হিমালয়ের দ্বিতীয় উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার অপরূপ রূপ একনজর দেখতে পঞ্চগড়ে ভিড় জমিয়েছেন হাজারো প্রকৃতিপ্রেমী। পূজার ছুটিতে হিমালয়কন্যা পঞ্চগড়ের হোটেল, হোমস্টে থেকে শুরু করে তেঁতুলিয়ার ডাকবাংলো—সবখানেই পর্যটকদের সরব উপস্থিতি। গতকাল শুক্রবার ভোর থেকে উত্তর আকাশে চোখ রেখে কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন তারা। তবে মেঘ আর কুয়াশার আড়ালে ঢাকা থাকায় অনেকেরই অধরা থেকে গেছে সেই কাঙ্ক্ষিত দৃশ্য। যদিও হালকা শীতের আমেজ আর চা-বাগানসহ প্রকৃতির নানা সৌন্দর্য ঘুরে দেখেই ছুটির আনন্দ খুঁজছেন অনেকে।
আশা ছিলো ভোরের প্রথম আলোয় কাঞ্চনজঙ্ঘা রঙের খেলা উপভোগ করবার। কেউ জীবনসঙ্গী নিয়ে, কেউ বন্ধুদের নিয়ে আবার কেউ পরিবারের ছোট বড় সদস্যদের নিয়ে অপেক্ষার প্রহর গুণছেন। কিন্তু প্রকৃতি বড় বেরসিক। কুয়াশা আর খানিক মেঘ তাদের ও কাঞ্চনজঙ্ঘার মাঝে পর্দা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেলা বাড়ে, বাড়ে অপেক্ষা; তবুও যদি দেখা মেলে। এভাবেই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে এসে হতাশ হয়েছেন হাজারো পর্যটক।
অন্যদিকে নগরে যখন গরমে হাশফাস তখন হিমালয় কন্যায় চাদরে মোড়ানো হালকা শীত কিন্তু প্রকৃতিপ্রেমিদের বাড়তি পাওয়া যোগ করেছে। অনেকে জেলার সমতলের চা বাগান, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট, মহারাজার দিঘী, ভিতরগড় দুর্গনগরী, মির্জাপুর শাহী মসজিদ ও বোদেশ্বরী পীঠমন্দিরসহ সবুজ শ্যামল ও প্রকৃতির অপরূপ সুন্দর গ্রামবাংলা নদী পথ মাঠ ঘাট ঘুরে সময় কাটান।
দক্ষিণের আরেক প্রান্ত চট্টগ্রাম থেকে আসা রাইসুল ইসলাম বলেন, প্রথমবার এসেছে নিজ দেশের মাটি থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখবো বলে। কিন্তু ভাগ্য আমাদের সহায় নয়। বড়ই হতাশ হয়েছি। ঢাকা থেকে আসা শহিদুল ইসলাম শামু বলেন, ‘কাঞ্চনজঙ্ঘা প্রতিদিনই দেখা যাবে এমন না। আকাশ পরিষ্কার থাকলে হয়তো দেখা পেতাম। তবে আশা ছাড়িনি। তবুও পরিবার নিয়ে সময় কাটাতে বেশ ভালো লাগছে।’ ঢাকা থেকে আসা রুবাইয়া শায়েরা বলেন, ‘ভোর থেকে বসে আছি কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা পাইনি। তবে এখানে আগাম শীত বেশ উপভোগ করছি।’
স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল ইসলাম বলেন, তেঁতুলিয়ায় গত কয়েকদিনে হাজার হাজার পর্যটক এসেছে। এখানকার পর্যটন শিল্প বেশ জমে উঠেছে। পর্যটন এলাকা, হোটেল, হোম স্টে, খাবার হোটেল কোথাও ফাঁকা নেই। পর্যটকদের অনেক বেড়েছে। তবে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা গেছে এই সংখ্যা আরও বাড়তো। এছাড়া আমাদের এলাকার প্রকৃতিক সৌন্দর্য কিন্তু কম নয়।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জীতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, কয়েকদিনের মধ্যে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি হয়ে গেলেই কাঞ্চনজঙ্ঘা দৃশ্যমান হবে। অক্টোবরের শেষ ও নভেম্বরের শুরুতে কাঞ্চনজঙ্ঘা ভালোভাবে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মোসা. শুকরিয়া পারভীন বলেন, পঞ্চগড়ের পর্যটন শিল্পের অন্যতম সমস্যা আবাসন সংকট। আমরা সরকারি বেসরকারিভাবে এই আবাসন সংকট দূর করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। সেই সাথে পর্যটকদের নিরাপত্তা জোরদার করতে ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি আইনশৃঙঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









