আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসবমুখর, নিরাপদ ও বিঘ্নহীন পরিবেশে উদযাপনের লক্ষ্যে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়ন (যশোর)-এর নির্দেশনায় কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী এলাকার পূজামণ্ডপগুলোতে ৮ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিজিবি সূত্র জানায়, যশোর রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ ছয়টি জেলার সীমান্তবর্তী এলাকাসহ খুলনা, যশোর, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা শহরের মোট ২২২টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বিজিবি সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ ১৬ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত টানা সাত দিন বিজিবির ইউনিটগুলো স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে যৌথ সমন্বয়ে দায়িত্ব পালন করবে। নিরাপত্তামূলক কার্যক্রম সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য পুরো রিজিয়নে ৫৮টি বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।
এর আওতায় কুষ্টিয়া সেক্টরের অধীনে থাকা চারটি জেলার ৬৬টি পূজামণ্ডপে প্রায় ৭০০ বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবেন। বিশেষ নিরাপত্তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) তাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে।
কুষ্টিয়া জেলা এবং মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার সীমান্তবর্তী মণ্ডপগুলোর সার্বিক সুরক্ষায় ৮ প্লাটুন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে সীমান্ত এলাকা থেকে ৮ কিলোমিটারের ভেতরে অবস্থিত পূজামণ্ডপগুলোর জন্য ৫ প্লাটুন এবং কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন সদরের ৩ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত মণ্ডপগুলোর জন্য ৩ প্লাটুন বিজিবি সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন।
ইতিমধ্যে গত ১০ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট পূজামণ্ডপগুলো একাধিকবার পরিদর্শন ও রেকি সম্পন্ন করেছে বিজিবি। পাশাপাশি মণ্ডপ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও আয়োজকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। নিরাপত্তা ঝুঁকি দ্রুত চিহ্নিতকরণ ও সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে নজরদারির জন্য প্রথমবারের মতো প্রযুক্তি নির্ভর ড্রোনের মাধ্যমে আকাশপথেও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি যেকোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন। কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত ৮১.৫ কিলোমিটার সীমান্ত পাহারা দেওয়ার পাশাপাশি পূজামণ্ডপগুলোতে সম্প্রীতি ও শান্তি বজায় রাখতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে বিজিবি।
কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক রাশেদ কামাল রনি ধর্মীয় সম্প্রীতির ঐতিহ্য বজায় রেখে এই উৎসব উদযাপনে সর্বস্তরের নাগরিক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি শান্তিপূর্ণ দুর্গাপূজা সম্পন্ন হবে বলে বিজিবি আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









