে। তবে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা শুধু সংস্কার নয়, আইনটি সম্পূর্ণ বাতিলের দাবি জানিয়েছে।
প্রায় ২০ বছর পর প্রথমবার ভেনেজুয়েলা সফর করা মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচও এই আইনসহ আরও কয়েকটি আইন বাতিলের সুপারিশ করেছে।
সূত্র: এএফপি


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









