বাংলাদেশ ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠক হবে—এটি ‘১২০ শতাংশ নিশ্চিত’ বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের দিনক্ষণ এখনো নির্ধারণ হয়নি বলে জানান তিনি।
দিল্লি ও ঢাকার সম্পর্কে নানান ‘সমস্যা’ ও ‘চ্যালেঞ্জ’ থাকলেও দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী একসঙ্গে বসলে সব সমস্যারই সমাধান সম্ভব বলে মনে করেন ভারতের হাইকমিশনার। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে ‘তাড়াহুড়োর কোনো কারণ দেখছেন না’ জানিয়ে তিনি বলেছেন, এর জন্য প্রয়োজনীয় সময় দিতে হবে।
গতকাল বুধবার সকালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমদ আজম খানের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, সফরের মাস বা তারিখ নিয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। তবে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হবে, এ বিষয়ে তিনি নিশ্চিত। তিনি বলেন, সফর নিয়ে তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন নেই। যথাযথ প্রস্তুতি নিশ্চিত করেই বৈঠক আয়োজন করা উচিত। একই সঙ্গে ভারত চায়, সুবিধাজনক সময়ে দ্রুত দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ হোক।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের সম্পর্কে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর সফরের মাধ্যমে এসবের অনেক বিষয় সমাধানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। পানি, ক্রিকেট, ফুটবল, বাণিজ্য, কবিতা, থিয়েটার, চলচ্চিত্র ও সংগীতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মানুষের যোগাযোগের কথা উল্লেখ করে তিনি পারস্পরিক নির্ভরশীলতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
এর আগের দিন মঙ্গলবার তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে তাড়াহুড়ো না করার বার্তা দেন ভারতীয় হাইকমিশনার। সেদিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেন ত্রিবেদী। পরে এক সাংবাদিক জানতে চান, নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের সম্ভাব্য তারিখ ঠিক হয়েছে কি না। জবাবে ভারতের হাইকমিশনার বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর ভিজিট নিয়ে বেশি কিছু আলোচনা…আগে যা হয়েছিল, আবার আমি বলি—আমাদের ইনভাইটেশন ইজ ওপেন। এটা নিয়ে আমার মনে হচ্ছে না এবারে কোনো তাড়াহুড়ার দরকার আছে। যখন সময় হবে নিশ্চয় হবে। তাঁর ভাষায়, ‘এভরিথিং ইজ ভেরি পজিটিভ। বাট উই মাস্ট গিভ ডিউ টাইম। একটা সময়ের মধ্যে সবকিছু পজিটিভ হবে। দেওয়ার ইজ নো কোয়েশ্চেন অ্যাবাউট এনিথিং নেগেটিভ।’
গতকালও একইরকম বার্তা দিয়ে ত্রিবেদী বলেন, ‘কিন্তু আগ্রহের যে জিনিসটা, দুই দেশের মানুষের যে আগ্রহটা, তা হচ্ছে নেতাদের দেখা করতে দিন। জনগণের সাথে জনগণের যোগাযোগ ও খেলাধুলা চলতে দিন।’
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করার সময় ‘সাধারণ মানুষের’ বিশেষ আগ্রহ থাকে মন্তব্য করে হাইকমিশনার বলেন, ‘আমি তো বলব যে আমি ভারতে যখন থাকি, এটা খুবই কৌতূহল জাগায়। এবং আমি দেখেছি যে প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে তারা খুবই সতর্ক ও বিশেষ গুরুত্ব দেয়। সত্যিই অনেক কৌতূহলী। আর আমি একটা কথা বলব যে, দুই দেশেরই একটা আগ্রহ আছে। আগ্রহ কী আছে? যখনই একটু কথা হয় যে সম্মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আসছেন, সবাই দারুণ উৎসাহিত হয়। দুই দেশেই। তার মানে? তার মানেই পরস্পরের ওপর নির্ভরশীলতা। এটা সাধারণ মানুষ চায়, দুই দেশের সাধারণ মানুষ। রাজনৈতিক মানুষের কথা বলছি না, সরকারের কথা না, সাধারণ মানুষে এটা চায়।’ ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের ঢাকা সফর নিয়ে প্রশ্ন করলে বিষয়টি এড়িয়ে যান ত্রিবেদী। তিনি বলেন, ‘এটাতো মাথার ওপর দিয়ে গেল।’
এসময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, ‘এটি হাই কমিশনারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর কিংবা কোনো রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়নি।’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









