বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার সাতলায় পূর্ববিরোধ ও তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক মর্মান্তিক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীদের ধাওয়ায় প্রাণ বাঁচাতে ঘরের ভেতর আশ্রয় নিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি কাওছার হাওলাদার (৩৮) নামে এক মোটরসাইকেল চালকের। সেখানে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাতলা-কান্দী সড়কের গোপালগঞ্জ-বরিশাল সীমান্ত এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে রাশেদ আমিন হাওলাদার নামে আরও এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে সাতলা একতা বাজারে তুচ্ছ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে মৃত সান্টু হাওলাদারের ছেলে আশিকুল হাওলাদার ও মৃত মোনাফছের হাওলাদারের ছেলে কাওছার হাওলাদারের সঙ্গে ফরিদ মোল্লার ছেলে নান্না মোল্লা, স্বজল মোল্লা, মেহেদী মোল্লা এবং তাদের চাচা কাঞ্চন মোল্লার তীব্র বিরোধের জেরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার প্রক্রিয়া চলছিল।
অভিযোগ উঠেছে, মীমাংসার আলোচনার মধ্যেই হামলার নীল নকশা সাজায় প্রতিপক্ষ। ঢাকা ও বরিশাল থেকে একটি মাইক্রোবাস এবং তিনটি মোটরসাইকেল যোগে একদল ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী এনে এলাকায় জড়ো করা হয়।
রাত সাড়ে ১০টার দিকে কাওছার হাওলাদার ও রাশেদ আমিন গোপালগঞ্জ-বরিশাল সীমান্ত এলাকায় পৌঁছালে হেলমেট ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত ওই সন্ত্রাসী দল তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। জীবন বাঁচাতে কাওছার ও রাশেদ পাশের বিলে ঝাঁপ দেন এবং সাঁতরে সড়কের পাশের একটি বসতবাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেন।
তবে হামলাকারীরা সেখানেই থেমে থাকেনি। ১৮ থেকে ২০ জনের অস্ত্রধারী দল ওই ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। কাওছারকে খুঁজে পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা। এ সময় দরজার আড়ালে লুকিয়ে অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যান আহত রাশেদ আমিন।
ঘটনার পর স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে প্রথমে "মায়ের দোয়া ক্লিনিকে'' নিয়ে যান। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাদের দ্রুত পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক কাওছার হাওলাদারকে মৃত ঘোষণা করেন।
মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনার পরপরই সাতলা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পরপরই ঘাতকচক্রের পলায়ন রুখতে সাঁড়াশি অভিযানে নামে পুলিশ। ঘটনার রাতেই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজা এলাকা থেকে ব্যবহৃত মাইক্রোবাসসহ মূল ঘটনায় জড়িত ৯ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এ বিষয়ে উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ রকিবুল ইসলাম জানান, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং অভিযানে নেমে পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজা থেকে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং জড়িত বাকিদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
অন্যদিকে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও বিচার দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত নান্না মোল্লা, স্বজল মোল্লা, মেহেদী মোল্লা ও কাঞ্চন মোল্লাসহ মূল পরিকল্পনাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









