অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব ছেড়ে আট মাসের বেশি সময় ধরে রাষ্ট্রক্ষমতার বাইরে রয়েছেন নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সরাসরি দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ারও কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। তার পরও আওয়ামী লীগের কেন্দ্র থেকে তৃণমূল- দলটির নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ক্ষোভের কেন্দ্রে তিনি। যার প্রমাণ গত ১২ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) বিমানবন্দরে তাঁকে ঘিরে হেনস্তার ঘটনা এবং এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতির একটি মন্তব্য যেন আগুনে নতুন ঘি ঢেলেছে। এমন অবস্থায় নতুন করে একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে যে, ক্ষমতায় না থেকেও ড. ইউনূস একাই কেন আওয়ামী লীগের শত্রু?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ড. ইউনূসকে ঘিরে আওয়ামী লীগের ক্ষোভকে কেবল ব্যক্তিগত বিরোধ হিসেবে দেখার সুযোগ সীমিত। কারণ এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ২০২৪ সালের ক্ষমতার পালাবদল, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে প্রাণহানি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিচারিক পদক্ষেপ, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত এবং দলটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা। সব মিলিয়ে ড. ইউনূস আওয়ামী লীগের কাছে এমন এক সময়ের প্রতীকে পরিণত হয়েছেন, যখন দলটি রাষ্ট্রক্ষমতা হারানোর পাশাপাশি সাংগঠনিক ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়েছে।
জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার দৈনিক এদিনকে বলেন, সামগ্রিকভাবে ড. ইউনূসকে ঘিরে আওয়ামী লীগের ক্ষোভের পেছনে কয়েকটি কারণ একসঙ্গে কাজ করছে। প্রথমত, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পালাবদলে ক্ষমতা হারানো। দ্বিতীয়ত, জুলাই-আগস্টের ঘটনাবলি নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার-বিষয়ক দপ্তরের প্রতিবেদন এবং এর ফলে তৈরি হওয়া আন্তর্জাতিক জবাবদিহির চাপ। তৃতীয়ত, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত ও নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ। চতুর্থত, শেখ হাসিনার বিচারিক প্রক্রিয়া এবং দলটির রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের অনিশ্চয়তা। এর সঙ্গে গ্রামীণ ব্যাংক ও আইনি বিষয় ঘিরে ড. ইউনূসের সঙ্গে শেখ হাসিনার পুরনো বিরোধও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের অংশ।
বদিউল আলম বলেন, ক্ষমতাচ্যুতির পর আওয়ামী লীগের সামনে এখন শুধু নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নয়, দলটির সাংগঠনিক অবস্থান, জনসমর্থন এবং রাজনৈতিক বৈধতার প্রশ্নও রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ড. ইউনূসকে দলটির ক্ষোভের কেন্দ্রে দেখা যাওয়ার একটি ব্যাখ্যা হলো- তিনি এমন এক অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্ব দিয়েছেন, যার সময়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সংকটের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় সামনে এসেছে।
সূত্র জানায়, মূলত ক্ষমতার পালাবদল ও নতুন রাজনৈতিক সমীকরণেই আপাতত আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রধান টার্গেটে পরিণত হয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতন বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আনে। ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। রাষ্ট্র সংস্কার, নির্বাচন আয়োজন ও রাজনৈতিক উত্তরণের দায়িত্ব নিয়ে তাঁর সরকার এমন এক সময়ে কাজ শুরু করে, যখন দেশজুড়ে ছিল পরিবর্তনের প্রত্যাশা, সহিংসতার ক্ষত এবং জবাবদিহির দাবি।
দীর্ঘদিন রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের কাছে এই পালাবদল ছিল বড় রাজনৈতিক বিপর্যয়। দলটির নেতা-কর্মীদের একটি অংশ মনে করে, ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্ত তাদের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের পথ সংকুচিত করেছে। যদিও শেখ হাসিনার পতনের জন্য এককভাবে ড. ইউনূসকে দায়ী করার পক্ষে কোনো প্রতিষ্ঠিত প্রমাণ নেই। বিরোধী দলমতের ওপর বছরের পর বছর নির্যাতন, ছাত্র-জনতার আন্দোলন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অসন্তোষ, আন্দোলন দমনে প্রাণহানি এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ- বিভিন্ন কারণ মিলেই ওই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।
তবু ক্ষমতা হারানোর পর আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক বয়ানে ড. ইউনূস গুরুত্বপূর্ণ প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছেন। কারণ, তিনি শুধু অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ছিলেন না, তাঁর সরকারের সময় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো দলটির নেতৃত্ব, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ রাজনীতির ওপর প্রত্যক্ষ প্রভাব ফেলেছে। যার কারণে ক্ষমতা ছাড়ার পরও ক্ষমতা হারানো আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রধান শত্রু এখন ড. ইউনূস।
জানা গেছে, ড. ইউনূসকে ঘিরে আওয়ামী লীগের ক্ষোভের অন্যতম বড় কারণ হিসেবে একাধিক বিষয় সামনে এসেছে। এর মধ্যে ইউনূসের ওপর শেখ হাসিনা তথা আওয়ামী লীগ যে প্রচণ্ড ক্ষিপ্ত তার অন্যতম কারণ হচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) থেকে শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের পদত্যাগ বা সরে আসতে বাধ্য হওয়া। এজন্য আওয়ামী লীগের সবাই ড. ইউনূসের ভূমিকাকেই দায়ী করছেন। তারা মনে করছেন, ইউনূস সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগগুলো আমলে নিয়ে ডব্লিউএইচও সায়মাকে সরিয়ে দেয়। দ্বিতীয়ত শেখ রেহানার কন্যা ও ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এমপি টিউলিপ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির যেসব অভিযোগ বাংলাদেশ ও ব্রিটেনের বিভিন্ন গণমাধ্যমে যেভাবে প্রকাশ হয়েছে, ইউনূস সরকার সেগুলোতে সুচারুভাবে সঙ্গত দিয়ে গেছে।
এতে করে শেষ পর্যন্ত টিউলিপ সিদ্দিকী তার মন্ত্রীর পদ ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। তৃতীয়ত, সরকারে থাকা অবস্থায় শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, এমপি ও দলীয় নেতা-কর্মীরা যে হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছেন তার সংবাদও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পাঠাতে স্বোচ্চার ছিল ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তবর্তীকালীন সরকার। এতে দল হিসেবে আওয়ামী লীগের লুটপাট ও বিপুল অর্থ পাচারের ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্থান পায়। সর্বশেষ যে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে সামনে এসেছে তা হলো ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনাবলি নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার-বিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের প্রতিবেদন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে আন্দোলন দমনে তৎকালীন সরকারের ভূমিকা, নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকাণ্ড এবং ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ধরা হয়। তৎকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের দায় নিয়েও প্রতিবেদনে গুরুতর পর্যবেক্ষণ রয়েছে।
এই প্রতিবেদন বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও জবাবদিহির আলোচনায় নিয়ে যায়। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আন্তর্জাতিক পরিসরে আলোচিত হওয়ায় দলটির ভাবমূর্তি এবং রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। দলটির সমর্থকদের অভিযোগ, ড. ইউনূসের সরকার জাতিসংঘের তদন্তকে গুরুত্ব দিয়ে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে আন্তর্জাতিকভাবে আরো চাপে ফেলেছে।
তাদের যুক্তি, দেশের অভ্যন্তরীণ কোনো প্রতিষ্ঠানের তদন্ত হলে তার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ থাকত। জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনকে খণ্ডন করা তুলনামূলকভাবে কঠিন। তবে এই বক্তব্য আওয়ামী লীগ-সমর্থকদের রাজনৈতিক মূল্যায়ন, প্রতিবেদনটির প্রতিটি পর্যবেক্ষণ, অভিযোগ ও দায় নির্ধারণের বিষয়কে পৃথকভাবে বিচার করা জরুরি। কোনো প্রতিবেদনে গুরুতর অভিযোগ উঠে আসা এবং আদালতে কারও অপরাধ চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অবস্থানও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। গুরুতর অপরাধের অভিযোগের তদন্ত ও বিচারকে সমর্থন করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো মৃত্যুদণ্ড, বিচারপ্রক্রিয়ার ন্যায্যতা এবং অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগের প্রশ্নে উদ্বেগ জানিয়েছে। অর্থাৎ বিষয়টি শুধু আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সংকট নয়, এর সঙ্গে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের প্রশ্নও জড়িয়ে রয়েছে।
এদিকে আওয়ামী লীগের ক্ষোভের আরেকটি বড় কারণ ২০২৫ সালের মে মাসে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত। এর ফলে দলটির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। আওয়ামী লীগ পক্ষ এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক অধিকার সংকুচিত করার ঘটনা হিসেবে তুলে ধরেছে। অন্যদিকে সরকারের অবস্থান ছিল, জুলাই-আগস্টের ঘটনাবলিতে গুরুতর অপরাধের অভিযোগের বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। যদিও মানবাধিকার সংগঠনগুলো রাজনৈতিক সংগঠনের স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
তবে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরাট অংশ মনে করে, গ্রেপ্তার, সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা এবং শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিচারিক পদক্ষেপ- সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করা হয়েছে তার জন্য ইউনূসই দায়ী। এই পরিস্থিতিতে ড. ইউনূসের প্রতি ক্ষোভ আরো তীব্র হয়েছে। তাঁদের চোখে তিনি এমন এক প্রশাসনিক ব্যবস্থার নেতৃত্ব দিয়েছেন, যার সিদ্ধান্তে দলটির রাজনৈতিক সংকট গভীর হয়েছে।
যদিও ড. ইউনূস ও শেখ হাসিনার বিরোধের প্রেক্ষাপট ২০২৪ সালের আগেও বিস্তৃত ছিল বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। এর মধ্যে গ্রামীণ ব্যাংকের নেতৃত্ব ও ব্যবস্থাপনা, ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম এবং ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে নেওয়া বিভিন্ন আইনি পদক্ষেপ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে টানাপড়েন ছিল। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় তাঁর ছয় মাসের কারাদণ্ডের রায় হয়। ড. ইউনূস ওই মামলাকে হয়রানিমূলক বলে সমালোচনা করেছিলেন।
তাই পুরনো এই বিরোধ বর্তমান রাজনৈতিক সংঘাতের পটভূমি তৈরি করেছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, ক্ষমতার পালাবদল, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের বিচার, দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া এবং নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা- এসব কারণও সমানভাবে আলোচনায় আসছে। এই রাজনৈতিক উত্তেজনার সর্বশেষ প্রকাশ দেখা গেছে ১২ অক্টোবর নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে।
জানা গেছে, সেদিন হুইলচেয়ারে থাকা ড. ইউনূসকে ঘিরে কয়েকজন আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাঁকে উদ্দেশ করে ‘সন্ত্রাসী’ বলাসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলতে শোনা যায়। ঘটনাটিতে নিউইয়র্ক আওয়ামী লীগ ও যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগের কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগ সামনে এসেছে। এ নিয়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে নিন্দা ও সমালোচনা শুরু হয়। সরকারের পক্ষ থেকে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার কথা জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘এই ধরনের হেনস্তা গ্রহণযোগ্য নয়।’ তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার সঙ্গে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানও ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনিও শেখ হাসিনার সমর্থকদের বিদেশে তৎপরতা চালানোর অভিযোগ করেন। এ ছাড়া সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক উপদেষ্টা যৌথ বিবৃতিতে ড. ইউনূসকে ঘিরে হেনস্তা, অনলাইন অপপ্রচার ও ব্যক্তিগত আক্রমণের নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, রাজনৈতিক বিরোধের নামে এ ধরনের কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সংস্কারের উদ্যোগকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
এসব বাস্তবতায় রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকলেও তা যেন ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও মর্যাদার ওপর আঘাতে পরিণত না হয় সরকার ও বিরোধী দলের এসব প্রতিক্রিয়ায় সবার যে অভিন্ন অবস্থান স্পষ্ট তা প্রমাণিত। তাদের মতে, কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সমালোচনা করার অধিকার যেমন রয়েছে, তেমনি তাঁকে হেনস্তা করা বা ভয়ভীতি প্রদর্শনকে রাজনৈতিক প্রতিবাদের স্বাভাবিক পদ্ধতি হিসেবে গ্রহণ করার সুযোগ নেই।
অপরদিকে নিউইয়র্কের এ ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের বক্তব্য নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। নিউইয়র্কের টাইম টেলিভিশনের একটি টকশোতে ড. ইউনূসকে বিমানবন্দরে হেনস্তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা ঘটতেই থাকবে। আমার মনে হয়, এটা তো কেবল শুরু।’ তাঁর এই মন্তব্য রাজনৈতিক বিরোধের তীব্রতা যেমন প্রকাশ করেছে, তেমনি ব্যক্তিগত আক্রমণকে সমর্থনের ইঙ্গিত হিসেবেও সমালোচিত হচ্ছে।
সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও দলটির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ জমেছে। তাঁর অভিযোগ, দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা, নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার এবং শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিচারিক পদক্ষেপ এই ক্ষোভকে আরো বাড়িয়েছে। তাঁর বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, আওয়ামী লীগের একটি অংশ ড. ইউনূসকে সেই রাজনৈতিক সময়ের প্রতীক হিসেবে দেখছে, যখন দলটি ক্ষমতা হারিয়েছে এবং নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









