সৌদি আরবের রিয়াদ, দাম্মামসহ কয়েকটি বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুতি সশ্রস্ত গোষ্ঠীর হামলার পর ফ্লাইট ওঠানামা বন্ধ থাকায় ঢাকা থেকে ১০৩টি ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত হয়েছে। এতে চরম অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৫ হাজার ৭৭৯ জন যাত্রী। তবে, সরকারের নির্দেশনা অনুসারে এয়ারলাইন্সগুলো টিকেট থাকা সাপেক্ষে রিয়াদ ও দাম্মামের যাত্রীদের মদিনা ও জেদ্দায় নিয়ে যাচ্ছে।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুসারে, ঢাকা থেকে গত ছয়দিনে ৪২টি সরাসরি ফ্লাইট এবং ৬১টি বিরতিকারী ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। বাতিল বা স্থগিত সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের আটটি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের সাতটি ফ্লাইট রয়েছে।
এর মধ্যে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ২১ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদে তাদের ফ্লাইট বাতিল আর দাম্মাম ও রিয়াদ রুটে বিমান বাংলাদেশ বিমান ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত তাদের ফ্লাইট স্থগিত করেছে। অন্যদিকে ট্রানজিট ফ্লাইটগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের। ভারতীয় এই এয়ারলাইন্সের ২২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এছাড়া এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের আটটি, সালাম এয়ারের সাতটি, ফ্লাই দুবাইয়ের ছয়টি, এয়ার ইন্ডিয়ার তিনটি এবং ইজিপ্ট এয়ারের একটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
ঢাকা থেকে সৌদি আরবের চারটি গন্তব্যে সরাসরি ও বিরতিকারী ফ্লাইট চলাচল করে। এগুলো হচ্ছে রিয়াদ, দাম্মাম, মদীনা ও জেদ্দা। এর মধ্যে রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দর একেবারেই বন্ধ রয়েছে। দাম্মাম কিং ফাহাদ বিমানবন্দরেও ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হয়েছে, প্রচুর ফ্লাইট বাতিল ও স্থগিত হয়েছে। এই দুটি বিমানবন্দর ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। মদিনা থেকে ফ্লাইট চলাচল করছে ঠিকভাবেই। মদিনার প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ বিমানবন্দরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ বিমানবন্দরে সপ্তাহের শুরুতে ফ্লাইট চলাচল কিছুটা ব্যহত হলেও এখন সেখানে উড়োজাহাজের উড্ডয়ন ও অবতরণ চালু রয়েছে।
এয়ারলাইন্স সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টিকিট পরিবর্তনের পুরো বিষয়টিই ঘটছে আসন খালি থাকা সাপেক্ষে। কারণ, এসব রুটে আগে থেকেই বুকিং ছিল। বিমানের একজন কর্মকর্তা বলেন, ভিসার মেয়াদ যাদের শেষের দিকে, তেমন যাত্রীদের বিনামূল্যে টিকিট পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বিমানের কোনো ফ্লাইটে যেন আসন খালি না যায়, সেজন্য কখনো ওভারবুকিংও হয়ে যাচ্ছে। ইমিগ্রেশন ক্রস করার পরও কিছু যাত্রীকে ফেরত আনার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু পরের ফ্লাইটে আবার তারা চলে যাচ্ছেন।
গত শনিবার থেকে ইয়েমেনী হুতি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সৌদি আরবের রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে কয়েক দফা হামলা চালিয়েছে। সেদিন দুপুর সোয়া তিনটায় রিয়াদের বাদশা খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যে হামলা চালানো হয়, তা সৌদিতে নিকট অতীতে চালানো সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী হামলা। হামলায় এখন পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের ১৩ জন নিহত ও ৩০৮ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন এবং আহতদের মধ্যে ২৭ জন বাংলাদেশি রয়েছেন।
এদিকে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা বুধবার সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাগুলোতে ফের হামলা চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। সৌদি আরবের বৃহৎ তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সৌদি আরামকোর সদরদপ্তরে হুতিদের হামলার পরদিনই এই ঘোষণা এল। ওই হামলায় সদরদপ্তরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো খবর দিয়েছে। হুতিরা বলেছে, হুমকি দেওয়া জায়গাগুলো তাদের জন্য সঠিক লক্ষ্যবস্তু।
তারা জানায়, ইয়েমেনে সৌদি আরবের হামলার বদলা নিতেই তারা এই পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ফলে পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বিরোধে নতুন করে শুরু হওয়া যুদ্ধ আরও ভয়াবহ রূপ নেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে আরও বহু ফ্লাইট বাতিল হতে পারে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









